শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:১১

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিনের জন্ম ১৯৩৫ সালের জুনের কোনো এক বর্ষণমুখর রাতে নোয়াখালীর বাঘপাচরা গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ আজহার পাটোয়ারী মোটামুটি সচ্ছল গৃহস্থ ও মা জুলেখা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। ছোটবেলায় তাঁর পড়াশোনা শুরু হয় পাড়ার মক্তবে ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে, পরে বাঘপাচরা প্রাইমারি স্কুলে। স্কুল পাস করে ভর্তি হন আমিশাপাড়া হাইস্কুলে। হাইস্কুল পাস করে ১৯৫৩ সালে তিনি নৌবাহিনীতে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। ’৭১ সালের এপ্রিলে ত্রিপুরা সীমান্ত অতিক্রম করে ২ নম্বর সেক্টরে যোগদান করেন। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বহু সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। ওই মাসে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গঠনের উদ্দেশ্যে সব সেক্টর থেকে সাবেক নৌসেনাদের আগরতলায় সংগঠিত করে নৌবাহিনীর প্রাথমিক কাঠামো গঠন করা হয়। পরে তাদের কলকাতায় আনা হয়। সেখানে সবার সঙ্গে রুহুল আমিনও ছিলেন। ভারত সরকার বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দুটি টাগবোট উপহার দেয়। এগুলোকে কলকাতার গার্ডেন রিচ নৌ ওয়ার্কশপে দুটি বাফার গান ও মাইন পড লাগিয়ে গানবোটে রূপান্তরিত করা হয়। গানবোট দুটির নামকরণ হয় ‘পদ্মা’ ও ‘পলাশ’। রুহুল আমিন নিয়োগ পান পলাশের ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার হিসেবে।

৬ ডিসেম্বর মোংলা বন্দরে পাকিস্তানি নৌঘাঁটি পিএনএস তিতুমীর দখলের উদ্দেশ্যে পদ্মা, পলাশ ও মিত্রবাহিনীর গানবোট ‘পানভেল’ ভারতের হলদিয়া নৌঘাঁটি থেকে রওনা হয়। ৮ ডিসেম্বর সুন্দরবনের আড়াইবাকিতে বিএসএফের পেট্রোল ক্রাফট ‘চিত্রাঙ্গদা’ তাদের বহরে যোগ দেয়। ৯ ডিসেম্বর কোনো বাধা ছাড়াই তারা হিরণ পয়েন্টে প্রবেশ করে। ১০ ডিসেম্বর ভোর ৪টায় তারা মোংলা বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। সকাল ৭টায় কোনো বাধা ছাড়াই মোংলায় পৌঁছে। দুপুর ১২টায় তারা খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছাকাছি পৌঁছায়। এমন সময় তাদের অনেক ওপরে তিনটি জঙ্গিবিমান দেখা যায়। পদ্মা, পলাশ থেকে বিমানের ওপর গুলিবর্ষণের অনুমতি চাইলে বহরের কমান্ডার বিমানগুলো ভারতীয় বলে জানান। কিন্তু  বিমানগুলো পদ্মা ও পলাশের ওপর গুলি ও বোমাবর্ষণ শুরু করে। পলাশের কমান্ডার সবাইকে গানবোট ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু রুহুল আমিন পলাশেই অবস্থান নেন এবং আপ্রাণ চেষ্টা চালান গানবোটটি সচল রাখতে। হঠাৎ একটি গোলা পলাশের ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে এবং তা ধ্বংস হয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে রুহুল আমিন নদীতে লাফিয়ে পড়েন এবং আহত অবস্থায় কোনোক্রমে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন। দুর্ভাগ্যক্রমে পাড়ে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা তাঁকে নির্মমভাবে অত্যাচার করে হত্যা করে। তাঁর লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।


আপনার মন্তব্য