১৪ অক্টোবর, ২০২১ ১৮:৫৮

আমদানি বন্ধ, আবারও কুষ্টিয়ার বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

আমদানি বন্ধ, আবারও কুষ্টিয়ার বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি

কুষ্টিয়ার বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি।

কেজিতে দুই-এক টাকা চালের দাম কমার পর গত কয়েক দিন ধরে আবারও কুষ্টিয়ার বাজারে সব ধরনের চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পূজার কারণে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ থাকায় চালের বাজার বেড়ে গেছে। দফায় দফায় লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বৃদ্ধির পর প্রায় দুই সপ্তাহ কুষ্টিয়ার বাজারে চালের দাম ছিল কমতির দিকে।

ভারত থেকে চাল আমদানির ফলে গত মাসের (সেপ্টেম্বর) শেষ সপ্তাহ থেকে কুষ্টিয়ার খুচরা এবং পাইকারি বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি এক থেকে দুই টাকা কমে যায়। বেশ কয়েক মাস ধরে অব্যাহতভাবে চালের দাম বৃদ্ধির পর সামান্য দুই-এক টাকা দাম কমায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেখা দিয়েছিল।

বিক্রেতারা বলছিলেন, বিগত ৬ মাসের মধ্যে কুষ্টিয়ার বাজারে চালের দাম কমার এটিই ছিল প্রথম ঘটনা। এদিকে পূজার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ থাকায় কুষ্টিয়ার বাজারে চালের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিন কুষ্টিয়া শহরের পৌর বাজার এবং বড় বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সব ধরনের চাল কেজি প্রতি দুই টাকা বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে যে মিনিকেট চাল ৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে দুই টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও কাজললতা ৫০ টাকার পরিবর্তে ৫২ টাকা কেজি, বাসমতি চাল ৬৬ টাকা কেজির পরিবর্তে ৬৮ টাকা কেজি দরে এবং মোটা চাল ৪০ টাকার পরিবর্তে ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) সব ধরনের চালের দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে চালের দামের পাশাপাশি বাজারে ধানের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে কুষ্টিয়ার বাজারে মিনিকেট (সরু ধান) ছিল ১৩০০ টাকা মণ। এখন সেখানে বিক্রি হচ্ছে ১৩৪০ টাকা মণ।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, পূজার কারণে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাজারে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। যে কারণে কুষ্টিয়াসহ সারা দেশের বাজারের প্রভাব পড়েছে। আমদানির ফলে চালের দাম দুই-এক টাকা কমে গিয়েছিল। কিন্তু আমদানি বন্ধ থাকায় বর্তমানে চালের দাম আবারও কেজি প্রতি দুই টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রান্তিক কৃষকদের হাতে কোনো ধান নেই। ধান চলে গেছে ফরিয়া এবং বড় বড় ব্যবসায়ীদের হাতে। তারা সিন্ডিকেট করে ধানের বাজার ধরে রেখেছে। যে কারণে বাজারে ধানের দাম কমছে না।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর