শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জুন, ২০১৯ ২৩:২৮

সাবধান! টাইগাররা ক্ষুধার্ত

এবার অস্ট্রেলিয়ার পালা

সাবধান! টাইগাররা ক্ষুধার্ত

কৃষ্টি-কালচার, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মানুষের জীবন-মান এবং উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের শহর এই টনটনের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধানটা আকাশ-পাতাল হলেও একটা জায়গায় দারুণ মিল- তা হচ্ছে ক্রিকেট সংস্কৃতিতে। বাংলাদেশের মতো এখানকার মানুষও যেন একেকজন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ! ক্রিকেটজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ক্রিকেট নিয়ে তারা কথা বলতে ভীষণ পছন্দ করেন! কৃষক, শ্রমিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এখানকার সবাই যেন ক্রিকেটপাগল! ক্রিকেটের প্রসঙ্গ সামনে এলেই তাদের মুখের গড়গল খুলে যায়। এমন এক ক্রিকেটপাগল নগরীকে দারুণ এক জয়ে রাঙিয়ে দিল বাংলাদেশ। দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৩২২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৫১ বল হাতে রেখে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়! সত্যি যেন অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। টনটনবাসীও দারুণ উপভোগ করেছেন এই ম্যাচ। গতকাল টিম হোটেলে যাওয়ার পথে ট্যাক্সিচালক মার্কওয়েলব্যাকের সঙ্গে কথা। বললেন, ‘কী চমৎকার খেলে বাংলাদেশ! আমি তো খেলা দেখে অবাক। গেইল সমারসেটে খেলেছেন বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমর্থন করেছি প্রথমে। কিন্তু সাকিব-লিটনের জাদুকরী ব্যাটিং দেখে এখন বাংলাদেশের ভক্ত বলতে পারেন!’

টনটনে পাওয়া দুর্দান্ত এই জয় বাংলাদেশ দলকেও যেন বদলে দিয়েছে। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন টাইগাররা আরও বেশি আত্মপ্রত্যয়ী, আরও বেশি সাহসী। সাকিব আল হাসান তো প্রথম ম্যাচ থেকেই উজ্জীবিত। সে কারণে ৪ ম্যাচে ১২৮ গড়ে ৩৮৪ রান করে এখন তিনি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার মনে করেন, বড় আসরে ভালো করতে হলে সবার আগে যা প্রয়োজন তা হচ্ছে, মাইন্ড সেটআপ! সাকিবের ভাষ্য, ‘‘এ রকম পরিবেশ-পরিস্থিতিতে এসে আসলে মানসিকভাবে শক্ত থাকাটাই সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়। ফিটনেস ভালো থাকলে ওটা আপনাকে সহায়তা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যত বেশি মানসিকভাবে শক্ত থাকা যায় এবং মনে সাহস রাখা যায়, ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ে সেগুলোই সহায়তা করে। আসলে যুদ্ধটা হয় নিজের সঙ্গে নিজের। তাতে ভিতরে ভিতরে হেরে গেলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। যদি মন থেকে নিজেকে বলেন, ‘আমি জিতছি, আমি জিতছি’, তাহলে সম্ভব। হয়তো সব সময় হবে না, তবে বেশির ভাগ সময়ই হবে।’’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুরন্ত জয়ের এই ম্যাচে সাকিবকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন লিটন দাস। তার ৬৯ বলে ৯৪ রানের হার না মানা ইনিংস দেখে মনেই হয়নি, এটি বিশ্বকাপে তার প্রথম ম্যাচ। বড় ম্যাচের ক্রিকেটার বলে কথা! লিটন তার ব্যাটিংশৈলীতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি কতটা সাহসী। সাকিব নিজেও লিটনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ‘আমি লিটনকে বলেছিলাম, উইকেট ভালো আছে। উইকেটে থাকতে পারলে তুই ম্যাচটি শেষ করে যেতে পারবি। ১০-১৫ বল পর ও যেভাবে ব্যাটিং করেছে, সেটি দেখার জন্য দারুণ ব্যাপারই ছিল। ননস্ট্রাইকার প্রান্ত থেকে ওর ব্যাটিং খুবই উপভোগ করেছি আমি। ও আমাকে কখনই চাপে ফেলে দেয়নি। তিন-চার ম্যাচ পর নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামা কারও পক্ষে ওরকম ব্যাটিং করা খুব সহজ ব্যাপারও ছিল না। কিন্তু ওই চাপ সামলে সে যে ব্যাটিং করেছে, এক কথায় অসাধারণ!’ পরের ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে অস্ট্রেলিয়া। বড় ভয় অসিদের পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে। কিন্তু সাকিব এ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন, ‘আমরা তো গত কয়েকটি ম্যাচে বিশ্বের সেরা কয়েকজন ফার্স্ট বোলারকে খেলেছিও। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফার্স্ট বোলারদেরও খেললাম। আমার মনে হয় না এটি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু আছে। আমাদের শুধু বেসিকটা ঠিকঠাক রেখে খেলতে হবে। তবে এটা বলতে পারি, আমরা পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানাতেও সক্ষম।’ সৌভাগ্যের ভেন্যু কার্ডিফ ও ব্রিস্টল বাংলাদেশকে হতাশ করলেও এই বিশ্বকাপে টাইগাররা নতুন আরেক সৌভাগ্যের ভেন্যু পেয়েছে। তা হচ্ছে এই টনটন, সমারসেটের এই কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ড। টনটন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এক শহর! রেকর্ড গড়ার শহর! এই স্মৃতির শহরে টাইগাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে ক্রিকেটবিশ্বকে নতুন বার্তা দিয়ে যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল, এতে এ কথা এখন বলাই যায়, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সবে তো শুরু। ‘ক্রিকেট জায়ান্ট’রা সাবধান!


আপনার মন্তব্য