শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল, ২০২১ ২০:১৮
আপডেট : ৩০ এপ্রিল, ২০২১ ২০:২৮
প্রিন্ট করুন printer

প্রশাসনের মনিটরিংয়ের দাবি

কুড়িগ্রামে এখনো কেজি দরে তরমুজ, ক্রেতা-বিক্রেতার বাগবিতণ্ডা

অনুমতি পেয়েছি কেজি দরে বিক্রি করার: বললেন ব্যবসায়ী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে এখনো কেজি দরে তরমুজ, ক্রেতা-বিক্রেতার বাগবিতণ্ডা
কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ

কুড়িগ্রামে এখনো কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক জেলায় কেজিতে বিক্রি করায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ব্যবসায়ীদের জরিমানা করলেও কুড়িগ্রামে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।  

ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো দাম হাঁকিয়ে তরমুজ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ  ক্রেতাদের। নিম্ন আয়ের মানুষেরা এ বছর তরমুজের স্বাদ নিতে খুবই হিমশিম খাচ্ছেন। 

রমজান মাস এলেই প্রত্যেক রোজাদারের পরিবারে ইফতারে থাকে তরমুজসহ হরেক রকমের ফল। কিন্তু সেই তরমুজের দাম এবার আকাশছোঁয়া। দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক রোজাদারসহ নিম্ন আয়ের মানুষ তরমুজ কিনতে পারছেন না। ফলে তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। 

গত বছর জেলা শহরে সর্বত্রই তরমুজের ছড়াছড়ি ছিল এবং দাম হাতের নাগালে ছিল। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। চলতি মৌসুমে বাজারে পর্যাপ্ত তরমুজ উঠলেও এ বছর তরমুজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি তরমুজের দাম হাঁকানো হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। 

জেলা শহরের পৌরবাজার, জিয়াবাজার, ত্রিমোহণী, ভকেশনাল মোড়সহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্রেতা বিক্রেতার সাথে দাম নিয়ে রীতিমতো বিবাদে জড়িয়ে পড়ছেন। আবার অনেক ক্রেতা যেহেতু কেজিতে বিক্রি হচ্ছে তাই বাগবিতণ্ডায় ১ কেজি তরমুজ চাচ্ছেন দোকানির কাছে। এ নিয়েও চলছে বাগবিতণ্ডা। 

তৌহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, এ লকডাউননে এখন আমাদের ইনকাম অনেক কমে গেছে। দিন শেষে যা আয় হচ্ছে কোনোরকমে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলতে হচ্ছে। এ বছর তরমুজ খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একেতো কেজিদরে, আবার দাম আকাশছোঁয়া। এরকম আরও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশ্ন, তরমুজ কেজিতে বিক্রি হওয়ার কারণ কী? 

পৌরবাজার এলাকার পিটিআই গেট সংলগ্ন ইসহাক পাইকারি দোকানদারের সিরাজুল ইসলাম জানান, আমরা বগুড়া ও খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বড়-ছোট মিলে তরমুজ পিস অনুযায়ী কিনে আনি। এখানে মণ কিংবা কেজিতে বিক্রি করি। তাছাড়া আমাদের কেরিং কস্টও অনেক পড়ে। 

জানতে চাইলে অপর এক ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা জমি থেকে কীভাবে তরমুজ কিনে আনি সেটা আপনি কী জানেন? অতএব প্রশাসন বুঝি না, আমরা পিস নয় কেজিতেই বিক্রি করব। 

জিয়া বাজারের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, বড় ব্যবসায়ীরা তরমুজ পাইকারি বাজার হতে প্রতিশত হিসেবে কিনে তা কেজিতে বিক্রি করছেন। আমরা পৌরবাজার থেকে মণ কিনে খুচরা কেজিতে বিক্রি করি। পৌরবাজারে আড়তদার ইসহাক ও মোস্তাফিজারের কাছ থেকে কিনি।তারা দূর থেকে পিস হিসেবে কিনে আনে। তারা পিস বিক্রি করতে পারেন। আমরা কেন পারব না। তাছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট তো এসে দেখে গেছেন। অনুমতি পেয়েছি, কেজি দরে বিক্রি করার। 

আলতাফ হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, প্রশাসনের বাজার মনিটরিং প্রয়োজন। ইফতারিতে তরমুজ পুষ্টিকর ও রসালো খাবার। অথচ এর উচ্চ দাম, সেইসঙ্গে কেজিদরে হওয়ায় তা অনেকের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

 


 
 


 
  

এই বিভাগের আরও খবর