শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:০৪

ফিক্সিং নয়, তথ্য না জানানোই হলো কাল নিষেধাজ্ঞায় তোলপাড়

মেজবাহ্-উল-হক

সাকিব আল হাসান কোনো ধরনের ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তবে প্রস্তাবের বিষয়টি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিটকে (আকসু) জানাননি তিনি, যা আইসিসির আইনে বড় অপরাধ। আর এ অপরাধেই সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-২০ অধিনায়ক নিজের দোষ স্বীকার করেও নিয়েছেন। আকসুকে সহযোগিতাও করেছেন। তার পরও দেওয়া হয়েছে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা। এর মধ্যে রয়েছে এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। যদি নিষেধাজ্ঞার সময় শাস্তির সব বিধিবিধান মেনে চলেন তাহলে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাকিবের শাস্তির বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে আইসিসি। সাকিবের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি দমন আইনের ২.৪.৪ ধারার অধীনে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজ ও ২০১৮ সালে আইপিএলের সময় জুয়াড়িদের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবের বিষয়টি আকসুকে জানাননি। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ২০১৮ সালের ত্রিদেশীয় সিরিজেই সাকিবের সঙ্গে জুয়াড়িরা দ্বিতীয়বার যোগাযোগ করলেও তা আকসুর কাছে জানাননি। তৃতীয়টি হচ্ছে, ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের একটি ম্যাচের আগে সাকিবকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তা জানাতেও ব্যর্থ হয়েছেন। আইসিসির কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে সাকিব বলেছেন, ‘আমার পছন্দের খেলা ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়ে আমি খুবই কষ্ট পাচ্ছি। তবে আমাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তা মেনে নিচ্ছি। আমি অনৈতিক প্রস্তাব পাওয়ার পরও তা আকসুকে জানাইনি। আমি আমার দায়িত্ব পালন করিনি।’ আইসিসির প্রতিবেদনে সাকিবের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তরুণ ক্রিকেটাররা আমার এ ভুল থেকে শিক্ষা নেবে। বিশ্বের অধিকাংশ ক্রিকেটার ও সমর্থকের মতো আমিও চাই দুর্নীতিবিরোধী খেলার পরিবেশ। আমি আইসিসির দুর্নীতিবিষয়ক কমিটির সঙ্গে এ ব্যাপারে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।’ সমর্থকদের কাছেও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সাকিবের নিষেধাজ্ঞায় সারা দেশে তোলপাড় : বিশ্বখ্যাত অলরাউন্ডার, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টি-২০ ও টেস্ট ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসানকে আইসিসির সব ধরনের ক্রিকেটে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণায় ঢাকাসহ সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ক্রিকেটে সাকিবের নিষেধাজ্ঞার খবরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় বইছে। গতকাল বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাকিবের পক্ষেই থাকবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ ব্যাপারে বোর্ডের পক্ষ থেকে সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি বলেন, এ ঘটনায় আমরা মর্মাহত। আমরা আশা করি, সাকিব এই দুঃসময় কাটিয়ে উঠে যথাসময়ে ক্রিকেটে ফিরে আসবে। বাংলাদেশকে আরও ভালো খেলা উপহার দেবে। সাকিব আল হাসান নিজেও দুঃখ প্রকাশ করে বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের সহায়তা চেয়েছেন। এদিকে আইসিসির এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ের সামনে সাকিবভক্তরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিভিন্ন বিভাগে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে বিষাদের ছায়া নেমে আসে। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল বিকালে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে আগত দর্শকদের মধ্যেও হতাশার ছায়া লক্ষ্য করা যায়। সেখানেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সাকিবের এই দুঃসংবাদ। এ খবরে স্তব্ধ হয়ে যান আগত ফুটবল দর্শকরাও। আইসিসির এমন সংবাদে মিরপুর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাকিবভক্তরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। সেখানে সারোয়ার ফাহিম নামে এক ভক্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, সাকিবের অপর নাম বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হচ্ছেন সাকিব আল হাসান। সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সাকিব। আকসুর আরও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত করা উচিত ছিল। ভারত সফরের আগমুহূর্তে সাকিবকে নিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

রাকিব হোসাইন নামে আরেকজন বলেন, ‘বাংলাদেশে ব্র্যান্ড বলতে সাকিব আল হাসানকেই বোঝায়। সাকিবের পাশে বাংলাদেশ আছে। আইসিসিকে এটা বুঝতে হবে।’ ফাহমিদা নামে এক কলেজছাত্রী বলেন, ‘সাকিব আল হাসানের মতো ট্যালেন্ট খেলোয়াড় বাংলাদেশে আর নেই। সাকিবের ঘাটতি পূরণ হওয়ার নয়। সেক্ষেত্রে দুই বছরের সাজায় আমাদের ক্রিকেটে বড় ক্ষতি হয়ে গেল।’


আপনার মন্তব্য