শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:০৮

পুরুষের চেয়ে নারীর বেশি আয়ে ৬৪ দেশের শীর্ষে বাংলাদেশ

প্রতিদিন ডেস্ক

পুরুষের চেয়ে নারীর বেশি আয়ে ৬৪ দেশের শীর্ষে বাংলাদেশ

বিশ্বের নির্ধারিত ৬৪ দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই প্রতি ঘণ্টায় পুরুষের চেয়ে নারী বেশি আয় করেন। সম্প্রতি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আর মাসিক আয়ের ক্ষেত্রেও এ ব্যবধান অত্যন্ত কম। দেশে পুরুষের চেয়ে নারীর মাসিক আয় মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ কম। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় এটাকে অনেক ভালো পরিস্থিতি হিসেবেই দেখা যায়। পুরো বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশেই লিঙ্গভিত্তিক পারিশ্রমিকের ব্যবধান সবচেয়ে কম। গত ১৬ জানুয়ারি জাতিসংঘের ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাবনা ২০২০’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, পার্টটাইম/ফুলটাইম চাকরি, সরকারি/বেসরকারি চাকরি প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এ জরিপ চালানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘণ্টা হিসেবে একই কাজে পুরুষের তুলনায় বাংলাদেশের নারীরা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি পারিশ্রমিক পান, যা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইডেন, নেদারল্যান্ডসের মতো উচ্চ-আয়ের দেশের চেয়েও বেশি। প্রতিবেদনটিতে ৬৪ দেশে নারী-পুরুষের মাসিক ও প্রতি ঘণ্টার আয়ের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৮-১৯ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিশ্ব পারিশ্রমিক প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের বিষয়েও বলা হয়েছে। এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ৫ নম্বরেই রয়েছে লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন। মাসিক আয়ের পার্থক্য কমেছে : ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আইএলওর প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতি ঘণ্টায় নারীরা পুরুষের চেয়ে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি আয় করেন। তবে মাসিক হিসাবে পুরুষের আয় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। জাতিসংঘের সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে নারী-পুরুষের পারিশ্রমিক ব্যবধান কমেছে অন্তত ৫ পয়েন্ট। সে হিসেবে মাত্র এক বছরেই বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে।

বিশ্বের চিত্র সন্তোষজনক নয় : বৈশ্বিক হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় নারীর আয় পুরুষের চেয়ে গড়ে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ কম। মাসিক আয়ের ক্ষেত্রে এর অবস্থা আরও খারাপ। সেখানে নারী পুরুষের চেয়ে গড়ে ২১ দশমিক ২ শতাংশ কম পারিশ্রমিক পান। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আইএলওর ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতি ঘণ্টায় নারী পুরুষের চেয়ে ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ কম আয় করতেন, আর মাসিক আয় কম ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। এ থেকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, বিশ্বব্যাপী গত এক বছরে লিঙ্গভিত্তিক পারিশ্রমিক ব্যবধান বেড়েছে। তলানিতে পাকিস্তান : নারী-পুরুষের পারিশ্রমিকে ঘণ্টা আর মাসিক উভয় ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড় ব্যবধান পাকিস্তানে। দেশটির নারীরা প্রতি ঘণ্টায় পুরুষের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ কম পারিশ্রমিক পান। আর একই কাজ করেও মাসিক আয়ে পুরুষের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যবধানে পিছিয়ে নারীরা। পাকিস্তানে মাসিক আয়ের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক পারিশ্রমিক ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর