Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মে, ২০১৯ ২২:৩১

সিয়াম সাধনা ও আত্মোপলব্ধি

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

সিয়াম সাধনা ও আত্মোপলব্ধি

মাহে রমজানে কোরআন চর্চা সিয়াম সাধনায় সূচিত হতে পারে আত্মোপলব্ধি ও আত্মশুদ্ধির উপায়। আল কোরআনের ২৫ সংখ্যক সূরা আল ফোরকানের ৬৩ হতে ৭৭ নং আয়াতসমূহে আল্লাহর বিশেষ ও প্রিয় বান্দাদের ১৩টি গুণ ও আলামত বর্ণিত হয়েছে। প্রথম ছয়টি গুণাবলির মধ্যে আনুগত্যের মূলনীতি এবং পরবর্তী গুণাবলিসমূহ গোনাহ ও অবাধ্যতা হতে পরিত্রাণ প্রত্যাশার/প্রচেষ্টার নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে। তেরোটি গুণাবলি নিচে উল্লেখ করা হলো- ১. নিজের বিশ্বাস, চিন্তাচেতনা, ইচ্ছা ও আকাক্সক্ষা, আচার-আচরণ ও স্থিরতাকে পালনকর্তার আদেশ ও অভিপ্রায়ের অনুগামী রেখে তার আদেশ-নিষেধ পালনের জন্য সদা উৎকীর্ণ থাকা। ২. নম্রতাসহকারে চলাফেরা করা চলন-বলন আচার-আচরণে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। গর্বিত অহংকারীর ন্যায় পা না ফেলা। আবার ইচ্ছাকৃতভাবে রোগীদের ন্যায় অতি ধীরেও না চলা। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে না এবং সর্বদাই দুনিয়ার লাভ-লোকসানের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকে, সে সর্বদা দুঃখই ভোগ করে। ৩. কথাবার্তায় নিরাপত্তার সঙ্গে সব সময় সচেতন থাকা উচিত। সালামের জবাব দেওয়া, কারও মনে আঘাত লাগতে পারে, বিরূপ ভাব ও সংক্ষোভের উদ্রেক করতে পারে এমন সংলাপ পরিহার করা উচিত। সুবচন ও সুশীল আচরণ কখনই বিত ার জন্ম দেয় না। ৪. ইবাদতে রাত্রি জাগরণ। যে সময় নিদ্রা ও বিশ্রামের সে সময়ে কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও নামাজে দাঁড়ানোর মতো উত্তম কিছুই নাই। তা লোক দেখানোর জন্য নয় এবং নাম যশের আশঙ্কা এখানে নাই। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এশার পর দুই বা ততধিক রাকায়াত নামাজ পড়িয়া লয়, সে হবে তাহাজ্জুদের ফজিলতের অধিকারী। ৫. দিবারাতে ইবাদতে মশগুল হয়েও নিশ্চিন্ত হয়ে বসে না থাকা। আল্লাহকে ভয় করা, জীবিকা অন্বেষণ ও তার সাহায্য কামনা করা। ৬. ব্যয় করার সময় অপব্যয় না করা, কৃপণতা ও ত্রুটি না করে আয়-ব্যয়ের মধ্যে সমতা বজায় রাখা। বৈধ ও অনুমোদিত কাজে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যয় করাও অপব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। রসুলে করিম (সা.) বলেছেন, ব্যয় করতে গিয়ে মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন করা মানুষের বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। যে ব্যক্তি ব্যয়ের সময় মধ্যবর্তিতা ও সমতার ওপর কায়েম থাকে, সে কখনো ফকির ও অভাবগ্রস্ত হয় না। ৭. শিরক সর্ববৃহৎ গোনাহ। দুনিয়ার ভালোমন্দে কাউকে নিয়ন্ত্রক ভাবাও শিরক। ৮. কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা না করা এবং ব্যভিচারের নিকটবর্তী না হওয়া। ৯. তওবা করা। কঠোর অপরাধী যদি তওবা করে এবং বিশ্বাস স্থাপন করে সৎকর্ম করতে থাকে, তবে আল্লাহ তার মন্দ কর্মসমহূকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। ১০. মিথ্যা ও বাতিল মজলিশে যোগ না দেওয়া, মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়া। ১১. যদি কেউ মিথ্যা ও বাতিল মজলিশের নিকটবর্তী হয়ে পড়ে তবে গাম্ভীর্য ও ভদ্রতাসহকারে তা এড়িয়ে বা পরিহার করে চলে যাওয়া উচিত।  ১২. আল্লাহর আয়াত ও শরীয়তের বিধানাবলি শুধু পাঠ করা যথেষ্ট নয়, শ্রবণশক্তি ও অনুদৃষ্টি-সম্পন্ন মানুষের উচিত এগুলো সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করা এবং তদনুযায়ী আমল করা। ১৩. নিজ সন্তান-সন্ততি ও স্ত্রীর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তাদেরকে আল্লাহর আনুগত্যে মশগুল দেখা।

লেখক : সাবেক সচিব ও এন বি আরের সাবেক চেয়ারম্যান।


আপনার মন্তব্য