শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ মে, ২০২১ ১৯:৫১
প্রিন্ট করুন printer

শিমুলিয়াঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল

লাবলু মোল্লা, মুন্সীগঞ্জ

শিমুলিয়াঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল
Google News

খুব ভোর থেকেই ঘরমুখো যাত্রীভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট। কিন্তু সামনে প্রমত্ত পদ্মাপাড়ির কোন ব্যবস্থা নেই, নাই কোন লঞ্চ, সিবোট বা ট্রলার কিংবা ফেরি। শিমুলিয়াঘাটের কোথাও তীলধারনের ঠাই নেই, শুধু যাত্রী আর যাত্রী। যাত্রীদের চাপ দেখলে বোঝার উপায় নাই যে তাদের মধ্যে কোন মহামারির শঙ্কা রয়েছে। 

নদীতীরে নেই কোন ফেরি, সব ফেরি মাঝপদ্মায় নোঙর করা। তবে ফেরি কুঞ্জলতা তীরে ভেড়ানো থাকায় যাত্রীরা স্লোগান দিয়ে উঠতে থাকে তাতে। এক পর্যায়ে ফেরিটি কানা কানায় পূর্ণ হলে যাত্রীদের মাঝে ফেরিতে উঠার প্রতিযোগিতা শুরু হয় ফেরির ছাদে, ডালায়। সর্বত্র যাত্রী আর যাত্রী। ফেরি কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের চাপের মুখে চরম দুর্ভোগ বিবেচনায় এনে মানবিক কারনে তা ছাড়তে বাধ্য হয়। 

শনিবার সকাল থেকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণার পরও এদিন ভোর থেকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে ভিড় করতে থাকে ঈদে ঘরমুখো হাজার হাজার  মানুষ। ফেরি কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই ফেরি না ছাড়লে এক পর্যায়ে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয় এবং পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে শিমুলিয়া ঘাটের প্রবেশমুখ থেকে তাদের ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।

এমন ফিরে যাওয়া যাত্রীরা জানান, মাঝরাতের এ ঘোষণা তাদের মধ্যে অনেকেই জানেন না। ঘাটে এসে দেখেন ফেরি বন্ধ আর পুলিশ তাদের ঘাট এলাকা থেকে বের করে দিয়েছেন। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক তাতক্ষনিকভাবে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে দিনের বেলা ফেরি চলাচল বন্ধ এবং শুধু মাত্র রাতের বেলা পণ্যবাহী যানবাহন পারাপারের জন্য ফেরি চলাচল খোলা রাখার ঘোষণা করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি)। 

এদিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, মাওয়া চৌরাস্তা এবং শিমুলিয়া ঘাটের প্রবেশমুখে পুলিশ চৌকি বসিয়ে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার ঈদে ঘরমুখো মানুষকে স্ব-স্ব স্থানে ফিরৎ পাঠানো হচ্ছে। শিমুলিয়া ফেরি ঘাটসহ মুন্সীগঞ্জ  ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বে থাকা এএসপি রায়হানুল হক বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে জানান, শিমুলিয়া ঘাট থেকে এক কিলোমিটার দূর থেকে যাত্রীদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। কোনো যাত্রীকে শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এতদিন লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ছিল এবং আজ থেকে দিনের বেলা ফেরি চলাচল বন্ধ- ফলে যাত্রীরা কোনভাবেই নদী পার হতে পারবে না। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে যাত্রীদের ঘাট এলাকায় ভিড় না করতে অনুরোধ করেন তিনি।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শাফায়াত আহমেদ জানান, শেষ রাত থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলেন তারা। তবে যাত্রীদের উপচে পড়া চাপ, মানবিক কারনে ও যাত্রী দুর্ভোগ বিবেচনায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে প্রায় ৪ হাজার যাত্রী নিয়ে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে পেরি কুঞ্জলতা, এরপর দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার যাত্রী নিয়ে ফেরি এনায়েতপূরী এবং সর্বশেষ বেলা ১২টা ৪৩ মিনিটে ৭টি এ্যাম্বুলেন্সসহ তিন হাজারের বেশী যাত্রী নিয়ে বাংলাবাজারের উদ্দেশ্যে শিমুলিয়া ঘাট থেকে এই তিনটি ফেরি ছেড়ে যায়। তিনি আরো জানান দিনের বেলা আর কোন ফেরি ছাড়া হবে না। তবে সন্ধ্যার পর পণ্যবাহী যান পারাপারের জন্য ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হবে।

ঐসব ফেরিতে কোন যাত্রী বহন করা হবে না তাই এই রুটে কোন যাত্রীকে না আসার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। এ দিকে ফেরি বা কোনভাবেই পদ্মাপার না হতে পারা না যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে পায়ে হেটে এবং বিভিন্ন যানে চড়ে ঢাকা মুখে ফিরতে শুরু করেন।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

এই বিভাগের আরও খবর