শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৫

অভাবীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ইমানি দায়িত্ব

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

অভাবীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ইমানি দায়িত্ব

পবিত্র কোরআনুল কারিমে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা নিজেদের কষ্টার্জিত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে আল্লাহর কাছে তাদের প্রাপ্য কত বেশি জানো? তাদের প্রাপ্যের উপমা হলো একটি শীষ। যার থেকে সাতটি শীষ হলো, প্রতিটি শীষ থেকে আবার শত শস্য উৎপন্ন হলো; কোনো কোনো শীষে আল্লাহ চাইলে আরও বেশি শস্য দান করেন। আসলে আল্লাহ যাকে দেন হিসাব ছাড়া দেন। তিনি তো মহাজ্ঞানী।’ সুরা বাকারাহ, আয়াত ২৬১।

আল্লাহর পথে ব্যয়ের প্রাপ্তি বোঝাতে গিয়ে এর চেয়ে চমৎকার উদাহরণ আর কী হতে পারে! দাতাকে একজন কৃষকের সঙ্গে তুলনা করেছেন আল্লাহ। কৃষকরূপী এ দাতার কাছে আছে অনেক বীজ। টাকা ও সম্পদের বীজ। বান্দা যদি আল্লাহর মানবভূমিতে একটি টাকা রোপণ করে দিতে পারে তাহলে এটা ৭০০ থেকে আরও বেশি গুণ বেড়ে বান্দার কাছেই ফিরে আসবে। কিন্তু বুদ্ধিভ্রষ্ট কৃষক যদি মনে করে বীজ বপন করলে বীজ ফুরিয়ে যাবে তাহলে ওই কৃষকের সংগ্রহে থাকা বীজ তো নষ্ট হবেই তার ফসলি জমিও অনাবাদি থেকে যাবে। শুধু তাই নয়, সে কৃষকের কৃষি তো হুমকির মুখে পড়বেই কৃষকের পরিবার ও নিজের জীবনও বিপন্ন হয়ে পড়বে। কৃষকের কাছে যে বীজ থাকে সুন্দর-সচ্ছলভাবে বাঁচতে হলে তা বপন করতেই হবে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহও মানুষকে বলছেন, ‘তোমার কাছে সম্পদরূপী যে বীজ আছে তা যদি আল্লার পথে ব্যয় না করে নিজের কাছে গচ্ছিত রাখ এবং ভাব সেগুলো তোমাকে নিরাপত্তা দেবে, তোমাদের এ ধারণা পুরোপুরি ভুল। বরং আল্লাহর পথে সম্পদের একটি অংশ দান করলে তা ৭০০ থেকে হাজার গুণ বেড়ে তোমার কাছেই ফিরে আসবে, ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সুতরাং তুমি দান কর।’

বান্দার মনে হয়তো সন্দেহ জাগতে পারে সম্পদের একটি অংশ কীভাবে শত বা হাজার গুণ হয়ে বান্দার অ্যাকাউন্টে জমা হবে! এর উত্তরে আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা! আমি বেহিসাবে এবং বিপুল পরিমাণে দান করি। তোমার দান করা সম্পদের ক্ষুদ্রতম অংশকে কীভাবে হাজার গুণে ফিরিয়ে দেব তা আমার দায়িত্ব, তোমার ভাবনা নয়।’ আয়াতের শেষে আল্লাহ আরেকটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি তো মহাজ্ঞানী।’ এ কথা বলার কারণ হলো বান্দার সম্পদ হাজার গুণ বৃদ্ধির ব্যাপারটি সব সময় জাগতিক হবে তা নয়, কখনো কখনো এমনভাবে সম্পদ বাড়বে দুনিয়ার মানুষ যা বুঝবে না, শুধু জ্ঞানীরাই বুঝবে। যেমন ইমাম গাজ্জালি এহইয়াউল উলুমুদ্দিনে একটি ঘটনা বলেছেন। মুসা নবীর আমলের ঘটনা। এক লোক  ছিল বড় বদকার ধরনের। তার মৃত্যুর সময় হয়ে গেলে আজরাইল (আ.) তার জান কবজ করতে আসেন। আল্লাহ বলেন, হে আজরাইল! এখন তুমি ফিরে যাও। এ লোকটি এ মাত্রই একজন অভাবীকে দান করেছে। বিনিময়ে আমি তার হায়াত আরও কিছু দিন বাড়িয়ে দিলাম। এই যে লোকটির হায়াত কিছু দিন বাড়ল তা কি জাগতিক কোনো সম্পদের মাধ্যমে সম্ভব হতো? হাদিসে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘আস-সাদকাতু তারুদ্দুল বালা’। দান বিপদ দূর করে দেয়। একেকটি বিপদ এসে মানুষের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি করে যায়, কখনো কখনো স্বাধের প্রাণটাই নিয়ে যায়। কিন্তু সদকা-খয়রাতের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার বিপদাপদ দূর করে দেন।

পবিত্র কোরআনে সুরা বাকারায় আল্লাহ বলেছেন, ‘ইয়ামহাকুল্লাহুর রিবা ওয়া ইউরবিস সাদাকাত’। সুদের সম্পদ আল্লাহ কমিয়ে দেন আর দান-খয়রাতের সম্পদ বাড়িয়ে দেন। জাগতিক অর্থনীতির হিসাবে দেখা যায় সুদের সম্পদ বাড়ে এবং খয়রাতে সম্পদ কমে। কিন্তু যিনি ‘মহাজ্ঞানী’ তিনি ঠিকই হিসাব করে সুদের সম্পদ কমিয়ে দেন এবং দানের সম্পদ বাড়িয়ে দেন। আসুন! করোনার এ মহাসংকটে যার যার সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আল্লাহর বান্দাদের পাশে দাঁড়াই। রসুল (সা.)-এর ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি দানের বিনিময়ে আল্লাহ ৭০০ গুণ সওয়াব বাড়িয়ে দেবেন। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিন।

লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি পীর সাহেব, আউলিয়ানগর।

www.selimazadi.com