শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:১২

ফের ইসি মাহবুব ও সচিব পাল্টাপাল্টি

ভোটের লড়াই নির্বাচন কমিশনে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফের ইসি মাহবুব ও সচিব পাল্টাপাল্টি

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের নানা অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালকদার ও ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ফের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। সিটি ভোটে প্রার্থীদের নানা অভিযোগের বিষয়ে সচিব ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে তথ্য চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। ইসির অভ্যন্তরেই কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই- বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। পাল্টা জবাবে ইসি সচিব জানিয়েছেন, একজন কমিশনারের কাছে তথ্য দিতে বাধ্য নন রিটার্নিং অফিসাররা। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজও ঠিক মতোই চলছে। এর আগে ইসি সচিবালয়ের কর্তৃত্ব ও নিয়োগের অনিয়ম নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ও সচিব মুখোমুখি হয়েছিলেন। গতকাল আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিটি ভোট নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালকদার। পরে তার বিভিন্ন বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানান ইসি সচিব। এমনকি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সভায় আমার প্রস্তাব বা সুপারিশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে অগৃহীত হয়। আমাকে সংখ্যালঘিষ্ঠ হিসেবে না দেখে আমার বক্তব্যের বিষয়বস্তুর মেরিটকে বিবেচনায় নেওয়া সমীচীন বলে মনে করি। আমার ধারণা কমিশন সভায় আমার বক্তব্য প্রদানের স্থান সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ইসির অভ্যন্তরেই কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড  নেই। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচন সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের যেভাবে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন, তা হচ্ছে না। নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পর থেকে যে তিনটি কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়, তার কোনোটিতে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধি, অনিয়ম বা প্রার্থীদের অভিযোগ সম্পর্কে কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি ভোটের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি রিটার্নিং অফিসারের তথ্য দেওয়া তিনি পাননি বলেও অভিযোগ করেছেন। এদিকে তথ্য না পাওয়ার অভিযোগের পাল্টা জবাবে ইসি সচিব বলেছেন, রিটার্নিং অফিসাররা শুধু একজন কমিশনারকে তথ্য দিতে বাধ্য নন। রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে পাঁচজন কমিশনারকে পাঠাতে হবে। তবে নির্বাচন কমিশনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই- মাহবুব তালুকদারের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সচিব বলেন, তিনি কি বুঝিয়েছেন জানি না। পাঁচজন কমিশনারকে নিয়ে কমিশন। তাদের কোনো বিষয়ে দ্বিমত হয়, আবার আলোচনার মাধ্যমে একমতও হন। সে জন্য সুন্দর নির্বাচন হচ্ছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজও ঠিক মতোই চলছে। কমিশনের সভায় সিটি নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি ছিল না- এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর বলেন, সচিবালয় শুধু আদেশ পালন করে। কমিশনাররা যা বলেন সেটি নথিতে দেওয়া হয়। পরে সিইসি অনুমোদন দিলে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়, সম্পূর্ণ বিষয় কমিশনের। কী আলোচনা হবে, আর কী হবে না সেটি কমিশনের সিদ্ধান্ত।

সিইসি ও তিন কমিশনারকে ইউও নোট : ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে তিনি সিইসি ও তিন নির্বাচন কমিশনারকে গত ৯, ১৩, ১৬ ও ২০ জানুয়ারি ৪টি ইউও নোট দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তাই তিনি গতকাল আবারও সিটি ভোট নিয়ে পঞ্চমবারের মতো ইউও নোট দেন। এরপরে নিজের লিখিত বক্তব্য নিয়ে সংবাদকর্মীদের সামনে আসেন। লিখিত বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন মাহবুব তালুকদার। লিখিত বক্তব্যে মাহবুব তালুকদার আরও জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে যেসব অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তা নিয়ে কমিশনে কোনো আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। এসব অভিযোগের পেছনে যে অসন্তোষ আছে, তা বিস্ফোরিত হলে সিটি করপোরেশন নির্বাচন যথোপযুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হবে না, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এর দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে।

আমি কোনো দলের নই : একটি দলের স্বার্থ রক্ষায় নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নেওয়া এবং তার পদত্যাগের দাবি সরকারি দলের পক্ষ থেকে এসেছে- এ বিষয়ে এক প্রশ্নে মাহবুব তালুকদার বলেন, যে কেউ যে কোনো কিছু বলতে পারেন। যে কোনো তকমা আমার পেছনে লাগানো যেতে পারে। কিন্তু আমার অতীত ইতিহাস যারা জানেন তারা কখনই বলবেন না- আমি কোনো নির্দিষ্ট দলের। আর আমি যে মুহূর্ত থেকে এ চেয়ারে বসেছি সে ক্ষণ থেকে আমি কোনো দলের নই। কোনো দলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন এ নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে কোনো মতবাদের সম্পর্ক নেই। আমি আমার বিবেক দ্বারা পরিচালিত। যারা আমাকে নিয়ে কোনো আমার মধ্যে রং ধরাতে চান বা আমার মধ্যে দেখতে চান- এটা তাদের রাজনৈতিক একটা বিষয় হতে পারে। কিন্তু আমি এর বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, কোনো কমিশন সভায় সিটি ভোট এজেন্ডাভুক্ত হয়নি। আগামী ২৮ জানুয়ারি তারিখে যে নির্বাচন কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাতেও ঢাকা সিটি করপোরেশন সম্পর্কে কোনো বিষয় এজেন্ডাভুক্ত নয়। মাহবুব তালুকদার বলেন, ১৬ জানুয়ারি দেওয়া ইউও নোটের মাধ্যমে কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে তথ্যাদি জানাতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারির মধ্যে আমার কাছে পেশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার সেই নির্দেশ উপেক্ষিত হয়েছে। কোনো তথ্যই আমাকে সরবরাহ করা হয়নি।

সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী প্রচারের সময় নৌকা ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে টিকাটুলীতে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর। তাবিথের ওপর হামলার তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে বলেছে দুই গ্রুপ পুলিশকে না জানিয়ে সেখানে গিয়েছে। দুই গ্রুপ মুখোমুখি হওয়ায় ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, তাদের জানালে এমনটা হতো না। আমি বলেছি কমিশনকে দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার জন্য।


আপনার মন্তব্য