Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুন, ২০১৯ ২২:৫৫

এটিএম কার্ড জালিয়াতি

এফবিআই সতর্ক করেছিল ১৫ দিন আগে

সাখাওয়াত কাওসার

এফবিআই সতর্ক করেছিল ১৫ দিন আগে

সব ধরনের সিকিউরিটি সিস্টেম হ্যাক করে ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উঠিয়ে নিচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। গত এক মাসে বিশ্বের ১৩০টি দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এমন বিষয় উল্লেখ করে বাংলাদেশকে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। ১৫ দিন আগে পাওয়া এমন তথ্যের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিল পুলিশ। তবে এরই মধ্যে বিদেশি সাইবার অপরাধীরা ডাচ্্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে হাতিয়ে নিয়েছিল তিন লাখ টাকা। আগামী ৬ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে চলত তাদের মিশন। ওই দিনই তাদের ভারতে যাওয়ার কথা ছিল বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ভাষাগত সমস্যার কারণে দোভাষীর মাধ্যমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে শুরু থেকেই গ্রেফতার ইউক্রেনীয়রা অসহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গতকালই তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ডাচ্্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ৩০ মে বাংলাদেশে আসেন ইউক্রেনের সাত সাইবার অপরাধী। ওঠেন পান্থপথের আবাসিক হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেনে। পরিকল্পনা অনুযায়ী খিলগাঁও এলাকার ডাচ্্-বাংলা ব্যাংকের একটি বুথে মুখোশ পরিহিত অবস্থায় টাকা উঠিয়ে যাওয়ার সময় কিছু টাকা পড়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মুখোশ পরিহিত দুই ব্যক্তির দৃশ্য দেখতে পায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তবে পরদিন আবারও দুই বিদেশি ওই বুথে গিয়ে টাকা উত্তোলন করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বুথের নিরাপত্তাকর্মীরা একজনকে ধরে পুলিশে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন ভ্যালেনটাইন (পাসপোর্ট নম্বর ইওয়াই ০৫১৫৬২), ওলেগ (পাসপোর্ট নম্বর ইএক্স ০৮৯৯৬৩), ডেনিস (পাসপোর্ট নম্বর এফএল ০১৯৮৩৪), নাজেরি (পাসপোর্ট নম্বর এফটি ৫০০৫০১), সার্গি (পাসপোর্ট নম্বর এফএইচ ৪২৪৩৯৪) ও ভোলোবিহাইন (পাসপোর্ট নম্বর এফটি ৩৭৯৯৮৩)। শনিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘গ্রেফতার বিদেশি নাগরিকরা জিজ্ঞাসাবাদে অসহযোগিতা করছেন শুরু থেকেই। এ জন্য আমরা দোভাষীর সহায়তা নিচ্ছি। তবে তারা কোনো কিছুই স্বীকার করছেন না।’ মামলার পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক কিছুই বের করা সম্ভব বলে মন্তব্য তার। এর বাইরে পলাতকদের সম্পর্কে অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহিদুর রহমান রিপন জানান, এদের মধ্যে ভিটালি নামের আরেকজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি বলেন, বিদেশি এই চক্রের সঙ্গে দেশীয় কেউ জড়িত কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিবি সূত্র জানায়, ইউক্রেন থেকে একসঙ্গে সাতজন এসেছিল। এদের মধ্যে ভিটালি (পাসপোর্ট নম্বর এফই ৮০৪৪৪৮) অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে পালিয়ে যান। তবে তিনি যেন বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যেতে না পারেন সে জন্য সবকটি ইমিগ্রেশন পয়েন্টে অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবার প্রতারকরা এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো সিগন্যাল পায়নি। পুলিশ ও ব্যাংক সূত্র জানায়, শুক্রবার রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ডাচ্্-বাংলা ব্যাংকের একটি বুথ থেকে দুজন বিদেশি নাগরিক তিন লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা কিছু টাকা বুথে ফেলে যায়। বিষয়টি বুথের নিরাপত্তারক্ষী ব্যাংক কর্মকর্তাদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন। সেখানে দুই বিদেশি নাগরিকের টাকা উত্তোলনের দৃশ্য দেখা গেলেও ব্যাংকের সার্ভারে এই টাকা উত্তোলনের কোনো হিসাব জমা পড়েনি। বিষয়টি তাদের সন্দেহ হয়। শনিবারও দুই বিদেশি নাগরিক ফের একই বুথে টাকা উত্তোলন করতে যায়। তাদের মুখে মাস্ক ও মাথায় ক্যাপ এবং বেশি সময় নেওয়ার কারণে নিরাপত্তারক্ষী আশপাশের লোকজন ডেকে জড়ো করেন। বিষয়টি টের পেয়ে দুই বিদেশি নাগরিক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেনে অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে আটক করা হয়। ডাচ্্-বাংলা ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, তাদের বুথ থেকে মোট চার লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জালিয়াত চক্রটি। তারা এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, যাতে ব্যাংকের সার্ভারে কোনো তথ্য না যায়। আতঙ্কের কারণ হলো, কোনো ধরনের সংকেত না পাওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টেরই পাচ্ছে না তাদের টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি। হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেন কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩০ মে ইউক্রেনের সাতজন নাগরিক তাদের হোটেলের অষ্টম তলার ৮০৫ ও ৮০৭ নম্বরের দুটি কক্ষ ভাড়া নেয়। তারা দিনের বেলা ঘন ঘন বাইরে বের হতো এবং প্রবেশ করত। শনিবার ডিবি পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে গেছে। এদিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘একটি বিদেশি সংস্থার মাধ্যমে আমরা কিছুদিন আগে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছিলাম। ডাচ্্-বাংলা ব্যাংককেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। আমরাও সতর্ক অবস্থানে ছিলাম। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা ছায়াতদন্ত অব্যাহত রেখেছি।’


আপনার মন্তব্য