শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ মে, ২০২১ ১৭:০১
প্রিন্ট করুন printer

শিমুলিয়া ফেরিঘাটে আজও ঘরমুখী মানুষের ঢল

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

শিমুলিয়া ফেরিঘাটে আজও ঘরমুখী মানুষের ঢল
ফাইল ছবি
Google News

দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ রেখেও থামানো যাচ্ছে না বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল। মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাটে রবিবারের মতো সোমবারেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত। গত তিনদিনের ন্যায় আজও সকাল থেকে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি মাথায় নিয়ে শিমুলিয়া ফেরিঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়।

সোমবার ভোর থেকে ঘাটে পারপারের লক্ষ্যে মানুষের চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঘরমুখী মানুষের সেই চাপ ঢলে পরিণত হয়। ঘাট এলাকায় এ সময় যাত্রী ঢল ঠেকাতে হিমসিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ঘাট কর্তৃপক্ষকে। গেল শুক্রবার থেকে ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়ে এই ফেরিঘাটে। ফেরিঘাট এলাকায় মানুষের এমন ঢল নামার কারণে শনিবার বিকেলেই শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

বিজিবি সদস্যরা ফেরিঘাটের প্রায় এক কিলোমিটার দূরে টহল চৌকি বসিয়ে কোনো প্রকার যাত্রী বহন করা যানবাহন ঘাট এলাকায় প্রবেশ করতে না দিলেও মানুষ পায়ে হেঁটে এবং নানা পথ পাড়ি দিয়ে শিমুলিয়া ফেরিঘাটে ভিড় করছে। সরকারি বিধি-নিষেধ থাকলেও তা না মেনে বিজিবির টহলকে ছাপিয়ে ঘরমুখী মানুষ ছুটছে ঘাটমুখে। 

এদিকে, সরকারি নির্দেশনা মতে দিনের বেলা সকল প্রকার ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হলেও স্বল্প পরিসরে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি প্রয়োজনীয় কিছু যানবাহন পারাপারে জন্য ছোট তিনটি ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হয়। এসব অতি প্রয়োজনীয় যানবাহন পারাপারের সময় ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা হুড়মুড় খেয়ে ফেরিতে ঠাসাঠাসি করে ওঠে পড়ছে।

এমনভাবে সোমবার সকালেও একটি ফেরিতে কয়েক হাজার যাত্রী যানবাহনের সাথে ওঠ পড়ে। ফলে তারা পার হতে পারলেও অপেক্ষায় থাকায় যাত্রীরা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ট্রলারে চড়ে পার হওয়ার চেষ্টা কররে টহল পুলিশ তাদের আটকে দেয়। এ ধরনের মাছ ধরার ১৩টি ট্রলার সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জব্দ করে নৌপুলিশ এবং ১১ জন মাঝিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

শিমুলিয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিসি সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সফিকুল ইসলাম জানান, দিনের বেলায় ফেরি বন্ধ শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনীয় কিছু যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। সোমবার সকালে যমুনা নামের একটি ফেরি ছেড়ে  সেই ফেরিতেই লোকজন কোনো বাধা না মেনে জোর করে স্রোতের মতো উঠে গেছে। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যেও লোকজন গ্রামে ছুটছেন, কোনো বাধাই মানছেন না তারা। ঘাটে থাকা ১৬ ফেরির মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে ছোট ৩টি ফেরি ঘাটে রাখা আছে। নির্দেশনা এলে ফেরি চালু করা হবে।

এদিকে, রবিবার ঘাটে আটকা পড়া যাত্রীদের পারাপার শেষে সোমবার সকাল থেকে ফেরি বন্ধ থাকার কথা থাকলেও সাড়ে ৮ টার দিকে শিমুলিয়া ঘাট থেকে একটি ফেরি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। যাত্রী পারপারে লঞ্চ, স্পিডবোটের পাশাপাশি দিনের বেলা ফেরি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ঘরমুখী যাত্রীদের। ঘরমুখী মানুষের চাপে অনেক সময় বাধ্য হয়ে ছাড়তে হচ্ছে ফেরি। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের চাপ কম দেখা গেছে। কিন্তু কয়েক’শ পণ্যবাহী যানবাহন রয়েছে ঘাটে। এসব পরিবহন রাতে ফেরি ছাড়লে পার করা হবে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর