২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৮:৩৩

ফসলি জমিতে বন্যহাতির তাণ্ডব, অসহায় সীমান্তবাসী

সাইদুর রহমান রাজু, হালুয়াঘাট

ফসলি জমিতে বন্যহাতির তাণ্ডব, অসহায় সীমান্তবাসী

উপজেলার ভুবনকুড়া ইউনিয়নের বানাই চিরিঙ্গাপাড়া এলাকার ফসলি জমিতে অবস্থান করছে একদল বন্য হাতি।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা সীমান্তে প্রতি রাতেই তাণ্ডব চালাচ্ছে বন্যহাতির দল। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় বন্য হাতির দল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বসতঘর গাছপালাসহ ফসলের ক্ষতি করে চলছে। প্রায় ৭ মাস ধরে হাতির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বানাই চিরিঙ্গাপাড়া, ধোপাঝুড়ি, কোচপাড়া, রঙ্গমপাড়া ও কড়ইতলী এলাকায় বসবাসরত সহস্রাধিক পরিবার।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিনের বেলায় হাতির পাল পাহাড়ের উঁচু টিলায় অবস্থান করলেও সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই দল বেধে প্রায় ৫০-৭০টি বন্যহাতির পাল খাবারের সন্ধানে চলে আসে লোকালয়ে। জানমাল রক্ষার জন্য টর্চলাইট, মশাল, পটকা ও বাঁশি নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিতে হয় গ্রামের মানুষকে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এসব হাতির দল ভারতীয় কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করে। রাতভর ফসলের ক্ষতি করে সকাল হতেই সীমানার নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করে এসব হাতি। খাবার না পেলে কৃষকের বসতবাড়িতেও হামলা চালায় কখনও বা ফসল খেয়ে ও পা দিয়ে পিষিয়ে নষ্ট করে। গত কয়েকদিনের তাণ্ডবে প্রায় ১শত একর ফসলি জমি নষ্ট করেছে। হাতির সঙ্গে সীমান্তের মানুষের এ লড়াই বন্ধে কার্যকর কোনো সমাধান আজ পর্যন্ত হয়নি।

সীমান্ত সংলগ্ন বানাই চিরিঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক ইমারসন তজু ও ইব্রাহীম মিয়া জানান, একদল হাতি গত কয়েক দিন ধরে ফসল নির্বিচারে বিনষ্ট করে চলেছে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকতে হয়। অনেক চেষ্টা করে হাতি তাড়াই। সীমান্তে হাতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকাটা একরকম রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমন মৌসুমে বীজতলা থেকে শুরু ফসলি জমি কিছুই রেহাই পাচ্ছে না এই বন্য হাতির তাণ্ডবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ধোপাঝুড়ি গ্রামের এনজিওকর্মী প্রজিনা রেমা বলেন, আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বন্যহাতির ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারি না। কখন যে ঘর-বাড়ি ভেঙে তছনছ করে দেয় সব সময় সে আতঙ্ক বিরাজ করে। বন্যহাতি এখন আর আগের মতো ডাক-চিৎকারে ভয় পায় না। একমাত্র আলো দেখলে ভয় পায়।

তিনি আরো বলেন, ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাতির গুড়িয়ে দেওয়া মাটি চাপায় প্রতিবেশী আল্পনা চিরান ও তার মেয়ের মৃত্যু হয়। লোকালয়ে হাতির আগমনে সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানে থাকা অনেক পরিবার নিজস্ব ভিটে ছেড়ে অন্যত্র বসতি স্থাপন করেছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম সুরুজ আলী বলেন, বর্তমানে এলাকাবাসীর মাধ্যমে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হাতি তাড়ানোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। পরিষদ তহবিল থেকে অতি শিগগিরই বর্ডার বেল্টে বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

ব্যবস্থা গ্রহণকল্পে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রেজাউল করিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, গেল কয়েক মাস ধরেই সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে হাতি তাণ্ডব চালাচ্ছে। এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে। ফসলসহ জানমাল রক্ষায় স্থানীয়ভাবে হাতি তাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বন বিভাগকে অবহিত করা হচ্ছে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

সর্বশেষ খবর