শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪০

নিয়ন্ত্রণে সদিচ্ছার অভাব

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

নিয়ন্ত্রণে সদিচ্ছার অভাব

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের ব্যাপারে আগেও অনেক অভিযোগ আসত। এখন হয়তো তা আরও বেড়েছে। এর প্রতিকারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি বাড়ানোর বিকল্প নেই। পরিচালকদের নিজেদের মধ্যে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার প্রকট অভাব রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সেদিকে নজর দিতে হবে। যেসব ব্যাংকের পর্ষদ বা পরিচালকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাহলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর ঘটবে না। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক ঋণ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ছোট-বড় যে কোনো ধরনের ঋণপ্রস্তাব অধিক যাচাই-বাছাই করতে হবে। ব্যাংকগুলোতে জবাবদিহিতার নজির স্থাপন করতে হবে। খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সরকার যদি রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকার না করে তাহলে এই খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে ব্যাংক খাত কখনই বেরোতে পারবে না।

অন্যদিকে ঋণখেলাপিদের কোনোভাবে ছাড় না দেওয়ার নজির স্থাপন করতে হবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন খেলাপিদেরই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা উৎসাহিত হচ্ছে। পক্ষান্তরে প্রকৃত বা ভালো গ্রাহকরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। যা ব্যাংক খাতে এক ধরনের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। সাবেক এই গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। তাদের সার্বিক কর্মকান্ডে সব ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি। অন্যথায় ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। সম্প্রতি খেলাপি কমিয়ে আনতে এই খেলাপিদের ২ শতাংশ হারে ডাউন পেমেন্টের সুবিধা দিয়ে ঋণ নিয়মিতকরণসহ আরও নানান সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অথচ খেলাপি ঋণ কমেনি, বরং বেড়েছে। ফলে খেলাপিরাই লাভবান হয়েছে। এমন ভ্রান্তনীতি দিয়ে খেলাপি ঋণ কোনোভাবেই কমানো সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঋণখেলাপিদের একটা বড় অংশই আছে, যাদের ঋণ দেওয়ার সময় সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়নি। ঋণগ্রহীতাদের সম্পদ মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও কোনো নিয়ম মানা হয়নি। ফলে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর যারা শীর্ষ খেলাপি, তারা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। এদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন যারা ব্যাংকের পরিচালক বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে থাকেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। আর ব্যাংকগুলোর নিজেদের তদারকি ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কাজকর্মে পরিচালকদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর