৬ আগস্ট, ২০২২ ০৬:২২

বগুড়ার বাজারে কাঁচা মরিচের দাম লাগামহীন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ার বাজারে কাঁচা মরিচের দাম লাগামহীন

বগুড়ার লাল মরিচ সারা দেশে জনপ্রিয়। বহুকাল থেকেই বগুড়ায় মরিচের আবাদ ভালো হয়। বগুড়ার বাজারে কাঁচা মরিচের দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। গত তিন-চারদিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম ডাবল সেঞ্চুরি ছাঁড়িয়েছে। কাঁচা মরিচের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। 

বগুড়া শহরের বৌ-বাজারের মরিচ ক্রেতারা জানান, দেশে কোনো ছোট-খাটো দুর্যোগ তৈরি হলেই সবজির দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আমাদের আয় তো আগের মতোই আছে। বগুড়া ফতেহ আলী বাজারের মরিচ বিক্রেতা শিমুল হোসেন জানান দেশে তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমের কারণে বিভিন্ন এলাকার কাঁচা মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য বাজারে মরিচ কম আসছে। তাই কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে গেছে।

বাজার অন্যান্য ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ সর্বনিম্ন ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। এছাড়া অধিক ঝালের কাচা মরিচ কেজিতে ২৪০ থেকে ২৬০টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। আগের তুলনায় বাজারে কাচা মরিচের আমদানি অনেক কম। এছাড়া কাচা মরিচের লাগামহীন দাম শুনে অনেক ক্রেতা ফিরে গেছে। 

ভাটকান্দি উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মরিচ ক্রেতা রেবেকা সুলতানা জানান, দেশে খরার অজুহাতে শুধু কাঁচা মরিচ নয়, বিভিন্ন সবজির দামও বেড়েছে। দেশে কোনো ছোট-খাটো দুর্যোগ বা সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হলেই সবজির দাম বেড়ে যায়। এভাবে সব জিনিসের দাম দফায় দফায় বাড়লে বাজার করাই আমাদের কঠিন হয়ে পড়বে। 

কাঁচা মরিচ বিক্রেতা রায়হান হোসেন জানান, সবজির দাম তেমন না বাড়লেও বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২২০ টাকা দরে বিক্রি করছি। আমরা পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনে নিয়ে আসছি, তা থেকে কেজি প্রতি দুই-তিন টাকা লাভ করে বিক্রি করছি।
আরেক কাঁচা মরিচ বিক্রেতা আকবর আলী বলেন, দেশের মধ্যে তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরম হওয়ার কারণে এলাকায় কাঁচা মরিচের গাছ অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশি কাঁচা মরিচের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। এ কারণে পাইকারি বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কমে যাওয়ার ফলে আগের তুলনায় বেশি দামে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক এনামুল হক জানান, জেলায় খরিপ মৌসুমে ৬৫৮ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অধিক বৃষ্টি ও খরার কারণে মরিচ গাছ নষ্ট হয়েছে। যার প্রভাব বাজারে পড়েছে।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর