শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:২৫

বিদায় হে নাট্যজন...

পান্থ আফজাল

বিদায় হে   নাট্যজন...
মান্নান হীরা

একজন শিল্পী তাঁর সুবর্ণ সময়টা দেন সৃষ্টিকর্মে। অথচ জীবনের পড়ন্ত বেলায় অনেক কিছু না করতে পারার আক্ষেপ নিয়েই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয় তাঁকে। মৃত্যু অমোঘ সত্য; মেনে নিতেই হবে। সূর্যাস্তে রাত স্বপ্ন দেখে সূর্যোদয়ের; কালের খেয়ায় ভেসে চলা শিল্পীদের চোখে থাকে আলোর অপেক্ষা। তবে সেই অপেক্ষা স্তব্ধ হয়ে যায় জীবনের অমোঘ নিয়মে। এ জীবনের নিয়মকেই যেন মেনে নিতে হলো সংস্কৃতি আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও বরেণ্য নাট্যকার মান্নান হীরাকে। মাত্র ৬৩ বছর বয়সে এই নাট্যজনকে সবাইকে ছেড়ে চলে যেতে হলো পরপারে। বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) তাঁর শান্তিবাগের বাসায় অসুস্থতা অনুভব করলে তাঁকে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই (আনুমানিক রাত ৯টায়) কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর আগেও তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এদিকে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ গতকাল (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জাতীয় নাট্যশালা প্রাঙ্গণে রাখা হয়। এরপর সেগুনবাগিচা মসজিদে জানাজা শেষ করে মরদেহ দাফনের জন্য সিরাজগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। মান্নান হীরা আরণ্যক নাট্যদলের অধিকর্তা ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ নাট্যকার সংঘের প্রথম সভাপতির দায়িত্ব পালনও করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পথনাটকের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০৬ সালে নাটক শ্রেণিতে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর রচিত অনেক নাটক মঞ্চ ও টিভির দর্শককে মুগ্ধ করেছে। তিনি প্রায় ১৫টি নাটক লিখেছেন। উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে আছে মঞ্চনাটক ‘লালজমিন’, ‘ভাগের মানুষ’, ‘ময়ূর সিংহাসন’, ‘সাদা-কালো’ ইত্যাদি। ‘মূর্খ লোকের মূর্খ কথা’ মান্নান হীরা রচিত ও নির্দেশিত অন্যতম পথনাটক। তিনি ছিলেন একজন প্রশংসিত নির্মাতাও। ২০১৪ সালে তিনি সরকারের অনুদানে শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ তৈরি করেন। এটি তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র। তাছাড়া ‘গরম ভাতের গল্প’ ও ‘৭১-এর রঙপেন্সিল’ নামে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্যও পরিচালনা করেছেন এই নাট্যজন। পেশাজীবনে প্রতিটি শিল্পীরই থাকে আলাদা নিজস্বতা।  তিনি তেমনি নিজস্বতা নিয়ে সৃষ্টিশীল ছিলেন। আজ তিনি নেই; কিন্তু তাঁর সৃষ্টি তাঁর কথা বলবে, মানুষের কথা বলবে।


আপনার মন্তব্য