Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪২

প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে নাইমুলের বাবার মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে নাইমুলের বাবার মামলা

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন নিহতের পিতা মো. মুজিবুর রহমান। পরে বিচারক আবরারের লাশ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে মামলা ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আমিনুল হক এ আদেশ দেন। এ সময় মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া আবরারের বাবার করা অপমৃত্যুর মামলাটিও তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছে আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, ৩০৪ (ক) ধারা বা অবহেলার কারণে মৃত্যু সংঘটনের অভিযোগ এনে মামলাটি করেছেন আবরারের বাবা। মামলায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়, কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানটি দেখতে এসেছিল আবরার। অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চের পেছনে আবরার আনুমানিক বিকাল ৩টায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয় তা অরক্ষিত ছিল। সঠিকভাবে বিদ্যুতের ব্যবস্থাপনা না করে এরকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে এবং এতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা করা হয়নি। ঘটনা ঘটার পর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ক্যাম্পাসের উল্টো পাশের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আবরারকে না নিয়ে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা ডেথ সার্টিফিকেট থেকে দেখা যায়- আবরারকে ওইদিন বিকাল সোয়া ৪টায় ভর্তি করা হয়। আর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বিকাল ৪টা ৫১ মিনিটে। অথচ এ মৃত্যুর সংবাদ কিশোর আলো এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গোপন করে গানের অনুষ্ঠান চালিয়ে যায়। অনুষ্ঠান শেষে তার এক সহপাঠীর মাধ্যমে তারা এ মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারেন। যা একটি পরিকল্পিত, গাফিলতি এবং অবহেলাজনিত হত্যাকা  বটে। হাসপাতালে ছেলের লাশ দেখতে গেলে আসামিরা আবরারের মৃত্যুকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। আবরারের বাবা ছেলের লাশ দ্রুত নিতে চাইলে আসামিরা তাকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মুচলেকা দিয়ে লাশ নিতে বলেন। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করে লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন আবরারের সহপাঠীরা তার স্কুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভির ফুটেজ প্রদানসহ চার দফা দাবি তুলে ধরে। তারা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের লিখিত বক্তব্য এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর দাবি জানায়। বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ ওমর ফারুক আসিফ বলেন, ১ নভেম্বরের ওই মৃত্যুটি কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বা অপমৃত্যু নয়। বরং আসামিদের চরম অবহেলা, অযত্ন, গাফিলতি, অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসার অবহেলা এবং অসাবধানতার কারণে নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যু হয়। গত ১ নভেম্বর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের মাঠে প্রথম আলো সাময়িকী কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় আবরারের। এরপর ময়নাতদন্ত ছাড়াই আবরারের বাবা মুজিবুর ছেলের লাশ নিয়ে যান বলে জানিয়েছিলেন মোহাম্মদপুর থানার ওসি গণেশ গোপাল বিশ্বাস। পরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয় আবরারকে। ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল প্রথম আলোর কিশোর সাময়িকী কিশোর আলো। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান কিশোর আলোরও প্রকাশক। আর কিশোর আলোর সম্পাদক হলেন আনিসুল হক।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর