Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মার্চ, ২০১৯ ২৩:১৪

ভোটারশূন্য ভোট কেন্দ্র

আওয়ামী লীগ ৫৯ বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র ৩২ জাপার ২ জন বিজয়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোটারশূন্য ভোট কেন্দ্র
বগুড়ার মাটিডালি কেন্দ্রে আনসার সদস্যদের দিয়ে পর্যবেক্ষক দলের ফটোসেশন

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে গতকাল ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল ভোটারবিহীন। কেন্দ্রগুলোয় ছিল সুনসান নীরবতা। বুথগুলো ছিল ফাঁকা। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একটি কেন্দ্রের একটি বুথে কোনো ভোটই পড়েনি। ওই কেন্দ্রে প্রায় চার হাজার ভোটের মধ্যে কাস্ট হয়েছে মাত্র ৪১ ভোট। ভোটগ্রহণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ফটোসেশন করে সময় পার করেছেন। বসে অলস সময় কাটিয়েছেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। আবার দেশের কোনো কোনো উপজেলায় মারামারি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত চারজন। আহতও হয়েছেন অনেকে। পাহাড়ে বন্দুকধারীদের গুলিতে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করা সাতজন নিহত হয়েছেন। কোথাও সরকারদলীয় প্রার্থী স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছেন। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই নির্বাচিত হয়েছেন ২৩ জন চেয়ারম্যান ও ২৫ জন ভাইস চেয়ারম্যান। গতকাল ছিল পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপ। এই ধাপে ১২৯টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১১৬টি উপজেলায়। বাকি ১৩টির মধ্যে ছয়টি উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ছয়টিতে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে একটি উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল দেশের ৮৭টি উপজেলায়। কিন্তু আদালতের আদেশে তিনটি উপজেলায় স্থগিত ও নির্বাচন কমিশন তিনটি উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করে। বাকি ৭৮টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে আবার ১৫টি উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ১৩টি উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যানরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। প্রথম ধাপের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। কিছু কেন্দ্রে মারামারির ঘটনাও ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেও ভোটার  ছিল না বললেই চলে।

মৌলভীবাজারের এক বুথে কোনো ভোট পড়েনি : মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজার পৌর শহরের কাশিনাথ আলাউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ৯টি বুথের মধ্যে ১টি বুথে সারা দিনে কোনো ভোট পড়েনি। এ কথা স্বীকার করেছেন দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসার নীলাদ্রি শেখর দাস। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল দুই হাজার ৯৯৭টি। আর ভোট পড়েছে মাত্র ৪১টি। প্রিসাইডিং অফিসার জানিয়েছেন  এই কেন্দ্রের ১ নম্বর বুথে ৪টি, ২ নম্বর বুথে ৫টি, ৩ নম্বর বুথে ২টি, ৪ নম্বর বুথে ৬টি, ৫ নম্বর বুথে ৭টি, ৬ নম্বর বুথে ৩টি, ৭ নম্বর বুথে ৪টি এবং ৮ নম্বর বুথে ১০টি ভোট পড়েছে। ৯ নম্বর বুথে একটিও ভোট পড়েনি। অথচ অন্যান্য সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে এই কেন্দ্রে ২ হাজারের বেশি ভোট কাস্ট হতো। এই কেন্দ্রটি মহিলা ভোটার কেন্দ্র। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ভোট নিয়ে তাদের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই। অবশ্য ওই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন নৌকার প্রার্থী মো. কামাল হোসেন।

জেলার রাজনগর উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকার প্রার্থী আছকির খান পুলিশ প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে। সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান খান পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জাল ভোটসহ কেন্দ্র দখল করছেন। নৌকার ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। সিলেট অফিস জানিয়েছে, সিলেট জেলার ১২টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া ভোট গ্রহণ ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে সব উপজেলায় ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এ কারণে বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে গল্পগুজব করে অলস সময় পার করেছেন। এর মধ্যেই কয়েকটি কেন্দ্রে বিক্ষিপ্ত গোলযোগ হয়। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা ও ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। এ সময় পুলিশ চার জনকে আটক করে। খবর পেয়ে বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করলে ১২টা ৫৫ মিনিটে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিয়ানীবাজার উপজেলার কাকরদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদানকে কেন্দ্র করে সকালে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে। সেখানেও বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দির একটি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে কিছু সময় বন্ধ থাকে ভোটগ্রহণ। জকিগঞ্জের তিরাশী গ্রাম ভোটকেন্দ্রে বিকাল ৩টার দিকে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সজল কুমার সিংহ ও মাওলানা আবদুস সবুরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি ছোড়ে। বিশ্বনাথ প্রতিনিধি জানান, বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি নেতা ‘নিখোঁজ’ এম ইলিয়াস আলীর নিজ ভোটকেন্দ্র রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবার নৌকা জয়লাভ করেছে। তার অন্তর্ধানের পর ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে যায়নি কেউ। একটি ভোটও পড়েনি। তবে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ নেতা এস এম নুনু মিয়া পান ২৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ২৫৮ ভোট। শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শ্রীমঙ্গলে উপজেলা নির্বাচনে কোথাও কোনো গোলযোগের ঘটনা না ঘটলেও ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি একেবারেই কম। বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, ভোটারদের কম উপস্থিতির মধ্যেই বান্দরবানের ৭ উপজেলায় ভোট গ্রহণ হয়েছে। তবে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার উত্তর ঘুমধুম এলাকায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর দুই সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সকালে কয়েকটি কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সংখ্যা কমে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, জেলার পানছড়ি উপজেলায় ভোট কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগে ৩টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। একই অভিযোগে দীঘিনালা উপজেলায় আঞ্চলিক দল জেএসএস (এমএনলারমা) সমর্থিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দুপুর ১২টার পর নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য সড়ক অবরোধের ডাক দেন। এ ছাড়া উপজেলা সদরের কেন্দ্রগুলোতে সকাল ৮টা থেকে পাহাড়ি-বাঙালি নারী ও পুরুষ ভোটারদের লাইন ছিল। সদরের বাইরের কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ছিল সেনা ও বিজিবির স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ তিন স্তরের নিরাপত্তা। রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, রাঙামাটির তিন উপজেলার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সমর্থিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ মোট ৮ প্রার্থী দুপুর ১২টার দিকে ভোট বর্জন করেছেন। ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে অনিয়ম-অসন্তোষ প্রকাশ করে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জন ঘোষণা দেন। ভোট বর্জনকারী তিন উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, বাঘাইছড়ির বড়ঋষি চাকমা, নানিয়ারচরের সমিরণ চাকমা ও কাউখালী উপজেলার অর্জন মণি চাকমা। চট্টগ্রাম অফিস জানিয়েছে, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার পাঁচটি উপজেলায় নিরুত্তাপ ভোট হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। ভোটারদের তেমন উপস্থিতি ছিল না কেন্দ্রগুলোতে। এর মধ্যেই দুপুর ১২টার দিকে রাঙ্গুনিয়ায় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আকতার হোসেন (মোমবাতি) ভোট বর্জন করেন। তার অভিযোগ, সকাল ৮টা থেকে নয়টা পর্যন্ত সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। এরপর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া শুরু হয়। ভোট কারচুপি ও ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়। হাটহাজারী উপজেলায় জাল ভোট দেওয়ার সময় ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী উদয় সেনকে হাতেনাতে ধরেছে কর্তৃপক্ষ। তিনি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ভয় ভীতি দেখিয়ে নিজেই ১০০টির মতো জাল ভোট দিয়েছেন। এ ছাড়া হাটহাজারী কলেজ কেন্দ্র ছাড়া আরও ৩টি ভোটকেন্দ্র থেকে ৭০০ জাল ব্যালট জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। উপজেলার দক্ষিণ পূর্ব  মেখল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গড়দুয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় এবং মনজুরুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে এসব জাল ব্যালট জব্দ করা হয়। নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, জেলার ১০টি উপজেলায় ভোটগ্রহণকালে পুলিশ ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি বিজিবি ও র‌্যাবের টহল থাকলেও ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তবে অনেক কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল। নওগাঁর মহাদেবপুরে পাঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মাজেদুল ইসলাম (৪৮) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সকাল সাড়ে ৮টায় মারা যান। তিনি মহাদেবপুর হাজী দানেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার ৫টি উপজেলায় উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। ফুলছড়ি উপজেলায় মদনের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে চেয়ারম্যান পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী বেলাল হোসেন ইউসুফকে আটক করে পুলিশ।

বিজয়ী যারা-সিলেট বিভাগে- সিলেটে ১২ উপজেলার মধ্যে ৮টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে পাঁচটিতেই জয়ী হয়েছেন তারা। এই পাঁচ বিদ্রোহী হলেন- জৈন্তাপুর উপজেলায় কামাল আহমদ, গোয়াইনঘাটে ফারুক আহমদ, ফেঞ্চুগঞ্জে নুরুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জে শামীম আহমদ ও বিয়ানীবাজারে আবুল কাশেম পল্লব। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন- সিলেট সদরে আশফাক আহমদ, দক্ষিণ সুরমায় আবু জাহিদ, বিশ্বনাথে এস এম নুনু মিয়া, বালাগঞ্জে মোস্তাকুর রহমান মফুর, জকিগঞ্জে লোকমান উদ্দিন চৌধুরী, কানাইঘাটে আব্দুল মোমিন চৌধুরী এবং গোলাপগঞ্জে ইকবাল আহমদ চৌধুরী। মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে ২টিতে নৌকা, ৪টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন এবং ১টিতে নৌকার প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। নৌকার বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন-শ্রীমঙ্গলে শ্রী রনধীর কুমার দেব, কমলগঞ্জ উপজেলায় অধ্যাপক রফিকুর রহমান। স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীরা হলেন-রাজনগরে শাহজাহান খান, কুলাউড়ায় এ কে এম শফি আহমদ সলমান, জুড়ীতে এম এ মুঈদ ফারুক, বড়লেখায় সোয়েব আহমদ।

রংপুর বিভাগ- রংপুরের চার উপজেলায় তিনটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে জাতীয় পার্টি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এর আগে গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়ায় চেয়ারম্যান পদে আগেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী হয়েছেন-তারাগঞ্জে আওয়ামী লীগের আনিছুর রহমান লিটন, পীরগঞ্জে নুর মোহাম্মদ মন্ডল, বদরগঞ্জে ফজলে রাব্বী সুইট এবং পীরগাছায় জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মাহবুবার রহমান। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে আওয়ামী লীগের শাহরিয়ার খান বিপ্লব ও পলাশবাড়ীতে মোকছেদ চৌধুরী।

দিনাজপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগের- বীরগঞ্জে আমিনুল ইসলাম, বিরলে এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, ফুলবাড়ীতে আতাউর রহমান মিল্টন, নবাবগঞ্জে আতাউর রহমান এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা হলেন- খানসামায় আবু হাতেম, চিরিরবন্দরে তারিকুল ইসলাম তারিক, বিরামপুরে খায়রুল আলম রাজু। এ ছাড়া বোচাগঞ্জে জাতীয় পার্টির জুলফিকার হোসেন ও কাহারোলে (স্বতন্ত্র) আবদুল মালেক সরকার। চট্টগ্রাম বিভাগের-খাগড়াছড়ির ৮টি উপজেলার মধ্যে ৬টিতে আওয়ামী লীগ ও ২টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচিতরা হলেন- দীঘিনালায় আবুল কাশেম, রামগড়ে বিশ্ব প্রদীপ ত্রিপুরা, লক্ষ্মীছড়িতে বাবুল চৌধুরী, মাটিরাঙ্গায় রফিকুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি সদরে মো. শানে আলম (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) ও মানিকছড়ি উপজেলায় মো. জয়নাল আবেদীন (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়)।


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর