শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৩:২৩

বিদেশি গাছের আধিক্যে পাখি কমছে গ্রামেও

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

বিদেশি গাছের আধিক্যে পাখি কমছে গ্রামেও

বাসা বানানো ও খাবার উপযোগী দেশি গাছ না থাকায় কুমিল্লার গ্রামেও কমছে পাখি। আগে বিভিন্ন দেশিয় গাছে পাখি বাসা বাঁধলেও এখন তা নেই। ‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়ুই, কুড়ে ঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে’ রজনীকান্ত সেনের 'স্বাধীনতার সুখ' কবিতায় পাখিদের যে অবস্থানের কথা বলা হয়েছে এখন তা বাস্তবে তেমন নজরে পড়ে না। ঘরের কুঠরি, তাল গাছের পাতা, ঘরের মাটির সিঁড়ি, গাছের ডাল কোথাও পাখি দেখা যাচ্ছে না।

পাঁচ বছর আগে চড়ুই, ঘুঘু, শালিক, বুলবুলি, বাবুই, মাছরাঙা, বক গ্রামের পরিবেশে প্রচুর পরিমাণে দেখা মিললেও এখন তা কম দেখা যাচ্ছে। ভুতি জাম, বড় ডালওয়ালা গাছ, ছোট ফলওয়ালা গাছে পাখি বাসা বাঁধতো। এখন আকাশিসহ নানা বিদেশি গাছ লাগানো হচ্ছে। এগুলোতে পাখি বাসা বাঁধার সুযোগ পাচ্ছে না। খাবার পাচ্ছে না। গাছগুলো পাখির সাথে পরিচিত না হওয়ায় তাতে পাখিও বসছে না।

বিশেষজ্ঞরা জানান, পাখি কমে যাওয়ায় পরিবেশে ক্ষতিকর পোকা বাড়ছে। পোকা মারতে কীটনাশক প্রয়োগ করায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন শিশুদের পাখি চেনানোর উপায় নেই। বইয়ের পাতার ছবি দেখিয়ে শিশুদের পাখি চেনাতে হচ্ছে।

ওয়াইল্ড ওয়াচ ইনফো কুমিল্লার পরিচালক জামিল খান বলেন, বাণিজ্যিকভাবে বাগান করা হচ্ছে বিদেশি গাছ দিয়ে। সেখানে পাখি নামছে না। বাড়ির চারপাশে দেশি গাছ লাগানো উচিত। পশু পাখির আবাসের জন্য গুল্ম জাতীয় গাছ বেশি প্রয়োজন।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক অমিতাভ কুমার বাড়ৈ বলেন, পাখি শিকার বন্ধ করতে হবে। পাখি বাসা বানানোর উপযোগী গাছ লাগাতে হবে। যেখানে বাসা  বানানো যায় ও খাবারের সংকুলান হবে সেখানে পাখি আসবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর মো. কামরুল হাসান বলেন, হয়তো কম সময়ে পাখি না থাকার বিরূপ প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে না। তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির প্রয়োজন রয়েছে। পাখি রক্ষায় দেশি গাছ লাগাতে হবে। পাখি শিকার রোধ ও পাখি সংরক্ষণে সচেতন মানুষের সাথে প্রশাসনকেও ভূমিকা রাখতে হবে।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর