শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ এপ্রিল, ২০১৯ ২২:৫৮

নুসরাতের সাহসের প্রতি উৎসর্গ করা হোক নববর্ষ

জিন্নাতুন নূর

নুসরাতের সাহসের প্রতি উৎসর্গ করা হোক নববর্ষ
সেলিনা হোসেন

শেষ নিঃশ্বাস ফেলার আগেও নুসরাত জাহান রাফি যে প্রতিবাদের মশাল জ্বালিয়ে গেল তা আমাদের সামনে এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। সামনে বর্ষবরণ উৎসব। এ উৎসব নুসরাতের সাহস ও দৃপ্ত চেতনার প্রতি উৎসর্গ করা হোক। আমাদের মঙ্গল শোভাযাত্রায় নুসরাতের প্রদীপ্ত মুখটি সবার হাতে হাতে থাকুক, তৈরি করা হোক তার মুখের শিল্পকর্ম। নুসরাত এভাবে আমাদের মাঝে চিরকালীন হবে। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। সেলিনা হোসেন বলেন, নুসরাত যে প্রতিবাদের মশাল জ্বালিয়ে গেল আমাদের দায়িত্ব এই প্রতিবাদী মশালকে প্রজ্বলিত রেখে সমাজ পরিবর্তনের যাত্রা বহমান রাখা। আর তা না হলে আমরা বারবারই এমন বর্বর আচরণের শিকার হব। নুসরাত যে বাণীটি আমাদের সামনে রেখে গেল তা ধারণ করা আমাদের জন্য একটি জরুরি দায়িত্ব। আমরা চাই না এই সমাজ ব্যবস্থায় আরও অনেক নুসরাতের জীবন এভাবে নিভে যাক। তিনি বলেন, নুসরাতের জানাজা পড়িয়েছেন তার বাবা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত খবরে নুসরাতের ভাইকে দেখেছি, ছেলেটি বিভিন্নভাবে তার বোনের পাশে কতটা সচেতনভাবে দাঁড়িয়েছে, কত তীব্র বেদনায় ছেলেটি ভেঙে পড়েছে। আমরা চাই সমাজের প্রতিটি মানুষ এভাবে সচেতন হোক। যে লক্ষ লোক নুসরাতের জানাজায় শামিল হয়েছে, যারা প্রতিবাদে আন্দোলনে নিজেদের যুক্ত করেছে এই সবকিছুর মধ্য থেকে সমাজ ব্যবস্থার ভালো দিকটি উঠে আসুক আমাদের সামনে। আমরা গণমানুষের প্রতিরোধের জায়গাকে শক্তির উৎস হিসেবে দেখতে চাই। সেলিনা হোসেন বলেন, সচেতন সমাজের সচেতন মানুষদেরও বলব, তারা যেন বিবেককে জাগ্রত করেন। নৈতিকতাকে জাগ্রত করেন, মানবিক চেতনাকে সমুন্নত করেন। শুধু আইন দিয়ে সমাজের মূল্যবোধের ঘাটতি পূরণ হয় না। মূল্যবোধের জায়গাটিকে তৈরির জন্য আমাদের অনেক কিছুর দরকার। এই দরকারের ভিতর আছে স্বাভাবিক, সুস্থ সেই শিক্ষাব্যবস্থা, যে শিক্ষা মানুষকে অন্যায়ের পথে না যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করবে। তিনি বলেন, নুসরাতের হত্যাকারীদের শাস্তির বিষয়টি যেন অগ্রাধিকার পায়। আমি এই হত্যা মামলার বিচারকাজ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা  হোক। আর মামলাটির বিচারকাজ যেন দিনের পর দিন না ঝুলিয়ে রেখে দ্রুত তা শেষ করা হয়।


আপনার মন্তব্য