শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৪

তত্ত্বাবধায়ক মুখ্য নয়, সুষ্ঠু ভোট চায় বিএনপি

মাহমুদ আজহার

তত্ত্বাবধায়ক মুখ্য নয়, সুষ্ঠু ভোট চায় বিএনপি

সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা পেলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখনই হোক তাতে অংশ নেবে বিএনপি। তবে সবার মতামতের ভিত্তিতে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন চায় দলটি। বিএনপি মনে করে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও শক্তিশালী হলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনেকাংশেই সম্ভব। তাই এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিকে মুখ্য করে দেখছে না দলটি। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের দাবিতে আগামী নভেম্বর থেকে মাঠে নামারও চিন্তা-ভাবনা করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। আগামী কাল রবিবার জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকও ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।  এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে বিএনপির তৃণমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্রের প্রতি চাপ রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের নেতাদের একটি বড় অংশই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হোমওয়ার্কও শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পাওয়ার পরও অনেকেই তৃণমূলের নেতৃত্বেই থাকতে ইচ্ছা পোষণ করছেন। এর কারণ হলো—নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়া। সূত্রে জানা যায়, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের নিশ্চয়তার দাবি নিয়ে এগুচ্ছে বিএনপি। এ জন্য তারা ফের এ ইস্যুতে মাঠে নামারও চিন্তা-ভাবনা করছে। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতেও ঘুরে-ফিরে ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের নিশ্চয়তা’র বিষয়টি উঠে আসছে। এদিকে পরপর দুই মেয়াদে নির্বাচন বর্জন করলে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যেতে পারে। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বিধিমালার এমন বাধ্যবাধকতার খগড়ও রয়েছে বিএনপির ওপর। ২০১১ সালে আদালতের এক রায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর সরকার সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। তখন থেকেই বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান আগের মতোই আছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছি। এখনো আন্দোলনেই আছি। আমরা মনে করি, সুষ্ঠু ভোটের জন্য প্রয়োজন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য অন্তর্বতীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন। আমরা আশা করছি, ক্ষমতাসীন দল সবার মতামতের ভিত্তিতেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। একইভাবে দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন দেবে। জানা যায়, নভেম্বরে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ইস্যুকে নিয়ে বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। এতে অংশ নিতে পারেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার চিন্তা রয়েছে দলটির হাইকমান্ডের। এর আগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৮ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও জনসভা করবে বিএনপি। সেখানেও বেগম জিয়ার বক্তৃতায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে জোরালো বক্তব্য থাকবে বলে জানা গেছে।  বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনও পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি। ওই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আন্দোলন কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। এ নিয়ে তৈরি করা হবে নতুন রোডম্যাপ। হিলারি ক্লিনটন জয়ী হলে কর্মসূচির মেজাজ ভিন্ন রকম হতে পারে। এ ছাড়া নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ব্রাসেলসে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বৈঠক রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। বৈঠকে নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি মতামত দেবে ইইউ। সুষ্ঠু নির্বাচনে ওই বৈঠকে কিছু প্রস্তাবও দেওয়া হবে। ওই বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি।  এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সাহসী ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিয়োগ দিতে হবে। আমরা বলি না যে নির্বাচন কমিশনে আমাদের পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে হবে। ইসি কারও লোক হবে না। যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, তারা কেবল নির্বাচন কমিশনের লোক হবেন। কিন্তু বিগত সময়ে এমন লোক দিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছিল, আর তারা এমন লোক নিয়োগ দিয়েছেন, যারা সরকারের কাজ ছাড়া কিছু করে না। এমন লোকেরা জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করতে পারেননি। এ রকম নির্বাচন কমিশন জনগণ চায় না।

কাল জোটের বৈঠক : দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও নতুন কর্মসূচি ঠিক করতে আগামীকাল বৈঠক করবেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের নেতারা। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর ১২টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার উল্লিখিত বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে আগাম বৈঠক করেছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর