শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ আগস্ট, ২০২১ ২১:৪১

যেভাবে ঘুরে দাঁড়াবে সিনেমা হল

যেভাবে ঘুরে দাঁড়াবে সিনেমা হল
Google News

পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ছবির অভাবে নব্বই দশকের মধ্যভাগ থেকেই সিনেমা হল বন্ধ শুরু হয়েছে। সেই বন্ধের ধারা এখনো অব্যাহত। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত দেশে থাকা ১ হাজার ৪৩৫টি সিনেমা হলের স্থলে এখন আছে ৬২টির মতো। চরম লোকসানে আছেন সিনেমা হল মালিকরা। এ অবস্থার উত্তরণ কীভাবে সম্ভব? সে কথাই বলেছেন সিনেমা হল মালিকরা। তাঁদের মতামত তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

 

সিনেমা হলের কাঠামো বদলাতে হবে

কাজী ফিরোজ রশীদ

[সাবেক সভাপতি, প্রদর্শক সমিতি]

পর্যাপ্তসংখ্যক ও মানসম্মত ছবি নেই এ কারণে দর্শক সিনেমা হলবিমুখ। ফলে লোকসানের কবলে পড়ে আমাদের নাকাল হতে হচ্ছে প্রায় এক দশক ধরে। এভাবে লোকসান গুনে কি সিনেমা হল টিকিয়ে রাখা সম্ভব? সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে হলে সিনেমা হলের কাঠামো বদলে ফেলতে হবে। অর্থাৎ আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় গড়ে তুলতে হবে। বিশাল জায়গায় প্রায় হাজার আসনের সিনেমা হল রাখার আর কোনো অর্থ নেই। এখন যা করতে হবে তা হলো, সিনেমা হলগুলো ভেঙে সেখানে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করতে হবে। সেই বাণিজ্যিক ভবনে থাকবে দুই থেকে তিন শ আসনের একাধিক সিনেমা হল। কিন্তু সিনেপ্লেক্স নয়, কারণ সিনেপ্লেক্সে ব্যয় বেশি, টিকিটের দামও বেশি। তাই মালিকপক্ষ এবং দর্শক দুইয়ের জন্যই তা অনুকূল হবে না। শহর ও মফস্বলের সাধারণ দর্শক উচ্চমূল্যে টিকিট কিনে ছবি দেখতে পারবে না। সাধারণ দর্শক সিনেপ্লেক্সের বেশি দামের টিকিটে ছবি দেখবে না। সিনেমা হল ও সিনেপ্লেক্সের দর্শক আলাদা। সিনেপ্লেক্সে একশ্রেণির দর্শক সময় কাটাতে যায়। গ্রাম-গঞ্জে এখন যাত্রাপালা, মঞ্চনাটক, জারি, সারি গানের আসর, সার্কাস, পুতুলনাচ বলতে কিছু নেই। তাঁদের যদি সিনেমার মাধ্যমে বিনোদন দেওয়া না যায় তাহলে তো তাঁরা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। এখন তো সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয়ও সারা বিশ্বের ছবি দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই দেশের প্রধান এই গণমাধ্যম সিনেমা শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে সিনেমা হল পরিবর্তনের বিকল্প নেই। মধ্যস্বত্বভোগীদেরও দূর করতে হবে।

 

হলের আধুনিকায়ন বিদেশি ছবি দরকার

ইফতেখার নওশাদ

[কর্ণধার, মধুমিতা সিনেমা]

