Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১৬

তাবলিগের সংঘাত

মর্যাদাহানিকর কর্মকান্ড দুর্ভাগ্যজনক

তাবলিগের সংঘাত

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক মুসল্লি­ নিহত ও দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। তাবলিগ জামাতে বিভক্তি সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটতে পারে আশঙ্কায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের আগে ইজতেমা সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার পরামর্শ দেন। দুই পক্ষ এতে সম্মতি জানালেও মাওলানা সা’দ কান্ধলভির সমর্থকরা জোড় ইজতেমার আয়োজন করলে জুবায়ের পন্থিরা তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে একজনের প্রাণহানি ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি­ আহত হন। শনিবার বিকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় নির্বাচনের আগে ইজতেমা না করা এবং নির্বাচনের পর শান্তিপূর্ণভাবে তা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উভয়পক্ষকে রাজি করান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সা’দ কান্ধলভিপন্থি তাবলিগের শূরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম এবং কওমিপন্থি মাওলানা জুবায়েরের অনুসারী তাবলিগের উপদেষ্টা মাওলানা আশরাফ আলী ও আবদুল কুদ্দুসসহ তাবলিগ জামাতের শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাবলিগের দুই গ্র“পের সংঘর্ষ দীনের খেদমতে নিবেদিতপ্রাণ এ সংগঠনের মর্যাদায় আঘাত হেনেছে। শান্তির ধর্ম ইসলামের সুনামকেও ক্ষুণ্ন করেছে কিছু উগ্রপন্থির কা-জ্ঞানহীন কার্যক্রম। তাবলিগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষকে কোনোভাবেই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে ভাবার অবকাশ নেই। এ সংঘর্ষের কারণে রাজধানীর লাখ লাখ মানুষকে শনিবার ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। রাজধানীর মহাখালী থেকে বিমানবন্দর পুরো এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। নির্দিষ্ট সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পেরে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ফ্লাইট মিস করেছেন। রাজধানীজুড়ে যানজটের মদদ জুগিয়েছে এই অবাঞ্ছিত ঘটনা। আমরা আশা করব শান্তির জীবন বিধান ইসলামের মর্যাদা রক্ষায় তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষই সংঘাতের পথ এড়িয়ে চলবেন। এটি তাদের কর্তব্য বলে বিবেচিত হবে এমনটিও প্রত্যাশিত।


আপনার মন্তব্য