শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ এপ্রিল, ২০১৬ ২৩:২৮

খলনায়ক সংকটে ঢাকার ছবি

আলাউদ্দীন মাজিদ

খলনায়ক সংকটে ঢাকার ছবি

ঢাকার ছবিতে এখন আর শক্তিমান খলনায়ক নেই। এটি চলচ্চিত্রের একটি অপরিহার্য চরিত্র। প্রথম ঢাকাই ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’ এর প্রধান চরিত্র ছিল খলনায়কের। ডাকাতরূপী এই চরিত্রে অভিনয় করেন ইনাম আহমেদ। নায়কের পাশাপাশি গল্পের প্রয়োজনে একজন খলনায়ক না হলে ছবির গল্প জমে না। এটি শুধু ঢালিউডের বেলায় নয়। বিশ্বের প্রায় সব ছবিতে খলনায়কের চরিত্র থাকতেই হয়। বিশেষ করে মন্দের করুণ পরিণতি বোঝাতে খলনায়ক দরকার। খলনায়ক সংকট কাটাতে নির্মাতারা এখন টালিগঞ্জ ও বলিউডের খলনায়কদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। বলিউডের আশীষ বিদ্যার্থী, টালিগঞ্জের রজতাভ দত্তসহ অনেকে এখন ঢাকার ছবিতে অভিনয় করছেন।

ঢাকার প্রথম ছবির খলনায়ক ইনাম আহমদের পর আসেন ফতেহ লোহানী, কাজী খালেক, মুস্তাফা, তুলিপ, জাভেদ রহিম, ফিরোজ ইফতেখার, মঞ্জুর রাহি, লিটন আখতার, মেহফুজ, খলিল, আহমেদ শরীফ, জুবের আলম, কায়েস, দারাশিকো, রাজু আহমেদ, রাজ, এটিএম শামসুজ্জামান, বাবর, মতিন, মঞ্জুর হোসেন, জসিম, আরিফুল হক, কেরামত মাওলা, মিজু আহমেদ, সিরাজ হায়দার, রাজীব, আদিল, নাসির খান, হুমায়ন ফরীদি, ডিপজল, ডন, ড্যানি সিডাক, মিশা সওদাগরসহ অনেকে। বলতে গেলে ষাট থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো অনেক শক্তিমান খলনায়ক পাওয়া গেছে ঢাকার ছবিতে।

খলনায়কদের মধ্যে এটিএম শামসুজ্জামান, মিজু আহমেদ, মিশা সওদাগরের অভিন্ন মন্তব্য হলো— ‘ছবিতে নায়কের চেয়ে খলনায়কের গুরুত্ব বেশি। কারণ নায়ক প্রেম করবে আর নেচে গেয়ে বেড়াবে। কিন্তু খলনায়ক ঘটনার মারপ্যাঁচ দিয়ে গল্পকে জটিল করে তোলে। দর্শকের মনে রাগ আর ঘৃণার জন্ম দেয়। ছবির শেষ দৃশ্য পর্যন্ত খলনায়কের পরিণতি দেখার জন্য তারা টান টান উত্তেজনায় থাকে। এদিক দিয়ে ছবির গল্পে গতি সঞ্চারে সার্থক হয় খলনায়করা। দর্শকের মনে খলনায়ক চরিত্রটি এতটাই বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তব হয়ে ওঠে যে, একসময় খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীদের বাড়ি ভাড়া দিতেও ভয় পেত বাড়িওয়ালারা। বিয়ের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা হতো। মানে কনে পাওয়া যেত না। এই দিক দিয়ে এ চরিত্রটি একটি সার্থক ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। চরিত্রটিকে ভালোবেসেই খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করছি।’

ঢাকার ছবিতে যখন খলনায়ক সংকট চরমে তখন নব্বই দশকে নায়ক হয়ে আসা ওমর সানিও একসময় খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন। শক্তিমান নায়ক আলমগীরও বেশ কিছু ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় কাজ করেন। একই সঙ্গে অমিত হাসানও এই চরিত্রে অভিনয় করছেন।

দুঃখের বিষয় হচ্ছে দুই হাজার সালের শুরু থেকে ঢালিউডে নায়ক-নায়িকা সংকটের মতো খলনায়ক সংকটও দেখা দেয়। এই সময়ে অবশ্য অনেকে নায়ক-নায়িকা হতে আসলেও খলনায়ক খুব একটা পাওয়া যায়নি। হাতে গোনা যে কজন আসেন তাদের  মধ্যে শিবা সানু কিছুটা স্বতন্ত্র অবস্থান করে নিতে পারলেও বিশাল পরিচিতি পাননি। তনু পাণ্ডে, শিমুল খান, টাইগার রবিসহ অনেকে এখন প্রতিষ্ঠা পেতে লড়াই করে যাচ্ছেন।

প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আজিজুর রহমান বলেন, ‘খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। নায়ক চরিত্রের চেয়েও কঠিন। এর জন্য চর্চা ও একাগ্রতা দরকার। যা এখন আছে বলে মনে হয় না। তাছাড়া এখন অনেকেই খলনায়ক হতে চান না। সবার ঝোঁক থাকে নায়ক হওয়ার দিকে। ফলে ঢালিউড এখন চরম খলনায়ক সংকটে পড়েছে। ষাট থেকে নব্বই দশকের মতো শক্তিমান খলনায়ক আর পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কাজ করতে গিয়ে কঠিন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে নির্মাতাদের।’

আশির দশকে নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রমে নায়ক হয়ে আসেন মিশা সওদাগর। পরে খলনায়কের ভূমিকায় প্রতিষ্ঠা পান ও নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। ২০০০ সালের শুরু থেকে বলতে গেলে ঢালিউডের ছবি চলছে একমাত্র খলনায়ক মিশা সওদাগরের ওপর ভর করে। বছরের ৯৫ ভাগ ছবিতেই কাজ করতে হচ্ছে তাকে। ফলে একদিকে এই শক্তিমান শিল্পী যেমন হাঁপিয়ে উঠছেন ঠিক তেমনি নির্মাতারাও তার শিডিউল পেতে অহরহ ঘাম ঝরাচ্ছেন। তাছাড়া বেশির ভাগ ছবিতে একই খলনায়ক দেখতে গিয়ে চরিত্রটির প্রতি দর্শক আস্থা কমছে। চলচ্চিত্রকাররা বলছেন এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে এফডিসিকে আবার নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রম চালু করতে হবে। উক্ত কারণে অতীতে এফডিসির এই উদ্যোগের ফলে অনেক প্রতিভাবান খলনায়ক পেয়েছে ঢাকার ছবি।


আপনার মন্তব্য