যেহেতু দেশীয় ছবি নেই এবং উপমহাদেশীয় ছবিও আমদানি করা যাচ্ছে না, তাই হলিউডের জনপ্রিয় ছবি সিনেমা হলে একসঙ্গে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে সিনেমা হল সময়োপযোগী করে সাজাতে হবে। ১৯৭৬ সালে আমাদের মধুমিতা মুভিজের মাধ্যমে হলিউডের ছবি আমদানি করে এ দেশের সিনেমা হলে প্রদর্শন শুরু করি এবং তা ব্যাপক দর্শকগ্রহণযোগ্যতা লাভ করে। মধুমিতা সিনেমা হলে ‘টাইটানিক’ ছবিটি একটানা ২৮ সপ্তাহ প্রদর্শিত হয়। এখন আবার হলিউডের ছবি নিয়মিত আমদানি করতে যাচ্ছি এবং ছবিটি একই দিনে এ দেশেও মুক্তির ব্যবস্থা করছি। শুধু আমদানি করলে দর্শক সিনেমা হলে আসবে না। এর জন্য দরকার সিনেমা হল আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলা। এ জন্য ইতিমধ্যেই মধুমিতা হলটি সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বেলজিয়ামের অত্যাধুনিক স্যারাউন্ড সাউন্ড সিস্টেমের সাউন্ড সিস্টেম ইতিমধ্যেই আনা হয়েছে। ৩৬টি স্পিকার স্থাপন করতে ভারত থেকে টেকনিশিয়ান শিগগিরই আসছে। সিঙ্গাপুর থেকে টু কে রেজুলেশনের প্রজেক্টর ‘বারকু’ আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে সিলভার স্ক্রিনও স্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মধুমিতায় থাকবে ফুডকোর্ট ও বাচ্চাদের খেলার স্থান। ইতিমধ্যেই ওয়াশরুমসহ অভ্যন্তরীণ ডেকোরেশেনের কাজ শেষ করা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে মধুমিতা সিনেমা হল ৫৪ বছরে পা দিচ্ছে। এই বর্ষপূর্তিতেই অত্যাধুনিক সিনেমা হল হিসেবে মধুমিতার যাত্রা শুরু হবে। এই উদ্যোগটিই হচ্ছে সিনেমা হলকে ঘুরে দাঁড় করানোর শেষ চেষ্টা। আশা করছি এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে না।

 

শিল্পের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে

সুদীপ্ত কুমার দাস

[প্রধান উপদেষ্টা, প্রদর্শক সমিতি]

স্থানীয়ভাবে ছবি নির্মাণ কমেছে। চলচ্চিত্র বিনিময়ের  ক্ষেত্রে নানা শর্ত আরোপে স্বাভাবিক আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। নতুন নীতিমালার অসঙ্গতির কারণে যৌথ প্রযোজনাও বন্ধ রয়েছে। সিনেমা হল উন্নত করতে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস মানে ৬৪টি জেলায় সিনেমা হল নির্মাণ ও সিনেমা হলের সংস্কারে সরকার প্রতিশ্রুত ঋণ স্বল্প সুদে, সহজ শর্তে ও দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে প্রদান করতে হবে। চলচ্চিত্রকে শিল্প ঘোষণা করা হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু শিল্পের কোনো সুবিধাই সিনেমা হল এখন পর্যন্ত পায়নি। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিল বাণিজ্যিক হারের পরিবর্তে শিল্প হারে পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। সিনেমা হলের জন্য অন্যান্য শিল্প সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশি ছবি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণে দুই দেশে একসঙ্গে মুক্তি দিতে হবে। তাহলেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে সিনেমা হল।

 

ছবির অভাব পূরণ করতে হবে

মিয়া আলাউদ্দীন

[সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রদর্শক সমিতি]

সিনেমা হল বাঁচাতে আগে ছবির অভাব পূরণ করতে হবে। আর ছবি হতে হবে মানসম্মত। সহজ শর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণে বিদেশি ছবি আমদানি করতে দিতে হবে। যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা আবার সবার চাহিদা অনুযায়ী প্রণয়ন করতে হবে। সিনেমা হল সংস্কারে শর্তহীন ঋণ দিতে হবে। নতুন সিনেমা হল নির্মাণে সরকারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে এবং সিনেমা হলের বিদ্যুৎ বিল বাণিজ্যিক নয়, শিল্পনীতির আওতায় নিতে হবে। সিনেমা হলে প্রজেক্টর স্থাপন, সংস্কার ও ৬৪টি জেলায় সরকার ঘোষিত সিনেপ্লেক্স নির্মাণ অচিরেই বাস্তবায়ন করতে হবে।