শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:১০

চট্টগ্রাম সিটি ভোট ২৯ মার্চ

একই দিনে বগুড়া-যশোর উপনির্বাচন ভোট শুরু সকাল ৯টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২৯ মার্চ রবিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোট। সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। নির্বাচন কমিশন গতকাল ভোটের তফসিল ঘোষণা করে। একই সঙ্গে বগুড়া-১ ও যশোর-৬ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। বগুড়া ও যশোরে ভোট হবে একই দিনে, ২৯ মার্চ। আগের মতোই এ দুই উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে ব্যালট পেপারে। গতকাল আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ তিন নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। পরে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর এ তফশিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৭ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই  ১ মার্চ। ২-৪ মার্চ আপিল এবং আপিল নিষ্পত্তি  ৫-৭ মার্চ। ৮ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। ৯ মার্চ প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। ভোটগ্রহণ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান। চট্টগ্রাম সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড ৪১টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৪টি। মোট ভোটার ১৯ লাখ ২ হাজার ৮১১ জন। সম্ভব্য ভোট কেন্দ্র ৭২১ এবং ভোটকক্ষ ৫ হাজার ১৪২টি। চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হবে চলতি ২০২০ সালের ৫ আগস্ট। গত ১৮ জানুয়ারি সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে বগুড়া-১ এবং ২১ জানুয়ারি সংসদ সদস্য ও সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে যশোর-৬ আসন ফাঁকা হয়। বগুড়া ও যশোর উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের।

ভোটাররা ঘুম থেকে ওঠে না, তাই ভোট ৯টায় শুরু -ইসি সচিব : ভোটারদের ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয় বলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাধারণ নির্বাচন ও শূন্য ঘোষিত বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ সকাল ৮টার পরিবর্তে ৯টায় শুরু করা হয়েছে। গতকাল নির্বাচন ভবনে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর। ভোট ৮টা থেকে ৪টার পরিবর্তে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ভোটাররা ৮টায় ঘুম থেকে ওঠে না। এ জন্য ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটগ্রহণ সকাল ৯টা থেকে ৫টা করা হয়েছে। সকালে ভোট হলে ভোটার উপস্থিতি কম দেখি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়ে। সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি ভোটের প্রসঙ্গ টেনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটাররা কাদের দোষে ভোট কেন্দ্রে যাননি আর যারা যাননি এটা তাদের জিজ্ঞেস করেন। তারাই ভালো বলতে পারবেন। ইভিএমে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তাকারী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষে অবস্থান করেছে। এটা প্রতিরোধে এবার কী ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে? জানতে চাইলে সচিব বলেন, এ ধরনের কাজ করার সুযোগ নেই। নির্বাচন করা একক কারও দায়িত্ব নয়। এটা নির্বাচন কমিশন, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন সেসব প্রার্থী, তাদের সমর্থক, ভোটার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবার সমন্বিত দায়িত্ব। সবাই যদি যার যার দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে দায়টা কার উপরে পড়বে? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, যদি প্রত্যেক প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট থাকে, তাহলে সেখানে কোনো সুযোগ থাকবে না। যারা নির্বাচন করবেন তারা যেন তাদের পোলিং এজেন্ট দেন।

ইসিকে মলম পার্টি নিয়েও কাজ করতে হয় -সিইসি : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, লন্ডনে কেউ ছয় মাস থাকলে নির্বাচনের আগে তাদের নিবন্ধন দিয়ে দেয়। ভুয়া ভোটার নেই বলেই তারা ধরে নেয়। আর আমাদের দেশে নির্বাচন কমিশনকে মলম পার্টি, পকেটমার, ব্যাগ টানা পার্টি ও ক্যাসিনো মেম্বার নিয়ে কাজ করতে হয়।

গতকাল আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ৪৯ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার যোগদান উপলক্ষে ১২দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। সিইসি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় গুলিস্তান মহল্লায় হকারদের কাছ থেকে কেউ টাকা নেন। কিছুদিন পর হয়তো তাকে নেতা হতেও দেখা যায়। এই ব্যক্তি একদিন এমপিও হতে পারেন। এই ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’  নিয়ে ইসিকে কাজ করতে হয়। উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নানা পেশার প্রার্থীর মধ্যে কমিশনের কাজ করার কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, আমাদের দেশে তো মলম পার্টি নিয়ে কাজ করতে হয়। ব্যাগ টানা পার্টি নিয়ে কাজ করতে হয়। আমাদের দেশে ক্যাসিনো মেম্বার নিয়ে কাজ করতে হয়। আমাদের পকেটমার নিয়ে কাজ করতে হয়। তারা কেউ হয়তো ভোটার, কেউ হয়তো কমিশনার হয়ে যায়। দেখা গেল একবার যে গুলিস্তান মহল্লায় বা হকারদের কাছ থেকে টাকা নেয়; কিছুদিন পর হয়তো দেখা গেল সে নেতা, পাতি নেতা, উপনেতা- তারপর পূর্ণ নেতা। তারপর কমিশনার।

নূরুল হুদা বলেন, এগুলোও তো আমাদের দেখতে হয়। কে জানে যে একদিন এমপি হবেন না তিনি। সুতরাং সেই ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। সেই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের যারা সবকিছু নিয়ে কাজ করেন, তাদের সামাল দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের (নির্বাচন কর্মকর্তাদের)। এই দায়িত্ব আর কারও ওপর দেওয়া হয়নি। আমাদের দেশে অনেক সময় বলা হয়, আমেরিকা এমন করে, সুইজারল্যান্ড, জার্মানিতে এ রকম হয়, আমাদের এখানে হয় না কেন? সেদিন একটা পলিটিক্যাল পার্টি এসে একথা বলেছিল। আমি অত্যন্ত নিচু গলায় বললাম কানে কানে, আগে সুইজারল্যান্ড হতে হবে, তারপর। ইউ মাস্ট থিংক গ্লোবালি, বাট অ্যাক্ট লোকালি। তবে সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। সিইসি বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে অনেক কথা বলা হয়। সুইজারল্যান্ডেও কাগজের ব্যালটে ভোট হয়। কিন্তু সেখানে যুদ্ধের মতো বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হয় না। পোস্টারে আকাশ ঢেকে যায় না, বাতাস বন্ধ হয়ে আসে না। ইভিএমের ফলে এখন আর সেই দশটা হুন্ডা, বিশটা গুন্ডার যুগ নেই। এদের ভাড়া করতে প্রার্থীদের যেতে হবে না। যারা ভোট ছিনতাই করবে, তাদের কাছে যেতে হবে না। আর নির্বাচনে যারা দায়িত্বে থাকেন, তাদের পেছনে যারা টাকা দেয়, তাদের কাছেও যেতে হবে না। একমাত্র ইভিএমই পারে, ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের নিয়ে যেতে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর