২৪ অক্টোবর, ২০২১ ১২:৪২

‘সার্প শান্তি নিবাসে’ বয়স্ক ও এতিমরা পাবেন ‘শান্তির ঠিকানা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

‘সার্প শান্তি নিবাসে’ বয়স্ক ও এতিমরা পাবেন ‘শান্তির ঠিকানা’

সার্প শান্তি নিবাস।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের সমজাতাইড় গ্রামে বয়স্ক ও এতিমদের স্বস্তি ও শান্তি দিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘সার্প শান্তি নিবাস’ নামে নিরাপদ আবাস ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। গত ৯ অক্টোবর সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান পুনর্বাসন কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন।

সার্প ফাউন্ডেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত সার্প শান্তি নিবাসের মূল জমিদাতা সমজাতাইড় গ্রামের মো. আনোয়ারুল ইসলাম মণ্ডল। তিনি ২০১৪ সালে অসহায় বয়স্ক ব্যক্তি ও এতিমদের সুন্দরভাবে বসবাসের জন্য পৈতৃক সম্পত্তি সার্প শান্তি নিবাসের নামে দান করেন।

টিনের তৈরি সকল সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ ওই নিরাপদ আবাসে ১৫টি কক্ষ রয়েছে। আবাসন কক্ষ ৮টি, স্বাস্থ্যসেবা কক্ষ, প্রসাধন কক্ষ, রান্নাঘর, ডাইনিং স্পেস, বিনোদন কক্ষ, পাঠদান কক্ষ, প্রশাসনিক কক্ষ, অজু ও গোসল খানা। প্রতিটি কক্ষে বিছানা, টেবিল, চেয়ারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়া রয়েছে। পুনর্বাসন কেন্দ্রটিতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিদিন সকালের নাস্তার জন্য খাবার দেওয়া হয় পাউরুটি ২ পিস। সাথে রয়েছে বাটার/জেলি। কলা ১টি, সিদ্ধ ডিম ১টি।

আবার সকাল ১১টায় বিস্কুট ১ প্যাকেট, মুড়ি ১ বাটি। দুপুরের খাবার সাদা ভাত, সবজি, ডাল ও ছোট মাছ। বিকালের নাস্তা কমলা ১টি, দুধ ১ গ্লাস। রাতের খাবার সাদা ভাত, সবজি, ভর্তা ও পেঁপের ডাল। তবে শান্তি নিবাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায়শই এ মেন্যু পরিবর্তন হয়ে থাকে। বসবাসকারীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে চিকিৎসা সুবিধা, বিনোদনের জন্য রয়েছে টেলিভিশনের ব্যবস্থা।

সার্প শান্তি নিবাসের অন্যতম উদ্যোক্তা মো. মাহামুদ আখতার শাহীম ও প্রভাষক মাহমুদুল হাসান রতন জানিয়েছেন, ২ জন দরিদ্র বৃদ্ধ ও এতিমের আশ্রয় গ্রহণের মধ্য দিয়ে আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আপাতত ২০ জনকে সেবা দেওয়ার মতো ক্যাপাসিটি রয়েছে আমাদের। ভবিষ্যতে এ পরিসর আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে শান্তি নিবাসের নামে ইতিমধ্যে ৫ বিঘা জমি কেনা হয়েছে। সেখানে গড়ে তোলা হবে আধুনিক সার্প পুনর্বাসন কেন্দ্র।

সার্প শান্তি নিবাসের অবৈতনিক সিইও অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ নাজিম উদ দৌলাহ জানান, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের আর্থিক সহায়তায় আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে দাঁড় করিয়েছি। অসহায় মানুষের সেবায় প্রতিষ্ঠানটি সবসময় তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আশা করি, একদিন এখানে আমরা শত শত অসহায় বয়স্ক ও এতিমদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে সক্ষম হবো।

উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন জানান, সোনাতলার একটি নিভৃত পল্লীতে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ একটি সাহসী পদক্ষেপ। আমি উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানাই।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর