শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:০৮

কূটনীতিকদের জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় এখনো রোহিঙ্গা ঢল

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় এখনো রোহিঙ্গা ঢল

মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় এখনো রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি গতকাল ঢাকার বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন; যার মধ্যে গত ১০ দিনেই এসেছেন ৪০ হাজার। এ ছাড়া মিয়ানমার ১৯৯২ সালের যে চুক্তিতে প্রত্যাবাসনের কথা বলেছে তা বর্তমান বাস্তবতায় গ্রহণযোগ্য নয় বলেও কূটনীতিকদের জানিয়েছেন মন্ত্রী। বলেছেন, এজন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের যৌথ ভেরিফিকেশনের জন্য ১৯৭৮-৭৯ ও ১৯৯২-৯৩ সালের সমঝোতাকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঢাকায় থাকা অস্ট্রেলিয়া, চীন, মিসর, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, রাশিয়া, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, ভারত, নেদারল্যান্ডস, ভ্যাটিকান, ফিলিপাইন্স, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই দারুসসালাম, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও মিশনপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনীতিকদের রোহিঙ্গা ইস্যুর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করেন। রাখাইন রাজ্যে নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় রোহিঙ্গারা এখনো সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুসারে, ২৫ আগস্ট থেকে ৫ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে গত ১০ দিনে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ে তার আমন্ত্রণে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির দফতরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা তাকে জানিয়েছি বাংলাদেশে ৯ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আছেন এবং আমরা চাই সবাই যেন শান্তিপূর্ণ উপায়ে ফেরত যান।’ মন্ত্রী কূটনীতিকদের জানান, আমরা গত মে মাসে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য একটি অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছিলাম এবং ২৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সেটিকে পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করে সেপ্টেম্বরে আরেকটি প্রস্তাব মিয়ানমারকে দেওয়া হয়। মিয়ানমারের মন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছিলেন ২০১৬ সালের অক্টোবরের পরে যারা তাদের দেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ভেরিফিকেশন-সাপেক্ষে তাদের প্রত্যাবাসনে তারা রাজি। ভেরিফিকেশনের জন্য তারা ১৯৯২ সালে গৃহীত যৌথ বিবৃতিকে ভিত্তি হিসেবে ধরার প্রস্তাব করেন। এর জবাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন তাদের বেশির ভাগেরই বাড়িঘর পুড়ে গেছে এবং প্রায় কারও কাছেই কোনো কাগজপত্র নেই। এ ছাড়া মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ নিজেই বলেছে অর্ধেক রোহিঙ্গার বাড়িঘর পুড়ে গেছে। আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে ১৯৯২ সালের সমঝোতা অনুযায়ী প্রত্যাবাসন বর্তমানে বাস্তবসম্মত নয়। যেহেতু রোহিঙ্গাদের কাছে কোনো কাগজ নেই, তাই আমরা চাই কোনো রোহিঙ্গা যদি তাদের বাড়ির ঠিকানা বলতে পারেন, ভেরিফিকেশন করার জন্য সেটাই মানদণ্ড হওয়া উচিত। এ ছাড়া এ ক্ষেত্রে যৌথ ভেরিফিকেশন ও সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক সংস্থার সাহায্য নেওয়ার কথা বলেছি। এই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নতুন একটি সমঝোতার প্রয়োজন এবং তার একটি খসড়া মিয়ানমারের মন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে বলেও কূটনীতিকদের জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নতুন সমঝোতায় বলা হয়েছে, ১৯৭৮-৭৯ ও ১৯৯২-৯৩ সালের সমঝোতাকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া যৌথ ভেরিফিকেশন, সব রোহিঙ্গাকে ফেরত, ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের তাদের বসতবাড়িতে ফেরত যেতে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া ও তাদের ইন্টারনালি ডিসপ্লেসড ক্যাম্পে স্থানান্তর না করা এবং তারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন এর জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ক্রিমিনাল চার্জ না আনার কথা নতুন সমঝোতায় বলা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা নেওয়া ও কফি আনান কমিশনের রিপোর্টেরও পূর্ণ বাস্তবায়নের বিষয়ে নতুন সমঝোতায় জোর দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী কূটনীতিকদের বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য আমরা দুই পক্ষ একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছি কিন্তু বর্তমানে যেটি জরুরি ভিত্তিতে দরকার তা হচ্ছে আমাদের সমঝোতা প্রস্তাব সম্পর্কে মিয়ানমারের উত্তর। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর নীতি ও কীভাবে তাদের ফেরত পাঠানো হবে তা নির্ধারণ করা সবার আগে দরকার এবং এরপর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের টার্মস অব রেফারেন্স এবং কারা এই গ্রুপে থাকবে তা ঠিক করা যাবে বলে মন্ত্রী কূটনীতিকদের জানান। তিনি এই সামগ্রিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করে বলেন, ‘আমরা আশা করি এ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আপনারা চাপ বজায় রাখবেন।’ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর