শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০২

পঞ্চম শ্রেণির বাংলা

মেহেরুন্নেসা খাতুন : সিনিয়র শিক্ষিকা

পঞ্চম শ্রেণির বাংলা
Google News

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১ ও ২ নম্বর ক্রমিকের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ : (যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন পাঠ্য বই থেকে)

পথিক : মশাই, একটু জল পাই কোথায় বলতে পারেন?

ঝুড়িওয়ালা : জলপাই? জলপাই এখন কোথায় পাবেন? এ তো জলপাইয়ের সময় নয়। কাঁচা আম চান তো দিতে পারি-

পথিক : না, না, আমি তা বলিনি-

ঝুড়িওয়ালা : না, কাঁচা আম আপনি বলেননি, কিন্তু জলপাই চাচ্ছিলেন কি না, তা তো আর এখন পাওয়া যাবে না, তাই বলছিলুম-

পথিক : না হে, আমি জলপাই চাচ্ছিনে-

ঝুড়িওয়ালা : চাচ্ছেন না তো, ‘কোথায় পাব’, ‘কোথায় পাব’ করছেন কেন? খামাখা এ রকম করার মানে কী?

পথিক : আপনি ভুল বুঝছেন- আমি জল চাচ্ছিলাম।

ঝুড়িওয়ালা : জল চাচ্ছেন তো ‘জল’ বললেই হয়; ‘জলপাই’ বলার দরকার কী? জল আর জলপাই কি এক হলো? আলু আর আলুবোখরা কি সমান? মাছও যা আর মাছরাঙাও তাই? বরকে কি আপনি বরকন্দাজ বলেন? চাল কিনতে গিয়ে কি চালতার খোঁজ করেন?

পথিক : ঘাট হয়েছে মশাই। আপনার সঙ্গে কথা বলাই আমার অন্যায় হয়েছে।

ঝুড়িওয়ালা : অন্যায় তো হয়েছেই। দেখছেন ঝুড়ি নিয়ে যাচ্ছি- তবে জল চাচ্ছেন কেন? ঝুড়িতে করে কি জল নেয়? লোকের সঙ্গে কথা কইতে গেলে একটু বিবেচনা করে বলতে হয়।

১। নিচের যেকোনো পাঁচটি শব্দের অর্থ লেখো।                          ১ী৫=৫

জল, খামাখা, মাছ, বর, অন্যায়, বিবেচনা, মশাই

২। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ :

ক) পথিক ঝুড়িওয়ালার কাছে কোন কথা বলে খাবার জলের কথা জানতে চাইল? উত্তরে ঝুড়িওয়ালা পথিককে কী বলল?  ২

খ) ঝুড়িওয়ালা পথিককে জল না দেওয়ার পক্ষে কী যুক্তি দেখাল? চারটি বাক্যে লেখ।                          ৪

গ) তুমি কোনো অসহায় পথিককে কিভাবে সাহায্য করবে তা চারটি বাক্যে লেখ।                  ৪

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩ ও ৪ নম্বর ক্রমিকের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ : (যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন পাঠ্য বই বহির্ভূত)

