শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ জুন, ২০২১ ২২:৫৩

লকডাউনেও কি চলবে ঈদ নাটকের শুটিং!

লকডাউনেও কি চলবে ঈদ নাটকের শুটিং!
Google News

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চলছে টিভিনাটক, টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক, ওয়েব কনটেন্ট নির্মাণের হিড়িক। রাজধানীর সব শুটিং হাউসসহ দেশের বিভিন্ন লোকেশন এখন ব্যস্ত। তবে করোনাভাইরাসের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় ১ জুলাই থেকে সারা দেশে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ ঘোষণা করেছে সরকার। এর মধ্যেও কি নাটকপাড়ায় ঈদকে কেন্দ্র করে শুটিং চলবে! লিখেছেন- পান্থ আফজাল

প্রতি ঈদে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফরম ও টেলিভিশনে ৬০০ থেকে ৭০০ নাটকের চাহিদা থাকে। বছরজুড়ে নাটকগুলো তৈরি হলেও ৮০ শতাংশ নাটক নির্মাণ করা হয় ঈদের ঠিক আগের তিন মাসে। এবার অনেক বাধানিষেধ সত্ত্বেও ঈদ আয়োজন তালিকার জায়গায় স্থান করে নিতে ব্যতিব্যস্ত হয়েছেন টিভি নির্মাতা, অডিও প্রযোজনা সংস্থা, টিভি চ্যানেল কর্তৃপক্ষ, অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে কলাকুশলীরা। শুধু টিভি চ্যানেলের জন্য নয়; নাটক, ওয়েব কনটেন্ট নির্মিত হচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফরম, ইউটিউব চ্যানেলের জন্য। তাই নির্দিষ্ট করে সংখ্যাটা বলা কঠিন। তবে রোজার ঈদকে সামনে রেখে পাঁচ শতাধিক কনটেন্ট নির্মিত হলেও কোরবানির ঈদে সংখ্যাটা একটু কম। আগের কিছু তৈরিকৃত কনটেন্ট কোরবানির ঈদ আয়োজনে যোগ হয়। এবারও তো প্ল্যাটফরম বেশি। তাই কনটেন্ট প্রচুর নির্মিত হচ্ছে। দেশের সবকটি শুটিং হাউসে এই সময়ে শুটিং চললেও পুবাইলের অবস্থা ভিন্ন এখন; কিছু শুটিং হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বিভিন্ন শুটিং সংক্রান্ত ডকুমেন্টস ও নিরাপত্তা মেনে শুটিং করার জন্য আলোচনা চলছে। অন্যসব স্থানে শুটিং করতে অবশ্য এখন সরকারি বিধিনিষেধ নেই। তবে ১ জুলাইয়ের পর এই চিত্র ভিন্নও হতে পারে বলে জানা যায়। করোনাভাইরাসের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় ১ জুলাই থেকে সারা দেশে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ ঘোষণা করেছে সরকার। তবে নাটকপাড়ায় শুটিং চলছে আগের মতোই। হাউস ভাড়া করে ইউটিউবারও ব্যস্ত রয়েছেন কনটেন্ট নির্মাণে। যদিও অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম জানিয়েছেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং করছেন সবাই।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুটিং করছেন সবাই। যাঁরা শুরু করেছেন তাঁরা তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করবেন বলে জানিয়েছেন। শুটিং চলছে; তবে ১ তারিখের পর বোঝা যাবে লকডাউন কতটা কঠোর! আর শুটিং পরবর্তীতে চলবে কি চলবে না!

যাঁরা শুরু করেছেন তাঁরা তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করবেন বলে জানিয়েছেন। শুটিং চলছে, তবে ১ তারিখের পর বোঝা যাবে লকডাউন কতটা কঠোর। শুটিং পরবর্তীতে চলবে কি চলবে না! দেশের অবস্থা তো অনেক খারাপ। করোনার প্রকোপ বেশি, তাই শুটিং ঝুঁকিপূর্ণ। যাঁরা শুটিং শুরু করেছেন তাঁরা এর মধ্যেই শেষ করবেন।’ বিষয়টি নিয়ে নিয়মিতই নাটকের অন্তসংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান এই অভিনেতা। তাগাদা দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানার। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা (টেলিভিশনের শিল্পী-কলাকুশলী) এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আপৎকালীন সহযোগিতা পাইনি। গতবার আমরা নিজেরা ব্যক্তিগত জায়গা থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রতিবারই তো তা সম্ভব নয়। তাই এখন যদি কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে শিল্পী-কলাকুশলীদের দুই-তিন মাসের ইনকাম বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ ঈদ বড় একটা আয়ের সময়। একজন দোকানদার বা নিম্ন আয়ের মানুষ চাইলেই অন্যের কাছে সাহায্য নেন, কিন্তু শিল্পীরা তা করতে পারেন না।’ এ বিষয়ে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টেলিপ্যাব) সভাপতি অভিনেতা-প্রযোজক ইরেশ যাকের বলেন, ‘সম্প্রতি প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন দেখেছি। তাতে আমাদের মনে হয়েছে আমরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের মধ্যে পড়েছি। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, নিজস্ব যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় কাজ চালিয়ে যাওয়া যাবে। আমরা সেভাবেই আপাতত কাজ চালাব।’ তবে গত বছরের করোনার দুঃসহ মুহুর্তগুলো এবার কাটিয়ে উঠতে চান বলে জানালেন ইরেশ যাকের। তিনি বলেন, ‘যদি ১ জুলাই সব বন্ধ হয় তাহলে দেড় শ কোটি টাকার ওপরে লোকসান হবে। রোজার ঈদে তিন-চার মাস ধরে কাজ হয়। কোরবানির ঈদে সে সুযোগ থাকে না। হাতে দেড়-দুই মাস সময় পাওয়া যায়। যদি ১ জুলাই শুটিং বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তিন ভাগের এক ভাগ কাজ বাদ থাকবে। মানে প্রায় দেড় শ কোটি টাকার লোকসান হবে। যার মধ্যে ১০০-১২০ কোটি টাকা হলো শিল্পী-কলাকুশলীদের পারিশ্রমিক। তাঁরা কীভাবে চলবে? তাই    আপৎকালীন এ সময়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’ প্রশ্ন থেকে যায়; লকডাউনের মধ্যেও কি শুটিং চলবে? নাকি শুটিংকে আপাতত গুডবাই জানিয়ে সবাই ঘরবন্দী হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? সেটা সময়ই বলে দেবে।