শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩০

বঙ্গবন্ধুর সেই আহমেদ আলীর চোখে সম্মেলন

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী বলেছেন, ‘সম্মেলনে শুধু স্তুতিগান নয়, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যেরও সম্মিলন দেখতে চাই।’ কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁওয়ের নিজ বাসায় আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী বলেন, ‘দলের ৫০ বছর পূর্তিতে যে অনুষ্ঠান হয়েছিল, সেখানে শুধু স্তুতিগান হয়েছিল। আমি চাই প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ তার ঐতিহ্যও যেন তুলে ধরে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে যে ৪৬৭ জন স্বাক্ষর করেন, তাদের মধ্যে বৃহত্তর কুমিল্লার ৪০ জন। বর্তমানে তাদের তিনজন বেঁচে আছেন। এর মধ্যে আমি, মুরাদনগরের আবুল হাশেম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এমদাদুল বারী বেঁচে আছেন। সংবিধানে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে কাউকে সম্মেলনে নিয়ে ইতিহাসের কথা, ঐতিহ্যের কথা শোনা যেতে পারে। দলের প্রতিষ্ঠাতারা কেউ বেঁচে নেই। তবে ওই সময়ের ছাত্রলীগ নেতাদের মুখ থেকে আওয়ামী লীগের ত্যাগের-সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে শোনানো যেতে পারে।’ নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর গায়ের চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানাতে চেয়েছিল, যারা দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল, তাদের দলে নিতে হবে কেন? দলে কি নেতা-কর্মীর অভাব পড়েছে? জামায়াত-যুদ্ধাপরাধীদের দলে না নেওয়ার বিষয়ে কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হাইব্রিড নেতাদের থেকে দলকে রক্ষা করতে হবে। ত্যাগের রাজনীতিতে নেতা-কর্মীদের উদ্বুদ্ধ হতে হবে। ত্যাগী ও জনমুখী নেতাকে নেতৃত্বে আনতে হবে।’

বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে স্মৃতিচারণা করে অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে প্রথম দেখি ১৯৪৮ সালে। আমি তখন মাত্র মেট্রিক পাস করেছি। আমার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়। উপজেলার কৃষ্ণনগরে বঙ্গবন্ধু একটি স্কুল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তখন তরুণ নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের অনেক নামডাক। প্রথম দেখায় তাকে আমার পছন্দ হয়নি। ছিপছিপে গড়নের ছিলেন। কিন্তু বক্তব্যের সময় দেখলাম, তার মুখ দিয়ে আগুনের গোলা বের হচ্ছে। আমি স্থানীয় স্কুল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। রাতে তিনি ওই এলাকায় ছিলেন। সন্ধ্যায় তার সঙ্গে পরিচিত হই। প্রথম সাক্ষাতে তিনি আমাকে আপন করে নেন। সেই থেকে শুরু। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার সঙ্গে সুখে-দুঃখে জড়িয়ে ছিলাম। ঢাকা থেকে কুমিল্লা, সিলেট, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম যেতে তিনি আমার বাসায় উঠতেন। আমার টিনের চালা আর মুলি বাঁশের বেড়ার ঘরে অনেক রাত কাটিয়েছেন তিনি। যাওয়ার সময় আমার স্ত্রীকে বলে যেতেন, তোমার থেকে যত সেবা নিয়েছি, আমার আপন বোন থেকেও এত সেবা নিইনি।’ প্রবীণ এই নেতার এখন সময় কাটে বই পড়ে আর লেখালেখি করে। আওয়ামী লীগের কাউন্সিল উপলক্ষে তিনি একটি বই প্রকাশ করেছেন। বইয়ের নাম ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস’। তার বিশ্বাস, বইটি পড়লে আওয়ামী লীগের সংগ্রাম, ত্যাগ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারবে নতুন প্রজন্ম।


আপনার মন্তব্য