২৫ জুলাই, ২০২১ ২০:০৯

বগুড়ায় ছিন্নমূল ও ভিক্ষুকদের মাঝে খাবার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ায় ছিন্নমূল ও ভিক্ষুকদের মাঝে খাবার বিতরণ

ঘোষিত লকডাউনের পর বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার জংশন স্টেশনে বিপাকে পড়া ছিন্নমূল ও ভিক্ষুকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ী আজিজুল হক রাজা। এ সময় অসহায়, ছিন্নমুল অভুক্তদের মুখে খাবার তুলে দিয়ে নিজেকে তৃপ্ত করছেন রাজা। প্রতিদিন রেলওয়ে জংশন সান্তাহারে প্রায় অর্ধশত ছিন্নমুলদের তিনবেলা পেট পুড়ে খাওয়াচ্ছেন।
জানা যায়, বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনটি অনেক বড়।

এই স্টেশনে দুই শতাধিক ব্যক্তি প্রতিদিন ভিক্ষাবৃত্তি, কুলি শ্রমিক, দিনমজুর, বাদাম ভাজা, মুড়িভাজাসহ মুখরোচক বিভিন্ন কিছু করে সংসার পরিচালনা করে থাকে। স্টেশনে গড়ে এক ঘন্টা পরপর ট্রেন থামে। ঢাকাসহ উত্তরের প্রায় ১২টি জেলার ট্রেন চলাচল করে সার্বক্ষনিক। কিন্তু লকডাউন ঘোষণায় ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় এই দিনমজুর ও ছিন্নমুল এবং ভিক্ষুকদের পেটও বন্ধ রয়েছে। তাদের তিনবেলা খাবার সংগ্রহ হতো না। খবর পেয়ে নিজের চোখে দেখার পর মৎস্য ব্যবসায়ী আজিজুল হক রাজা তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন প্রথম ২০২০ সালের মার্চে। এরপর যখনই লকডাউন হয়েছে তখনই রাজা খাবার দিয়েছেন বিনামূল্যে। 

ছিন্নমূলদের খাবারদাতা আজিজুল হক রাজা জানান, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার গতবছর প্রথমবারের মতো লকডাউন ঘোষণা করলে সারা দেশের ন্যায় সান্তাহারেও বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন, বাসসহ অন্য গণপরিবহণগুলো। জনশূন্য হয়ে পড়ে স্টেশন এলাকা। যে কারণে ভিক্ষুক, ছিন্নমুল, অসহায় প্রায় অর্ধশতজন খাবারের অভাবে অভুক্ত হয়ে থাকে। বিষয়টি চোখে দেখার পর নিজে ভাত খেতে পারেননি। মানবিক দায়িত্ব থেকে নিজ উদ্যোগে গত বছরের ২৪ মার্চ রাত থেকে রান্না করে স্টেশন এলাকার ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ শুরু করেন। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত অর্ধশতাধিক এসব ছিন্নমূল মানুষের জন্য প্রতিদিন তাকে তিন বেলা খাবার ব্যবস্থা করতে হয়। করোনা মোকাবিলায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে ফের লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। সেবারও তিনি এসব ছিন্নমূল মানুষকে খাইয়েছেন। শুধু তাই নয় তৃতীয় দফার পর এবারও ২৩ জুলাই থেকে ১৪ দিনের লকডাউন শুরু হলেও বিপাকে পড়া এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। তবে এবার তাকে প্রতিদিন দু’বেলা খাবার দিতে হচ্ছে ১০-১৫ জনকে। যতো দিন যাচ্ছে ছিন্নমূলদের সংখ্যাও ততোই বাড়ছে। ছিন্নমুলদের বিনামূল্যে খাওয়ানো ও এমন ভালোবাসা দেখে মৎস্য ব্যবসায়ী রাজাকে এলাকাবাসি তাকে ‘গরিবের রাজা’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন। ক্রান্তিকালে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ট্রেন চলাচল শুরু হওয়া পর্যন্ত খাবার খাওয়ানো অব্যহত রাখবেন বলেও জানান তিনি। ট্রেন চললে মানুষের দয়ায় তাদের পেটও চলবে। 

বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার প্যানেল মেয়র জার্জিস আলম রতন বলেন, লকডাউনে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজা। তার এই উদ্যোগ আসলেই মহৎ। রাজার মতো বিপাকে পড়া এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তশালীদের আহবান জানান।

বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজার মতো সমাজের অন্যদেরও এভাবে আরো এগিয়ে আসতে হবে। স্টেশনের ছিন্নমুলদের পেট চলে ভিক্ষার টাকায় নয়তো দিনমুজরি কুলির কাজ করে। স্টেশন ফাঁকা বলে তাদের কোন কাজ ও খাবার কোনটায় জুটছিল না। রাজা তাদের খাবার বিতরণ করছে। বিষয়টি তিনি দেখেছেন বলেও জানান। 

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন

এই বিভাগের আরও খবর