একবার এক দাঁড়কাকের মনে খুব গর্ব হলো। জাতভাইদের মধ্যে রূপে-গুণে তার জুড়ি কেউ নেই বলে সে মনে করত। এই ভেবে অহংকারে ডগমগ হয়ে সে তার আত্মীয়-স্বজনদের ডেকে বলল, ‘তোমাদের সঙ্গে আর মেলামেশা করা যায় না। যা চাল-চলন সবার, দিনভর শুধু কোলাহল। এক টুকরো খাবারের জন্য সবাই মিলে কাড়াকাড়ি করছ। না, না, আমি আর তোমাদের সঙ্গে নেই।’ এই বলে দাঁড়কাক তার জাতভাইদের ছেড়ে পাতিকাকদের কাছে উড়ে গেল। দাঁড়কাক পাতিকাকদের ডেকে বলল, ‘ভাই সব, তোমাদের দেখে-শুনে আমার নিজের মতোই মনে হচ্ছে। তাই তোমাদের সঙ্গে থাকতে এলাম। তোমরা বেশ চটপটে আর বুদ্ধিমান। এত দিন যাদের সঙ্গে ছিলাম, তাদের কথা কী বলব, দেখতে যেমন কদাকার, তেমনি গবেট। তাই তোমাদের কাছেই চলে এলাম। দাঁড়কাকের কথা শুনে পাতিকাকেরা এক জায়গায় জড়ো হয়ে বলল, ‘তোমার কর্কশ গলার শব্দ শুনে মনে হচ্ছে স্বভাবও বেশি ভালো হবে না। এখানে তোমার সুবিধা হবে না। এখনি পালাও, নইলে সবাই মিলে ঠুকরে ছাল-চামড়া তুলে নেব।’ পাতিকাকদের তাড়া খেয়ে দাঁড়কাক তখনই সেখান থেকে পালাল। তার তখন হুঁশ হলো কাজটা মোটেই ভালো করেনি। জাতভাইদের হেনস্তা করে অন্য জাতের কাকদের আপন হতে সে খুবই ভুল করে ফেলেছে। নিরূপায় হয়ে সে তার জাতভাইদের মধ্যেই ফিরে গেল। কিন্তু এবার সে সেখানেও ঠাঁই পেল না। নিন্দে মন্দ করে একবার যাদের ছেড়ে চলে গেছে তারা কেন তাকে মেনে নেবে? দাঁড়কাকেরা তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দিল। সেদিন থেকে দাঁড়কাক দল ছাড়া বন্ধুহীন হয়ে ঘুরতে লাগল।

৩। নিচে কয়েকটি শব্দ ও শব্দার্থ দেওয়া হলো। উপযুক্ত শব্দটি বেছে নিয়ে নিচের বাক্যগুলোর শূন্যস্থান পূরণ কর:                      ১ী৫=৫

ক) আমি কারো সঙ্গে - করি না।

খ) ছেলেটি বেশ চটপটে ও -।

গ) গরিব বলে কাউকে - করো না।

ঘ) পেঁচা দেখতে -।

ঙ) বাড়িতে - এসেছে।

চ) লেখাপড়ায় রাকিবের মেলা ভার -।

ছ) কথায় কথায় আমাকে -  বলবে না।

৪। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ :    

ক) দাঁড়কাকের অহংকার হলো কেন? সে আত্মীয়-স্বজনদের ডেকে কী বলল? চারটি

বাক্যে লেখ।                       ১+৪=৫

খ) নিজের জাতভাইদের হেনস্তা করার পরিণামে দাঁড়কাক কী শাস্তি পেল? পাঁচটি বাক্যে লেখ।      ৫

গ) তুমি কেন অহংকার করবে না পাঁচটি বাক্যে লেখ।        ৫

 উত্তরমালা : প্রশ্নোত্তর-১

ক) জল-পানি;    খ) খামাখা-অযথা;

গ) মাছ-মৎস্য          ঘ) বর-মেয়ের জামাই;

ঙ) অন্যায়- অপরাধ    চ) বিবেচনা-ভেবেচিন্তে;

ছ) মশাই-জনাব

প্রশ্নোত্তর-২

ক) পথিক ঝুড়িওয়ালার কাছে মশাই, একটু জলপাই কোথায় বলতে পারেন? বলে খাবার জলের কথা জানতে চাইল।

উত্তরে ঝুড়িওয়ালা বলল-এতো জলপাইয়ের সময় নয়। কাঁচা আম চান তো দিতে পারি।

খ) ঝুড়িওয়ালা পথিককে জল না দেওয়ার পক্ষে যেসব যুক্তি দেখাল তা হলো

i. পথিক সরাসরি ‘জল’ না চেয়ে ‘জলপাই কোথায়’ বলেছে।

ii. জল আর জলপাই কখনো এক নয়।

iii. আলু আর আলুবোখরা যেমন সমান নয়, তেমনি মাছ আর মাছরাঙাও আলাদা।

ii. বরকে কেউ যেমন বরকন্দাজ বলে না, তেমনি চাল কিনতে গিয়ে কেউ চালতার খোঁজ করে না।

 [চলবে]