শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:০১

খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। এতে শিক্ষার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন ও মোবাইলে পাঠদান চালু থাকলেও খুব বেশি কার্যকর হয়নি। শিক্ষার্থীদের অর্ধেকই এ পাঠদান প্রক্রিয়ার বাইরে ছিল। এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এ প্রক্রিয়ায় যুক্তই হতে পারেনি। শিক্ষার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই। অভিভাবকদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমেও এসেছে। অবশেষে বন্ধ থাকা স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রায় দুই মাস আগে ৩০ মার্চ থেকে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। অবশ্য শুরুতে সব শ্রেণির পাঠদান প্রতিদিন হবে না। প্রথমে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের দ্বাদশ, মাধ্যমিক পর্যায়ে দশম এবং প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন (সপ্তাহে ছয় দিন) ক্লাস হবে। আর শুরুর দিকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে এক দিন ক্লাস হবে। নবম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে দুই দিন করে ক্লাস হবে। প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস আপাতত বন্ধই থাকছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের ১৭ মের মধ্যে করোনার টিকা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ মেরামতের কাজ সম্পন্ন করবে। স্বাস্থ্যকর্মীরাও তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে মনিটরিং করবেন। তবে করোনাকালে যেসব দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে, সেসব দেশের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর কোনো সমস্যা হয়নি। সেখানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা ঠিকমতো চলছে। করোনা যত প্রলম্বি^ত হোক, শিক্ষা কার্যক্রম আর বন্ধ রাখা উচিত হবে না। জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন করোনার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়েছে এবং হচ্ছে, শিক্ষার ক্ষেত্রেও তেমন চেষ্টা করতে হবে। তবে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যগত  সুরক্ষার প্রতি যথাযথ গুরুত্বও দিতে হবে।