যমুনার পানি কমলেও ভাঙন কমছে না। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা আর নিঃস্ব হয়ে পড়ছে মানুষ। যমুনার করাল গ্রাসে ভিটেমাটি হারিয়ে বাঁধে ও খোলা আকাশে ঝুপড়ি তুলে মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। গাছপালা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার বিলীন হয়ে যাওয়ায় পরিবেশের ভারস্যাম হারিয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, যমুনা নদী সিরাজগঞ্জ অংশের পশ্চিম তীর ৮০ কিলোমিটার আর পূর্ব তীরে প্রায় ২০ কিলোমিটার জুড়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে পশ্চিম তীরে ৩৫ কিলোমিটার ও পূর্ব তীরে প্রায় ৬ কিলোমিটার রক্ষিত রয়েছে। বাকি অরক্ষিত স্থানগুলোর মধ্যে চৌহালী, শাহজাদপুর, এনায়েতপুর ও সিরাজগঞ্জ সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিবছর বন্যার শুরু থেকেই তীব্র ভাঙন দেখা দেয়।
প্রতি বছরের মতো এবারও পানি বাড়ার সাথে সাথে দুই তীরে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। পূর্ব তীরের চৌহালীর ৫ কিলোমিটার এলাকা বাঘুটিয়া ও খাসপুখুরিয়ায় ভাঙন রোধে গত বছর সাড়ে চার কোটি টাকার জিওব্যাগ ফেলানো হয়েছিল। কিন্তু তা কোনো কাজে আসেনি। এ বছর ভাঙনের শুরুতেই সেই জিওব্যাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন বিলীণ হচ্ছে বসতভিটা।
অন্যদিকে, পশ্চিম তীরের এনায়েতপুরের ৬ কিলোমিটার এলাকায় একদিকে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙনে জিওব্যাগসহ সব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে এনায়েতপুরের জালালপুর, আড়কান্দিসহ ৮টি গ্রাম এবং চৌহালীর বাঘুটিয়া ও খাসপুখুরিয়ার অন্তত ১৫টি গ্রামের অন্তত পাঁচ শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিতদের মাথা গোজার ঠাঁই না থাকায় ওয়াপদাবাদে আশ্রয় নিয়েছে। এক সময়ের জমিদার ভাঙনের কারণে মুহূর্তে ফকির হয়ে যাচ্ছে। বাঘুটিয়ার এলাকার ভাঙন কবলিতরা বলছেন, এবছর ভাঙনরোধে পাউবো অর্ধকোটি টাকার জিওব্যাগ ফেলানোর প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু নিম্নমানের কাজ হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা তা বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ সরকার ভাঙনরোধে অর্থ বরাদ্দ দিলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহার না হওয়ায় ভাঙনও কমছে না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, ভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় ঘরবাড়ী অন্যত্র সরিয়ে নিলেও জায়গা না থাকায় ঘরবাড়ীগুলো স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। ভাঙন কবলিতরা দুর্বিসহ অবস্থায় জীবনযাপন করছে। কিন্তু ভাঙনরোধে অস্থায়ী জিওব্যাগ ফেলে সরকারের কোটি কোটি টাকা জলে ফেলা হচ্ছে। কিন্তু তা কোন কাজেই আসছে না।
বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুস ছামাদ সিকদার, খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের আবু দাউদ সরকার জানান, যে হারে ভাঙছে, তাতে দ্রুত রোধ করা না হলে দুটি ইউনিয়ন মানচিত্রে ঠাই পাবে, বাস্তবে থাকবে না।
চৌহালী অংশের দায়িত্বে থাকা টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনার তীর সংরক্ষণ কাজে নিম্নমানের কোনো উপকরণ ব্যবহার করা যাবে না। জিওব্যাগ নিম্নমানের হওয়ায় কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। তবে গুণগত মানের ব্যাপারে করা নির্দেশনা দিয়ে উন্নতমানের জিও ব্যাগ ব্যাবহার করে রবিবার থেকে পুনরায় ডাম্পিং কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ভাঙনরোধে ৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, যমুনার পানি গত ২৪ ঘণ্টায় এক সে.মি. কমছে। পানির লেভেল ১২.৪০ সেমি রয়েছে। তবে পানি কমলেও ভাঙন কমছে না। অরক্ষিত স্থানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল