পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যায়োন্নয়ন ইস্যুতে চলমান লাগাতার কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘটের ১০ম দিনে দু’ গ্রুপে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ক্যাম্পাসের বাইরে প্রধান দুগেটে স্থানীয় যুব-ছাত্রলীগসহ আন্দোলনকারীদের স্বজনসহ এলাকাবাসি পক্ষে বিপক্ষে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় ক্যাম্পাস ও বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, তিনটি পর্যায়োন্নয়ন ইস্যুতে পবিপ্রবি কর্মকর্তা এসোসিয়েশনের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াজকুরুনীর নেতৃত্বে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ঐক্যবদ্ধ করে গত ৩০ জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে লাগাতার কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট শুরু হয়। আন্দোলনের ৯ম দিনে রেজিস্ট্রার অপসারণের ঘোষণা দিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তির সৃষ্টি হয়। এসোসিয়েশনের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েলের সমর্থিত কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট শুরু করলে রেজিস্ট্রার ড. কামরুল ইসলাম সমর্থিত গ্রুপ ইস্যু পাল্টানোর প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন বর্জণের ঘোষনা দিলে দু‘গ্রুতে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি, হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
এ খবর মুহূর্তেই বাইরে ছড়িয়ে পড়লে রেজিস্ট্রার সমর্থিত স্থানীয় ছাত্র ও যুবলীগসহ স্বজন ও এলাকাবাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ও আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারীদের প্রতিরোধের ঘোষণা দেয়। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম গেটে সাইদুর রহমান জুয়েল সমর্থিত ছাত্র ও যুবলীগের একাংশ পাল্টা রেজিষ্ট্রার বিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। ক্যাম্পাস ও বাইরে এমন ত্রিমুখী বিক্ষোভ ও কঠর অবস্থানের কারণে ক্যাম্পাস ও বাইরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহিংসতার আশংকায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।
অফিসার্স এসেসিয়েশনের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দাবি দাওয়া বাস্তবায়নের প্রধান বাধা ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কামরুল ইসলাম। তাই তাকে সরাতে না পারলে দাবি আদায় হবে না, একারণেই রেজিস্ট্রার অপসারণের একদফা দাবিতে আন্দোলন করা হচ্ছে। কারা হামলা করেছে এমন প্রশ্নে জুয়েল বলেন, প্রশাসনে তোষামোদকারি দুর্নীতিবাজ এবং রেজিস্ট্রারের চিহ্নিত কয়েকজন আন্দোলন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে এবং প্রকাশ্যে হামলা চালিয়েছে। কর্মকর্তা এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: জসিম উদ্দিন বাদল হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পর্যায়োন্নয়ন ইস্যুতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনে নামিয়ে ব্যক্তি আক্রোশে তারা (জুয়েল গং) ইস্যু পরিবর্তন করায় আমরা তার প্রতিবাদ করেছি। এসময় তাদের সাথে উত্যপ্ত বাক্য বিনিময় ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটলে আমরা চলে এসেছি।
এদিকে ত্রিমুখী বিক্ষোভে ক্যাম্পাসের উত্তেজনা কর পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা ভিপি আবদুল মান্নান, দুমকি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার ক্যাম্পাসে এসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমঝোতা বৈঠকে বসেছেন। পর্যায়উন্নয়ন এর সকল দাবি দাওয়া মেনে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবিতে দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কামরুল ইসলামকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যান তত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. সন্তোষ কুমার বসুকে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এএ