শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:১৫

শেখ হাসিনার জন্য প্রস্তুত ইডেন গার্ডেন

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

শেখ হাসিনার জন্য প্রস্তুত ইডেন গার্ডেন

২২ নভেম্বর থেকে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে শুরু হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ। ওইদিন সকালেই বিশেষ বিমানে কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলী, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সংক্ষিপ্ত সফরে কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেই তিনি চলে যাবেন দক্ষিণ কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলে। সেখানে কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ইডেনে আসবেন তিনি। দুপুর ১টায় ইডেনের বিসি রায় ক্লাব হাউস থেকে ঘণ্টা বাজিয়ে ঐতিহাসিক গোলাপি টেস্টের সূচনা করবেন শেখ হাসিনা ও মমতা ব্যানার্জি। তাকে সঙ্গ দেবেন সৌরভ গাঙ্গুলী, বিসিসিআই সচিব জয় শাহ, সাবেক ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও সিএবির কয়েকজন কর্মকর্তা।

খেলা দেখতে ইডেনে উপস্থিত থাকবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ, ভিভিএস লক্ষ্মণ, টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা, ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু, বিশ্বজয়ী বক্সার মেরি কমসহ একঝাঁক ব্যক্তিত্ব। ভিভিআইপিদের দিকটি মাথায় রেখে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হচ্ছে গোটা ইডেন চত্বর।

শনিবার দুপুরেই কলকাতায় শেখ হাসিনার নিরাপত্তার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে যান বাংলাদেশ স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের কর্মকর্তারা। ইডেনের তিন তলায় প্রেসিডেন্ট বক্সে খেলা উপভোগ করবেন তিনি। সেই ঘরটিতে হটলাইন, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা থাকছে। কোন পথ দিয়ে ক্লাব হাউসে প্রবেশ করবেন, কোথায় বসবেন, যে লিফট দিয়ে উঠে তিনি ওপরের তলায় উঠবেন, যে ঘরে বসে খেলা দেখবেন সেই ঘরের নিরাপত্তাসহ প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখেন বিশেষ টিমের সদস্যরা। ভিডিওগ্রাফিও করেন তারা। তাদের সঙ্গে ছিলেন কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, প্রথম সচিব (প্রেস) মোফাকখারুল ইকবাল, প্রথম সচিব (ভিসা) বসির উদ্দিন, দূতাবাস প্রধান কনস্যুলার জামাল হোসেনসহ উপ-দূতাবাসের কর্মকর্তারা, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) এর সচিব অভিষেক ডালমিয়া, সহ-সচিব দেবব্রত দাস, সহ-সভাপতি নরেশ ওঝা, কোষাধ্যক্ষ দেবাশিস গাঙ্গুলী।

ম্যাচের প্রথম দিন ইডেনেই লাঞ্চ সারবেন শেখ হাসিনা। তার জন্য দেশীয়, কন্টিনেন্টালসহ নানা পদের ব্যবস্থা থাকছে। খাবার আসবে শহরেরই একটি অভিজাত হোটেল থেকে। বিকাল ৩টার পর হোটেলে ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর ফের সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ ইডেনে আসবেন শেখ হাসিনা। ডিনারে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও থাকবেন তিনি। ২০০০ সালে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আয়োজিত প্রথম টেস্টে খেলা দুই দলের ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ইডেনেই শেখ হাসিনা, মমতা ব্যানার্জি, অমিত শাহ, সৌরভ, শচীন, নাজমুলরা তাদের সক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখবেন। ইডেন টেস্টেই শেখ হাসিনাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে বিশ্ব বাংলার তৈরি ডিজাইনার শাড়ি ও অন্য উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হবে। তবে অনুষ্ঠানের পর গোলাপি রঙের আতশবাজি প্রদর্শনী হওয়ার কথা থাকলেও শেখ হাসিনার নিরাপত্তার কথা ভেবে তা বাতিল হতে পারে। সংগীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের রুনা লায়লা, কলকাতার জিৎ গাঙ্গুলী। ঐতিহাসিক এই টেস্ট ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে ত্রুটি রাখছে না সিএবিএর কর্মকর্তারা। জোর কদমে চলছে ইডেনের উইকেট তৈরির কাজ। গতকাল ইডেনে বিশাল আকারের গোলাপি লিথিয়াম বেলুনও ওড়ানো হয়। বেলুনের গায়েই লেখা ‘ইন্ডিয়া’স ফার্স্ট পিঙ্ক বল টেস্ট’। শুধু ইডেন গার্ডেন-ই নয়, গোলাপিময় হয়ে উঠেছে গোটা ইডেন চত্বর। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগেই একাধিক জায়গায় গোলাপি ল্যাম্পে সাজানো হচ্ছে গাছ, ভবন। সন্ধ্যা হলেই ইডেনসংলগ্ন গঙ্গার ওপর ভাসছে গোলাপি আলোয় সজ্জিত লঞ্চ। ইতিমধ্যে শহরে পৌঁছে গেছে গোলাপি বল। ম্যাচের দিন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্যারাশুটে করে আকাশ থেকে নিচে নেমে এসে সেই বল দুই দেশের অধিনায়কের হাতে তুলে দেবেন। ইতিমধ্যে সিএবি কার্যালয়, ক্লাব হাউসের দেয়ালে চলছে হলুদ, গোলাপি রঙের প্রলেপ, ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজের প্রায় ২০ জন শিল্পী রাত-দিন এক এক করে ক্রিকেটারের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি তুলে ধরছেন। গোটা পরিকল্পনার নেতৃত্বে রয়েছেন সায়ন মুখার্জি। সূত্রে খবর, ম্যাচ শুরুর আগে ভারত-বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাইবেন ইন্ডিয়ান আর্মির সদস্যরা। এদিকে ইডেন টেস্টের টিকিট নিয়ে হাহাকার দেখা দিয়েছে। শনিবার সকালের দিকে ইডেনের বাইরে ক্লাব হাউসের কাছে টিকিট প্রার্থীরা বিক্ষোভ দেখান। এমনকি অনেক বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীকেও একটা টিকিটের জন্য হাপিত্যেশ করে থাকতে দেখা যায়।


আপনার মন্তব্য