৫ অক্টোবর, ২০২১ ১২:২৬

পাবনার সেই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেল তদন্ত কমিটি

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার সেই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেল তদন্ত কমিটি

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম

পাবনার সুজানগর উপজেলার দুলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাহজাহানের বিরুদ্ধে করোনাকালীন মানবিক সহায়তার উপকারভোগীদের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি জেলা প্রশাসনে প্রতিবেদনও দাখিল করেছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

ভুক্তভোগীরা জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের জন্য জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুলাই ইউনিয়নে ১৫০ দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তি এ বরাদ্দ পায়। চেয়ারম্যান শাহজাহান ওই বরাদ্দ থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা কেটে রেখে সুবিধাভোগীদের ৪৫০ টাকা করে দেন। পাশাপাশি ভিজিএফ কার্ডধারী বেশ কিছু দুঃস্থ ও অসহায়ের জন্য বরাদ্দ করা জনপ্রতি ৪৫০ টাকা না দিয়ে, নিজস্ব লোক দিয়ে ভুয়া স্বাক্ষর ও টিপসই দিয়ে মাস্টাররোল পূরণ করেছেন। এ বিষয়ে গত ২২ জুন ‘দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুঃস্থদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাফিউল ইসলামকে আহ্বায়ক, উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার মনোয়ার হোসেন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদাকে সদস্য করে কমিটি করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৯ জুন সরেজমিনে ঘটনা তদন্ত করে দুলাই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানবিক সহায়তার অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

সম্প্রতি, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমা দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন এর হাতে এসেছে। উপকারভোগী হুমায়ুন আহমেদ, বাসেদ আলী, রেজাউল ইসলাম, বাদশা শেখ, মোস্তফা প্রামাণিকসহ অন্তত ১৫ জন উপকারভোগী ঈদ উপহারের অর্থ কম দেয়ার প্রমাণ দিয়েছেন। জনপ্রতি ৫০০ টাকার স্থলে তাদের ৪০০ টাকা ও ৪৫০ টাকা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমিরন খাতুন, ময়নুল ইসলাম, নুর ইসলাম নামের উপকার ভোগীরা তালিকায় নাম থাকলেও কোনো টাকা পাননি। অথচ তাদের নামে টাকা উত্তোলনের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রাফিউল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্য শুনেছি। চেয়ারম্যান ইউপি সচিবের সহায়তায় ভাতা-ভোগীদের ৫০০ টাকার স্থলে ৪৫০ টাকা করে বিতরণ করেছেন সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্যাগ অফিসার ও উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। অপর ট্যাগ অফিসার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামও একই ধরণের বক্তব্য দিয়েছেন।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাজাহান অভিযোগ অস্বীকার করলেও তার বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেন নি। কাজেই তার বিরুদ্ধে মানবিক সহায়তার অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন আলী বলেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করেছি। যাচাই-বাছাই করে জেলা প্রশাসক পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

পাবনা জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন বলেন, দুলাই ইউপি চেয়ারম্যানের অর্থ আত্মসাতের তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর