শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৪

সংসদে বিএনপির ওয়াকআউট

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংসদে বিএনপির ওয়াকআউট

‘গণতন্ত্রের’ স্বার্থে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করার দাবির বিষয়ে সংসদে কোনো আশ্বাস না পেয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিএনপির এমপিরা। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর বিএনপি এমপিরা ওয়াকআউট করেন। এটাই চলতি সংসদে বিএনপির প্রথম ওয়াকআউট। এর আগে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি এমপি হারুনুর রশিদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সিটি নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন অবাধ করতে উদ্যোগ না নিলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করারও হুমকি দেন। স্পিকার বিএনপি এমপির বক্তব্যের বিষয়ে বক্তব্য দিতে প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদকে ফ্লোর দেন। এ সময় আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমন্বয়ক তোফায়েল আহমেদ বলেন, সিটি নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের এমপিরা প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইবেন না। তবে তারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন। আওয়ামী লীগের দুই নেতার বক্তব্যের পর এমপি হারুন আবারও ফ্লোর চাইলে স্পিকার তা নাকচ করেন। এ সময় হারুনুর রশিদ মাইক ছাড়াই কথা বলে বিএনপির এমপিদের নিয়ে ওয়াকআউট করেন।

এর আগে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব হারুনুর রশিদ বলেন, ‘এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা এবং নির্বাচন নিয়ে যে সহিংসতা চলছে তা বন্ধের দাবি করছি। নইলে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করব।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনটি আসলে হবে, নাকি প্রহসন চলবে? জবাবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘চট্টগ্রামে নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। কারণ যদি সেখানে আওয়ামী লীগ প্রভাব খাটাত তাহলে ৫০ শতাংশের বেশি ভোটে আমাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারত। তা তো করেনি।’ তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ নির্বাচন শুরুর আগে থেকে বিএনপি বলছে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। এটা তাদের ট্র্যাডিশন, তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এমপিদের প্রচারণা নিয়ে তোফায়েল বলেন, ‘আমি নিজে ইসিতে গিয়েছিলাম তাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে। তারা স্বীকার করেছেন এটা আইন নয়। আইন হলে সংসদে পাস করা হয়। এটা হলো একটা বিধি। সেই বিধিতে লেখা আছে সুবিধাভোগী ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু সংজ্ঞায় এমপির নাম আছে এটা ঠিক। আপনি বলেন, আপনি (হারুন) আমি কি সুবিধাভোগী? সুবিধাভোগীর সংজ্ঞা কী? আমি মন্ত্রী ছিলাম, এমপি ছিলাম, এখনো আছি এটা আমার অপরাধ! আর মওদুদ আহমদ উত্তরের সমন্বয়ক। তিনি কি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন? তিনি এমপি নন, বিএনপি আমলে মন্ত্রী ছিলেন, এরশাদ আমলে উপরাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। মওদুদ সাহেব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন, গুরুত্বপূর্ণ হলাম আমরা? আমরা বলেছি, আপনাদের কাছে পরিবর্তন করতে আসিনি। আমরা ক্ষমতাসীন দল। আমরা যদি পরিবর্তন করি তাহলে আমাদের ওপর বিরূপ ধারণা হবে আমরা নির্বাচনে জেতার জন্য পরিবর্তন করেছি। ওনারা চেষ্টা করেছিলেন এটাকে সংশোধন করতে, পারেননি। আমরাও মেনে নিয়েছি।’ আমির হোসেন আমু বলেন, সব সময় বিএনপির রাজনীতি নেগেটিভ। তারা নির্বাচনে নেগেটিভ পলিটিকস করে আসছে। ১৯৮৬ সালে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। তারা ক্ষমতা গ্রহণের অন্য পথ অবলম্বনের চেষ্টা করেছিল। পরবর্তীকালে তারা নির্বাচনবিমুখতা প্রমাণ করেছে। পাঁচটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরও যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না তাদের চিন্তা-চেতনা কোথায় ছিল? নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড হচ্ছে রাজনীতিবিরোধী। মানুষের কাছে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে। যতই তারা মানুষ দ্বারা পরিত্যক্ত হয় ততই তারা কারচুপির কথা বলে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর