শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩৬

কোনো উৎসাহ নেই আজ ঢাকা উত্তর সিটি ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনো উৎসাহ নেই আজ ঢাকা উত্তর সিটি ভোট

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের উপনির্বাচন এবং উত্তর-দক্ষিণের নতুন ৩৬ ওয়ার্ডের সাধারণ নির্বাচন আজ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। তবে উত্তরের মেয়র পদের ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে কোনো উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই। মেয়র পদের উপনির্বাচন নিয়ে প্রচার-প্রচারণাও তেমনটা ছিল না। তবে কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোট নিয়ে ব্যাপক সরব ছিলেন। প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। ভোট উপলক্ষে ঢাকায় আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা সাধারণ ছুটির বাইরে থাকবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদের উপনির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা মঙ্গলবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল মেয়র পদের ব্যালট ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আজ সকালে নতুন ৩৬ ওয়ার্ডে ভোটের ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। তারা বলেন, আজ উত্তর সিটির ৫৪টি ওয়ার্ডে মেয়র পদে এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোট হবে। ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে, জাতীয় পার্টির শাফিন আহমেদ লাঙ্গল প্রতীক, এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান আম প্রতীক, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রহিম টেবিল ঘড়ি প্রতীক এবং পিডিপির শাহীন খান বাঘ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসির যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং উত্তর এবং দক্ষিণ সিটির সম্প্রসারিত ৩৬টি ওয়ার্ড ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে সাধারণ নির্বাচন হবে আজ। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটির ৯ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মারা যাওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় ভোটের আর প্রয়োজন হচ্ছে না।

নিরাপত্তা : প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭২ জন ও দক্ষিণ সিটিতে ২৪ জন নির্বাহী হাকিম নিয়োজিত রয়েছেন। বিচারিক হাকিম রয়েছেন ২৪ জন।

প্রার্থী ৩২২ জন : উত্তর সিটি মেয়র পদে ৫ জন, উত্তরের সম্প্রসারিত ১৮ ওয়ার্ড: সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১৬ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৪৫ জন। উত্তরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড:  একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া উত্তরের ২১ নম্বর ওয়ার্ড ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। দক্ষিণের সম্প্রসারিত ১৮ ওয়ার্ড : সাধারণ ওয়ার্ডে ১২৫ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ২৪ জন প্রার্থী রয়েছেন।

উত্তর সিটি : সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮, ভোটকেন্দ্র ১২৯৫,  ভোটকক্ষ ৬৪৮২, ভোটার ৩০৩৫৬২১ জন; পুরুষ ১৫৬৩৫৩০, নারী ১৪৭২০৯১। নতুন সাধারণ ওয়ার্ড ১৮, সংরক্ষিত ৬, ভোটকেন্দ্র ২৪৩,  ভোটকক্ষ ১৪৭২, ভোটার ৫৯০৭০৫; পুরুষ ২৯৮২৮৫, নারী ২৯২৪২০। দক্ষিণ সিটির নতুন সাধারণ ওয়ার্ড ১৮, সংরক্ষিত ৬, ভোটকেন্দ্র ২৩৫,  ভোটকক্ষ ১২৫২,  ভোটার ৪৯৬৭৩৫; পুরুষ ২৫৪৪৯৭, মহিলা ২৪২২৩৮।

আজ সকালে যাচ্ছে ব্যালট পেপার : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের ৩৬ ওয়ার্ডে আজ সকাল ৬ টায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হচ্ছে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, গতকাল মেয়র পদে ব্যালট পেপার বিতরণ করা হয়েছে উত্তরের ৩৬ ওয়ার্ডে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে উত্তরের ১৮ ওয়ার্ডে মেয়র ও কাউন্সিলরের এবং দক্ষিণের ১৮ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ব্যালট পেপার নিরাপত্তাসহ পাঠানো হবে।

প্রধান প্রধান সড়কে যানবাহন চলবে : ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় সরকারি অফিস আদালত বন্ধ থাকবে। প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল করবে। ইমারজেন্সি যে কোনো যান চলাচল করতে পারবে। এ ছাড়াও কমিশনের স্টিকার সংবলিত গাড়ি চলাচল করতে পারবে। তবে পরীক্ষার্থীদের যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রবেশপত্র দেখিয়ে তারা নির্বাচনী এলাকায় চলাচল করতে পারবেন। মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে দেওয়া ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে- উত্তর সিটির নির্বাচনী এলাকায় গতকাল (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ২৪ ঘণ্টা যন্ত্রচালিত যানচলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। সেই সঙ্গে ২৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মহাসড়ক ছাড়াও আন্তঃজেলা ও মহানগর থেকে বের হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক, প্রধান প্রধান রাস্তার সংযোগ সড়ক বা উক্ত রূপ সব রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।

উপনির্বাচনে সব দলকে না পেয়ে অস্বস্তিতে সিইসি : ঢাকা সিটির উপনির্বাচনে বিএনপিসহ অধিকাংশ দলকে না পেয়ে কমিশনের অস্বস্তি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। কমিশনের প্রতি ‘অনাস্থা নয়’ বরং দলীয় এ সিদ্ধান্তে কমিশনের কিছু করারও নেই বলে জানান তিনি। গতকাল ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং উত্তর-দক্ষিণের সম্প্রসারিত ৩৬ ওয়ার্ডের ভোটের বিষয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিইসি একথা বলেন। গতকাল ইসির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানান, ডিএনসিসির এই উপনির্বাচন এক বছর মেয়াদি, মানুষের আগ্রহ কম থাকতে পারে। সব দলের অংশগ্রহণ চেয়েছেন তারা।

 সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, এতে আমাদের কিছু করার নেই। এটি তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেওয়া আমাদের প্রতি অনাস্থা নয়। তবে সব দলের নির্বাচনে অংশ না নেওয়া আমাদের জন্য অস্বস্তিকর। ভোটের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন সিইসি। উত্তরের উপনির্বাচন ও উত্তর-দক্ষিণের সংযুক্ত ওয়ার্ডগুলোর নির্বাচনে ভোটারদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট  দেওয়ার অনুরোধ জানাই। আমরা চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।

তিনি জানান, প্রিসাইডিং অফিসার যদি মনে করে পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তিনি ভোট বন্ধ করে শুধু কমিশনকে জানাবেন। ক্ষমতা রিটার্নিং অফিসারের কাছে। আর যদি সামগ্রিকভাবে কোনো এলাকায় ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ না থাকে তাহলে রিটার্নিং অফিসার কমিশনের অনুমতি চাইবে। পরে কমিশন যদি মনে করে গোটা এলাকায় ভোট বন্ধ করা দরকার, তাহলে কমিশন ভোট বন্ধ করতে পারে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করে দেন সিইসি।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে। প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল করবে। ইমারজেন্সি যে কোনো যান চলাচল করতে পারবে। এ ছাড়াও কমিশনের স্টিকার সংবলিত গাড়ি চলাচল করতে পারবে। তবে পরীক্ষার্থীদের যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রবেশপত্র দেখিয়ে তারা নির্বাচনী এলাকায় চলাচল করতে পারবেন।


আপনার মন্তব্য