শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মার্চ, ২০২০ ২৩:১৫

সারা দেশে সব কিছু বন্ধ

রাস্তাঘাট জনশূন্য, সেনা-পুলিশের টহল, যানবাহন বন্ধ, পণ্যবাহী গাড়িতে বাধার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে সব কিছু বন্ধ
নরসিংদীতে জনসচেতনতায় মাইকিং করছেন টহলরত সেনাসদস্যরা -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিদেশফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে ও সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখতে সারা দেশ কার্যত এখন বন্ধ। ট্রেন, লঞ্চ আর বাস চলাচল আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট গতকাল সাত দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিমানেরও সব ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। আর এর মধ্য দিয়ে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে সরকারি অফিস-আদালত ও বিপণিবিতান। কফি শপ-রেস্তোরাঁও খোলা নেই। রাজধানীসহ সারা দেশের বেশির ভাগ সড়কই এখন জনমানবশূন্য, ফাঁকা।

রাজধানীর ফাঁকা সড়কে যৌথ রোবাস্ট প্যাট্রল করেছেন পুলিশ, র‌্যাব ও সেনা সদস্যরা। এ সময় তারা রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় কিছু কার্যক্রমও চালান। যেমন মোহাম্মদপুরে নতুন করে ৫৪টি বাড়ি লাল কালিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব বাড়িতে প্রবাসীদের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হলেই তাকে পথে পথে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অযথা আড্ডা দিতে বের হলে কোথাও মৃদু পিটুনির শিকারও হয়েছেন কেউ কেউ।

৭০ লাখ মানুষের শহর বন্দরনগর চট্টগ্রাম এখন অনেকটাই নিস্তব্ধ। অনেকেই শহর ছেড়েছেন, অনেকেই শহরে ঘরবন্দী। জীবিকার তাগিদে বেরোতে হয়েছে কাউকে কাউকে। নিস্তব্ধ শহরের মূল সড়কগুলোয় পুলিশ-সেনাবাহিনীর টহল চলছে। তবে অলিগলিতে কোথাও কোথাও কিশোর-তরুণদের আড্ডা দেখা গেছে। পাড়ায়-পাড়ায় মসজিদ, উপাসনালয়ে লাগানো মাইকে চলছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) করোনা সতর্কতার বার্তা প্রচার। এ ছাড়া কোথাও কোথাও পণ্যবাহী গাড়ি আটকানোর অভিযোগও রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

এদিকে দেশের সব কটি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরির চালক ও হেলপাররা। মহাসড়কের কোথাও রেস্টুরেন্ট খোলা না থাকায় তাদের খাওয়ার সমস্যা হচ্ছে। তারা বিশ্রাম নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় পণ্য পরিবহন বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনশূন্য রাজধানীর সড়ক : করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে টানা ১০ দিনের সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পর গতকাল ছিল দ্বিতীয় দিন। অঘোষিত লকডাউনের এ দিনেও রাজধানীর সড়কগুলো ছিল জনশূন্য। স্বল্পসংখ্যক প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও রিকশা চলাচল করলেও সড়কে ছিল না কোনো গণপরিবহন। নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল। টহলরত গাড়িগুলো থেকে সচেতনতামূলক মাইকিং করতেও দেখা গেছে।

রাজধানীতে সচেতনতামূলক যৌথ রোবাস্ট প্যাট্রল করেছেন পুলিশ, র‌্যাব ও সেনা সদস্যরা। গতকাল বিকালে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া এ যৌথ টহল শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, হাতিরঝিল, শেরেবাংলানগর হয়ে তেজগাঁও ডিসি অফিসে এসে শেষ হয়। পুলিশ-র‌্যাবের মোটরসাইকেল এ রোবাস্ট প্যাট্রলিংয়ের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়। সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রায় শতাধিক গাড়ি অংশ নেয়। এ সময় মাইকে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকতে, বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতসহ বিভিন্ন সচেতনতার আহ্বান জানানো হয়। ডিএমপির পক্ষ থেকে টহলের নেতৃত্ব দেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব বিজয় তালুকদার, র‌্যাবের নেতৃত্বে ছিলেন এসপি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী এবং আর্মড ফোর্সেসের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মেজর বেলাল।

ডিসি বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তেজগাঁও বিভাগ থেকে র‌্যাব, আর্মড ফোর্সেস ও পুলিশ মিলে যৌথ টহলের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা মানুষকে সচেতন করছি। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আপনারা ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন। আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলুন।

এদিকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিংসহ এলাকার ৫৪টি ভবন লাল কালিতে মার্ক করেছে পুলিশ। বাড়িগুলো পুলিশের নজরদারিতে থাকবে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ওই ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বলে লাল কালিতে মার্কিং করে।

বিশ্ব মহামারী করোনাভাইরাস থেকে রাজধানীবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গতকাল তৃতীয় দিনের মতো নগরীর বিভিন্ন স্থানে জীবাণুনাশক ছিটিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের নির্দেশনায় প্রতিদিন দুবার করে ওয়াটার ক্যানন দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো শুরু হয়েছে।

