Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ মার্চ, ২০১৯ ২৩:০৫

অস্ত্রের ঘোষণা না দিলে গ্রেফতার

দেশের সব বিমানবন্দরে কড়াকড়ি

মির্জা মেহেদী তমাল

অস্ত্রের ঘোষণা না দিলে গ্রেফতার

ঘোষণা ছাড়া বিমানবন্দরে অস্ত্র নিয়ে ঢুকলেই গ্রেফতার-এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিভিল এভিয়েশন। অস্ত্রধারী যাত্রী যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অস্ত্র নিয়ে পর পর দুটো অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায়, একই সঙ্গে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও দেশের সব বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে নি-িদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যাত্রীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ বহনে আইকাও গাইড অনুসরণের বিন্দুুমাত্র ত্রুটি পাওয়া গেলে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। গতকাল হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কনফারেন্সে মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাদের দীর্ঘ বৈঠকে এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান বলেছেন, কাউকে আর মিথ্যাচার করারও সুযোগ দেওয়া হবে না। দেশের স্বার্থে আমাদের আরও কঠোর হতে হচ্ছে। জানা গেছে, বেলা ১০টায় শাহজালালের কনফারেন্স রুমে মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান, মেম্বার (অপস) মোস্তাফিজুর রহমান, মেম্বার সিকিউরিটির শাহ মো. ইমদাদুল হক, পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ আল ফারুক ও এভসেক পরিচালক উইং কমান্ডার নূরে আলম সিদ্দিকসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে বসেন। প্রায় চার ঘণ্টার এই রুদ্বদ্ধার বৈঠকে শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন কর্তা জানান, নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিটি ইস্যু নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। কীভাবে নিরাপত্তা ফাঁকি দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তথাকথিত সেলিব্রেটি ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গরা দেহ ও লাগেজ তল্লাশির সময় বিরক্তবোধ করলে তাদের হ্যান্ডল করার কৌশল, হ্যান্ডব্যাগে খেলনা পিস্তল পাওয়া গেলেও তা রেখে দেওয়া, জনবল বাড়ানো, প্রয়োজনীয় যেখানে লোকবলের ঘাটতি আছে সেগুলো জরুরি ভিত্তিতে পূরণ করা ছাড়াও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। এ সময় বেবিচক থেকে জানানো হয়-এখনো নিরাপত্তার প্রতিটি পয়েন্টে জনবলের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এসব শোনার পর সচিব মুহিবুল হক নতুন অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ স¤পন্ন করার নির্দেশ দেন। তিনি স্ক্যানার মেশিন ঠিকমতো কাজ করে কিনা এ জন্য প্রতিদিন নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন। বৈঠকে সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে একজন কর্মকর্তা বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চনের পর গত শুক্রবার মানবাধিকার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান পরিচয়দানকারী খন্দকার মামুন আলীর শরীর তল্লাশি করে যখন অস্ত্র ধরেছে নিরাপত্তাকর্মীরা, তখন তিনি সরি বলে ক্ষমা চান। মুচলেকা দিয়ে পার পান। এক্ষেত্রে তাদের একটু সম্মান দেখানোটা সমীচীন হয়েছে নাকি সঙ্গে সঙ্গে অ্যারেস্ট করা উচিত ছিল- এমন প্রশ্নও রাখেন সেই কর্তা। তখন উপস্থিত সবাই একবাক্যে মন্তব্য করেন, ইলিয়াস কাঞ্চনকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে লাইসেন্স বাতিল করা হলে পরদিন আর মামুন আকতার এমন সাহস পেতেন না। কাজেই আর ভদ্রতা ও নমনীয়তা নয়, কঠোর হতে হবে শতভাগ। যা হয় হোক, যত সেলিব্রেটিই বা ক্ষমতাবান হোক, ছাড় দেওয়া হবে না কাউকে। বৈঠক চলা অবস্থায় একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ফোন করে একজন সেনা কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, তিনি অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে লম্বা লাইনে আটকা পড়েছেন। একই সময় আরও দুজন প্রভাবশালী সচিব ফোন করে খেদোক্তি করেন-তাকে কেন লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ যাত্রীদের মতো জুতা-মোজা খুলতে হবে। এসব অভিযোগ শুনে একজন বেবিচক কর্তা বেশ বিনীতভাবে জানান-নিরাপত্তার স্বার্থেই কিছু নিয়ম সবাইকে মানতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে করার কিছুই নেই। আর ছাড় দেবে না সিভিল এভিয়েশন।  বেবিচক সূত্র জানিয়েছে- সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন বাহিনীর চৌকস সদস্যদের নিয়ে গঠিত এভসেক-এ কত জনবল ঘাটতি আছে তা দু-এক দিনের মধ্যেই পূরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এভসেক নিরাপত্তাকর্মীদের প্রয়োজনে আরও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দিয়ে ডিউটি করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তখন এভসেক সদস্যরা কোনো ধরনের বিশেষ ভাতাদি ছাড়াই সার্বক্ষণিক অমানুষিক পরিশ্রম করেন। অথচ তাদের জন্য শাহজালালে স্বল্পমূল্যে লাঞ্চ করা বা চা-বিস্কুট পর্যন্ত খাওয়ার সুযোগ নেই। এতে অবিলম্বে তাদের জন্য স্টাফ ক্যান্টিন চালু করার মতামত দেওয়া হয়।


আপনার মন্তব্য