Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:২৮

২৭ বছর পর ভোট

ছাত্রদলের সভাপতি খোকন, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল

নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাত্রদলের সভাপতি খোকন, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল

দীর্ঘ ২৭ বছর পর কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেল বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এই সংগঠনটির নতুন সভাপতি হয়েছেন ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইকবাল হোসেন শ্যামল। লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে স্কাইপে আলোচনার পর বুধবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাড়িতে ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়। রাত পৌনে ৯টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গতকাল ভোরে ফলাফল ঘোষণা করেন মির্জা আব্বাস।

ষষ্ঠ কাউন্সিলে নয়জন সভাপতি ও ১৯ জন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ভোটে অংশ নেন। ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক শাখার ৫৩৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৪৮১ জন ভোট দেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সভাপতি হয়েছেন খোকন। তিনি পেয়েছেন ১৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের ভোট ১৭৮। ব্যবধান ছিল মাত্র ৮ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে শ্যামল পেয়েছেন ১৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাকিরুল ইসলাম জাকির পান ৭৮ ভোট।

ছাত্রদলের এই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে সাবেক ছাত্রনেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কামরুজ্জামান রতন, আজিজুল বারী হেলাল, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমীরুল ইসলাম খান আলিম, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশীদ হাবিব, রাজীব আহসান ও আকরামুল হাসান বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে ভোট পরিচালনা করেন।

ছাত্রদলকে সিন্ডিকেটমুক্ত করার জন্য কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ নির্বাচনেও প্রার্র্থীদের নিয়ে টানাটানি করে বিভিন্ন সিন্ডিকেট। সভাপতি পদপ্রার্থী কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে নিয়ে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু একটি বলয় তৈরি করে ভোটের মাঠে নামেন। শ্রাবণের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ভোটের কয়েক দিন আগে এ নিয়ে তার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেও জানায়, তারা আওয়ামী লীগ করেন। শ্রাবণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ভোটের মাঠে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ছাড়া শ্রাবণের পক্ষে সিন্ডিকেট করে প্রকাশ্যে ভোট চাওয়াকেও ভালোভাবে নেননি অনেকেই। অন্যদিকে খোকন বগুড়ার সন্তান হওয়ায় তিনি বাড়তি সুবিধা পান। এ ছাড়া তার পক্ষে পুরো উত্তরবঙ্গ পাশে ছিল। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সাবেক ছাত্রনেতা আমীরুল ইসলাম খান আলিম, আবদুল মতিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা তার পাশে ছিলেন। বিভিন্ন বিভাগের সিন্ডিকেটমুক্ত সাবেক ছাত্রনেতারাও পরোক্ষভাবে খোকনের পক্ষে ছিলেন। তবে এই প্রার্থী ছিলেন সিন্ডিকেটমুক্ত। একইভাবে সাধারণ সম্পাদক শ্যামলও সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে বিজয়ী হন। তবে ছাত্রদলের সদ্যবিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান তার পক্ষে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক পদে জাকিরুল ইসলাম জাকিরকে নিয়ে বৃহত্তর ঢাকা, শাহ নেওয়াজকে নিয়ে নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চল, আমিনুর রহমান আমিনকে নিয়ে খুলনা অঞ্চলের নেতারা কাজ করেন। বরিশাল অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন জুয়েল হাওলাদার।

ছাত্রদলের শীর্ষ নেতা নির্বাচনে ১৯৯২ সালের সর্বশেষ কাউন্সিলে রুহুল কবির রিজভী সভাপতি ও এম ইলিয়াস আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে কয়েক মাস পরই ওই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ২৭ বছর। বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত হয় সংগঠনের ষষ্ঠ কাউন্সিল।

ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর। ওই কমিটিতে সভাপতি ছিলেন রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আকরামুল হাসান। ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। এরপর নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

ফজলুর রহমান খোকন : সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত ফজলুর রহমান খোকনের বাড়ি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের পারভবানীপুর গ্রামে। বাবা খালেকুজ্জামান একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী। মা ফরিদা ইয়াসমীন সরকারি চাকরিজীবী। দুই ভাইয়ের মধ্যে খোকন বড়। ২০০০ সালের এসএসসি পাস করা খোকন ২০০৩-২০০৪ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০০৫ সালে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির দফতরবিষয়ক সহসম্পাদকের মাধ্যমে তার ছাত্রদলের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষাবিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন।

ইকবাল হোসেন শ্যামল : সাধরণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত ইকবাল হোসেন শ্যামলের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা পৌরসভার টেকপাড়া গ্রামে। তার বাবা মরহুম গিয়াস উদ্দীন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে চাকরি করতেন। মা দেলোয়ারা বেগম স্কুলশিক্ষিকা। ২০০৩ সালে এসএসসি পাস শ্যামলের ছাত্রদলের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ২০০৫-০৬ সেশনে মুজিব হলে। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্মসম্পাদক হন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর