শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৫

টিআইবির প্রতিবেদন

দুর্নীতি সূচকে এক ধাপ অগ্রগতি বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি সূচকে এক ধাপ অগ্রগতি বাংলাদেশের

দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০১৯ অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোর ২৬, যা ২০১৮ এর তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকার সর্বনিম্ন থেকে গণনা ও স্কোর অনুযায়ী ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪তম অবস্থানে রয়েছে। সিপিআই ২০১৮ এর তুলনায় তা ১ ধাপ এগিয়েছে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ থেকে গণনা অনুযায়ী ১৪৬তম, যা সিপিআই ২০১৮ এর তুলনায় তিন ধাপ এগিয়েছে।

১০০ এর মধ্যে ৪৩ স্কোরকে গড় স্কোর ধরে দেশের ২০১৯ সালের স্কোর অনুযায়ী দুর্নীতির ব্যাপকতা এখনো উদ্বেগজনক বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। দুর্নীতির ধারণা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার ৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। সর্বনিম্ন আফগানিস্তানের পরে অবস্থান বাংলাদেশের। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির ক্রমানুসারে আমরা এক ধাপ উন্নতি করলেও আমাদের স্কোর বাড়েনি। স্কোরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কেউ হয়তো বেশি খারাপ করেছে, তাই আমরা এক ধাপ এগিয়েছি। এতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। গত বছর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময় মানুষের মধ্যে একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এটা কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। তিনি বলেন, দুর্নীতির ভালো স্কোর করার মতো আইনি ও কাঠামোগত সক্ষমতা আছে। কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার জন্যই  স্কোরে এগোতে পারছে না বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি করেছে। দুর্নীতি থাকার ফলে এর সুফল মানুষ ঠিকমতো পাচ্ছে না। আর্থ-সামাজিকসহ অনেক সূচকে অনেক দেশের চেয়ে ভালো করেছি আমরা। এই ভালোটা আরও ভালো হতো যদি আমরা সুশাসন নিশ্চিত করতে পারতাম, দুর্নীতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এসেছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। এসব কারনে ভালো স্কোর হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি কাঠামো যতটুকু রয়েছে সেখানে হয়তো আরও অনেক ইতিবাচক সংস্কারের প্রয়োজন আছে। এগুলোর যদি যথাযথ প্রয়োগ হয়, তাহলে এ স্কোর থাকার কথা ছিল না।

টিআইবির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির ব্যবহার হচ্ছে কোথায়, কার ভোগে যাচ্ছে, সেটা সঠিকভাবে বণ্টন হচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে। দুর্নীতি না থাকলে আমাদের আরও উন্নতি হতো।

২০১৯ সালের সিপিআই অনুযায়ী ৮৭ স্কোর পেয়ে যৌথভাবে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ডেনমার্ক ও নিউজিল্যান্ড। ৮৬ স্কোর পেয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড এবং ৮৫ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছে সিঙ্গাপুর, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। আর সর্বনিম্ন ৯ স্কোর পেয়ে গতবারের মতো এবারও তালিকার সর্বনিম্নে অবস্থান করছে সোমালিয়া। ১২ স্কোর নিয়ে নিম্নক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ সুদান এবং ১৩ স্কোর পেয়ে তালিকার তৃতীয় সর্বনিম্নে আছে সিরিয়া।

বাংলাদেশের সঙ্গে একই স্কোর পেয়ে সম্মিলিতভাবে ১৪তম অবস্থানে রয়েছে অ্যাঙ্গোলা, গুয়েতেমালা, হন্ডুরাস, ইরান, মোজাম্বিক ও নাইজেরিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মন্জুর-ই-আলম।

 


আপনার মন্তব্য