শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:১৩
আপডেট : ২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:১৬

আমার অনেক একলা লাগে...

জসিম মল্লিক

আমার অনেক একলা লাগে...

ছেলে আর মেয়েতে অনেক পার্থক্য। এই যেমন অর্ক অরিত্রির কথাই ধরা যাক। দুজনের কেউই আমাদের সাথে থাকে না। জেসমিন যখন সকালে কাজে যায় তখন আমি একলা থাকি। আবার আমি যখন যাই তখন জেসমিন একলা থাকে। জেসমিন তাও ফোনে কথা বলে সময় কাটাতে পারে। একদিকে রান্না করছে অন্যদিকে কানে ফোন আঠার মতো লেগে আছে। মেয়েদের অনেক কথা থাকে। প্রতিদিন এতো কথা কেমনে বলে! আমি একদম ফোনে কথা বলতে পারি না। আমার ফোন বেজে উঠলে আমি অবাক বিস্ময়ে নম্বরের দিকে তাকিয়ে থাকি।

আচ্ছা ফোন জিনিসটা কে আবিষ্কার করেছে! যখন কেউ বলে আপনার সাথে কথা আছে, ফোন করতে পারি! তখন আমি ঘাবরে যাই। নানা তাল বাহানা করি, কথা যাতে না বলতে হয়। এর কারণ হচ্ছে আমার তেমন কথা থাকে না। আমার বাক্যের অভাব। এক কথা দু’কথার পরই আমার কথার স্টক শেষ হয়ে যায়। এমনও হয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ফোন করেছে, সে কথা বলছে আমি ফোন কানে লাগিয়ে বসে আছি কিন্তু কি বলছে শুনছি না, আমি অন্যমনষ্ক হয়ে যাই। কি ভয়াবহ কথা! কিন্তু আমি লিখে ভাল বোঝাতে পারি।
বিষয় সেটা না। বিষয় হচ্ছে ছেলেতে মেয়েতে পার্থক্য। অর্ক যেমন সপ্তাহান্তে একবার আসে বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে। অনেকটা অফিস করার মতো। আগেই ফোন করে জেনে নেবে আমরা কখন ফ্রী আছি। ঠিক সময়মতো আসবে, যেনো টাইম একটু এদিক ওদিক হলে ফাইন হয়ে যাবে। তারপর খাওয়া দাওয়া করবে, কিছু গল্প হবে তারপর বউ নিয়ে চলে যাবে। কোভিড শুরুর সময় একটানা অনেকদিন বাসায় আসেনি। বাড়ির বাইরে থেকে দেখা করে চলে যেতো।
কিন্তু অরিত্রি একদম ভিন্ন। অরিত্রি একটু রিজার্ভ বটে কিন্তু ফিলিংস আলাদা। কোভিডের সময়ও হুটহাট এসেছে। এমনকি থেকেছেও। এই যেমন পুরো এক সপ্তাহ আমাদের সাথে থেকে আজ রাতে চলে গেলো। এই এক সপ্তাহ মোটেই একলা লাগেনি আমাদের। সকালে চা বানিয়ে দিয়েছি। একটা রুম ওর অফিস করে দিয়েছি। সারাদিন অফিস নিয়ে ব্যস্ত থাকে বটে কিন্তু ঘরটা খালি লাগে না। অরিত্রি পুরো বাসা জুড়ে থাকে। সারা ঘরে লাইট জ্বালিয়ে রাখে। এ ঘর ওঘর করে। টিভিতে খেলা দেখে, ল্যাপটপ নিয়ে বসে, গল্প করে, একসাথে খায়। অরত্রি চলে গেলো রাতে, কাল থেকে অনেক একলা লাগবে আমার! মেয়েরা কেনো যে চলে যায়! আমি অনেকগুলো মেয়ে চেয়েছিলাম, সারাক্ষন আমাকে ঘিরে থাকবে…।
টরন্টো ২৭ অক্টোবর ২০২০

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর