শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:১৯

সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বুয়েটের শপথ

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শপথ নিলেন উপাচার্যসহ শিক্ষকরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বুয়েটের শপথ
বুয়েটে গতকাল গণশপথ বাক্য পাঠ করেন শিক্ষার্থীরা -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখতে গণশপথ গ্রহণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষকও অংশ নেন। শপথের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। গতকাল দুপুরে এ শপথের আয়োজন করা হয়। শপথ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা জানান, অপরাধীদের একাডেমিকভাবে স্থায়ী বহিষ্কার করার আগ পর্যন্ত একাডেমিক অসহযোগ বজায় থাকবে। অপরাধীদের স্থায়ী বহিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গে তারা কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে শপথ গ্রহণের কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বুয়েট অডিটরিয়ামে এর আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখে অডিটরিয়ামে প্রবেশ করানো হয়। শপথ শুরুর আগে বুয়েটের নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শপথ পড়ান বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের ছাত্রী রাফিয়া রিজওয়ানা। বুকে হাত রেখে তারা এ শপথ করেন। সমস্বরে উচ্চারিত হয়-‘আজ এ মুহূর্ত থেকে বুয়েট পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের কল্যাণ ও নিরাপত্তার নিমিত্তে আমার ওপর অর্পিত ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক নৈতিক ও মানবিক সকল প্রকার দায়িত্ব সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় আমার জ্ঞাতসারে হওয়া প্রত্যেক অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমি সর্বদা সোচ্চার থাকব। আমি আরও প্রতিজ্ঞা করছি যে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রকার সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানকে আমরা সম্মিলিতভাবে রুখে দেব। নৈতিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের বৈষম্যমূলক অপসাংস্কৃতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার আমরা সমূলে উৎপাটিত করব। এ আঙিনায় যেন আর কোনো নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে না যায় আর কোনো নিরপরাধ যেন অত্যাচারের শিকার না হয় তা আমরা সবাই মিলে নিশ্চিত করব’। শপথ শেষে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, আমরা মাঠপর্যায়ের আন্দোলনের ইতি টানছি। মাঠের আন্দোলনে ইতি টানলেও ১০ দফা দাবির প্রত্যেকটির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করব। আমরা বিশ্বাস করি বুয়েট ক্যাম্পাস ও বুয়েট প্রশাসন যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তা অব্যাহত থাকবে এবং পুরো ক্যাম্পাসে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা চার্জশিট দাখিলের পর সেটার ভিত্তিতে অপরাধীদের একাডেমিকভাবে স্থায়ী বহিষ্কার করার আগ পর্যন্ত আমরা একাডেমিক অসহযোগ বজায় রাখব। চার্জশিট দেওয়ার পর এর ভিত্তিতে অপরাধীদের স্থায়ী বহিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরে যাব। গণ-শপথ অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, আবরার হত্যাকান্ডের ব্যাপারে তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত কমিটির প্রধানের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের আন্তরিকতার অভাব নেই। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন পাব। এ ছাড়া চার্জশিট পেতে নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এতদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলে অনেক ক্ষতি হবে। আমরা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দিয়ে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করব। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নেব বলে জানান উপাচার্য। উল্লেখ্য, বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে গত ৬ অক্টোবর রবিবার রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিসহ দশ দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিল বুয়েট শিক্ষার্থীরা। আবরারের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার, আবরার হত্যা মামলার সব খরচ এবং ক্ষতিপূরণ বুয়েট থেকে বহন করান, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্বল্পতম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি, অবিলম্বে অভিযোগপত্র প্রকাশ, বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনে জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি ছিল এই দশ দফার মধ্যে। এসব দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ছাত্রছাত্রীরা আলটিমেটাম দিলে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও ছাত্রছাত্রীরা দশ দাবির মধ্যে পাঁচ দাবি পূরণে আন্দোলন চলমান রেখেছিলেন। বুয়েটে প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার জন্য গত রবি ও  সোমবার আন্দোলন শিথিল করেছিলেন তারা। এরপর তাদের পক্ষ থেকে মাঠের আন্দোলন বন্ধ করার ঘোষণা এলেও ছাত্রছাত্রীরা একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা আসে।


আপনার মন্তব্য