শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৫:১৪

ভাঙতে ভাঙতেও টিকে গিয়েছে সংসার

অনলাইন ডেস্ক

ভাঙতে ভাঙতেও টিকে গিয়েছে সংসার

বলিউড তারকা আয়ুষ্মান খুরানার সঙ্গে লেখিকা-পরিচালক এবং থিয়েটার ব্যক্তিত্ব তাহিরা কাশ্যপের আলাপ বিশ্ববিদ্যালয়ে। দু’জনেই গণযোগাযোগের শিক্ষার্থী ছিলেন। থিয়েটারের প্রতি ভালবাসা থেকেই গাঢ় হয় প্রেম। দু’জনে বিয়ে করেন ২০০৮-এ। আয়ুষ্মান তখন ব্যস্ত ছিলেন টেলিভিশন শো এবং রেডিও সঞ্চালনা নিয়ে। ২০১২ সালে সুজিত সরকারের ‘ভিকি ডোনার’ তাকে নিয়ে এল বড় পর্দায়। 

এ দিকে ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে গেল, অন্যদিকে বাড়িতে উত্তপ্ত হল পরিস্থিতি। তাহিরা কিছুতেই মেনে নিতে পারতেন না তার স্বামী ছবিতে নায়িকাদের চুমু খাচ্ছেন! পরে তাহিরা বলেছেন, তার আর আয়ুষ্মানের, দু’জনেরই তখন বয়স কম। বলতে গেলে, তারা একে অন্যের জীবনে প্রথম পুরুষ এবং প্রথম নারী। ফলে অধিকারবোধ কাটিয়ে ওঠা তার পক্ষে কাটিয়ে ওঠা সহজ ছিল না।

তাহিরা নিজেও থিয়েটার-অন্ত-প্রাণ ছিলেন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু তিনি অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেননি। তিনি অধ্যাপনা করেছেন মুম্বাইয়ের মিঠিবাঈসহ নানা কলেজে। পরবর্তীকালে একটি নামী রেডিও চ্যানেলের প্রোগ্রামিং হেড ছিলেন।

কিন্তু এত দিকে শাখা বিস্তার করলেও অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার হতাশা তিনি কাটিয়ে উঠতে পারতেন না। সে সময়ে আয়ুষ্মানকে কাজ করতে দেখলেই তার হতাশা বেড়ে যেত। বুঝতে পারতেন, তার স্বামী কোনও প্রতারণা করছেন না তার সঙ্গে। কিন্তু তারপরও অভিনয় শিল্পের মাধ্যম হিসেবেও পর্দায় অন্য নায়িকার সঙ্গে স্বামীর চুম্বনদৃশ্য মেনে নিতে পারতেন না। অন্তত তিন বছর তাদের দাম্পত্য এগিয়েছে টালমাটাল পথে।যে কোনও সম্পর্ককেই তার প্রয়োজনীয় সময় দিতে হয়। সেটা তাদের সম্পর্কেও দিতে হয়েছে। দাম্পত্যের ১২ বছর পেরিয়ে সে কথা স্বীকার করেন আয়ুষ্মান-তাহিরা।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে আয়ুষ্মান ব্যস্ত ‘বাধাই হো’, ‘অন্ধাধুন’-এর প্রচারে। তাদের ছেলে বীর্যবীরের বয়স চার বছর। মেয়ে বারুষ্কা দুই বছরের। জানা গেল, তাহিরা ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত। তাহিরা রাত জেগে শুধু কাঁদতেন। আবার সকালে চোখ মুছে হাসিমুখে দাঁড়াতেন বাচ্চাদের সামনে। আয়ুষ্মান সকালে যেতেন ছবির প্রচারে। রাত জাগতেন দুশ্চিন্তায়। স্টেজ ওয়ান ব্রেস্ট ক্যানসার জয় করেছেন তাহিরা নিজেই। তার মানসিক দৃঢ়তা আর বাঁচার ইচ্ছে দিয়ে। বলেন আয়ুষ্মান। আর তাহিরা নিজে বলেন, আয়ুষ্মান পাশে না থাকলে তিনি এই যুদ্ধে জয়ী হতে পারতেন না।

আয়ুষ্মান এখন কেরিয়ারে সাফল্যের শীর্ষে। নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে জাতীয় পুরস্কার। তাহিরাও উজ্জ্বল নিজের কক্ষপথে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেমিক জুটি থেকে আজ তারা জীবনযুদ্ধে পোড় খাওয়া দম্পতি। একসঙ্গে কলমও ধরেছেন সেই গল্প জানাতে, আয়ুষ্মানের জীবনী ‘ক্র্যাকিং দ্য কোড’-এ। স্বামীর সঙ্গে তাহিরাও এই বইয়ের সহলেখিকা। জীবনকে বইয়ের পাতার মতোই উপভোগ করতে চান তারা। যেখানে দিন ফুরিয়ে যায় পরের দিনটাকে দেখার ইচ্ছে নিয়ে। ঠিক যেমন বইয়ের একটা পৃষ্ঠা পড়া শেষ হয় পরের পৃষ্ঠায় কী আছে জানার জন্য। 

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য