বন্ধ বিমানের সব রুট : যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট সাত দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিমানের সব রুটের ফ্লাইটই বন্ধ হয়ে গেল। গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোকাব্বির হোসেন সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান (করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট) পরিস্থিতিতে বিমানের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট আপাতত সাত দিনের জন্য স্থগিত করা হলো। আগামী ৩০ মার্চ ঢাকা থেকে ওই দুটি গন্তব্যে ফ্লাইট যাবে এবং পরদিন ফেরত আসবে। এরপর স্থগিতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।’

যাত্রী সংকট ও স্ব স্ব দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সব রুটে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ করেছে বিমান। পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিষেধাজ্ঞার কারণে অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে বৈশ্বিক মহামারীতে পরিণত করোনাভাইরাসের কারণে শুধু বিমান নয়, বিশ্বের বেশির ভাগ এয়ারলাইনসই তাদের ফ্লাইটের সংখ্যা সীমিত করেছে। অনেক দেশই ভিনদেশের ফ্লাইটের আগমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতেই দেশগুলোর বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সিদ্ধান্তে গেছে।

রাজশাহী থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গতকাল রাজশাহীতে অ্যাকশনে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল থেকে নগরীর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লাঠিপেটার পাশাপাশি কান ধরে উঠবোস করানো হয়েছে নির্দেশনা ভঙ্গকারীদের। রাজশাহীতে মাস্ক না পরে ঘুরে বেড়ানোয় তিন যুবককে কান ধরে উঠবোস করায় পুলিশ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরাও নগরীজুড়ে টহল দিয়ে অযথা ঘোরাঘুরির কারণে লাঠিপেটা করেন।

বরিশাল থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, দীর্ঘ ১০ দিনের সরকারি বন্ধের পাশাাপশি চারদিকের সবকিছু স্থবির। এ অবস্থায় বিপদগ্রস্ত দিনমজুর ও শ্রমিকদের পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয় বরিশালের জেলা প্রশাসন। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১ লিটার সয়াবিন তেল, ৫ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি পিয়াজ ও একটি করে সাবান দেওয়া হচ্ছে। জেলার হতদরিদ্র সব মানুষকে এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে গতকাল বিকালে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান।

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, বিভিন্ন জনসমাগম এলাকা একবারে নির্জন হয়ে রয়েছে। সব রাস্তাই যেন লোকশূন্য। বন্ধ হয়ে রয়েছে সব দোকানপাট। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে ঠাকুরগাঁওয়ে জোরদার করা হয়েছে সেনাবাহিনীর টহল।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পুলিশ নানা সচেতনতা কার্যক্রম করেছে। গতকাল দিনব্যাপী জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়। শহরের পাঁচআনি বাজার, ছয়আনি বাজার, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন্ এলাকায় পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি টিম করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এদিকে টাঙ্গাইল শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কুড়িগ্রামে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে তৃতীয় দিনের মতো জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান ও নিত্যপণ্যের দোকান খোলা থাকলেও সন্ধ্যা ৭টার পর ফাঁকা হয়ে যায় রাস্তাঘাট। গণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় বাসস্ট্যান্ডও ফাঁকা হয়ে পড়েছে। জেলায় করোনা সতর্কতায় যানবাহনসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া রিকশাচালক, ভ্যানচালকসহ বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের সহায়তায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। প্রতি উপজেলায় ২ শতাধিক কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের তালিকা করে প্রতি জনকে ১০ কেজি করে চাল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি ডাল, লবণ ও সাবান কিনে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুরে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ওষুধ, কাঁচামাল, খাদ্যদ্রব্য ও প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের ছাড়া অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে সেনাবাহিনী। নড়িয়া উজেলায় ইতালিপ্রবাসী বেশি হওয়ায় সেখানেও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টিম কাজ করছে।

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, সরকার ঘোষিত ছুটির দ্বিতীয় দিনে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম রোধ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নরসিংদীতে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। গতকাল সকাল থেকে নরসিংদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, ওষুধের দোকান ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ রাখা নিশ্চিত করতে নরসিংদীতে অভিযান পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টিতে নাটোরে চলছে সেনাবাহিনীর টহল ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জীবাণুনাশক ওষুধ স্প্রে। গতকাল সকাল থেকেই নাটোরের বিভিন্ন স্থান টহল দিতে শুরু করেন সেনা সদস্যরা। এ ছাড়া সেনা সদস্যরা কেন্দ্রীয় মসজিদের ভিতরে বাইরে, সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জীবাণুনাশক স্প্রে ও জেলার বিভিন্ন সড়ক জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করেন।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনায় একদিকে সেনা সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। অন্যদিকে কাজের খোঁজে বেরিয়েছেন দিনমজুররা। প্রতিদিনের মতো অল্পসংখ্যক খেটে খাওয়া মানুষকে গতকাল সকালেও তেরী বাজার মোড়ে কাজে যাওয়ার জন্য অবস্থান করতে দেখা গেছে। তাদের দাবি, কাজ না করলে এক বেলার খাবারও জুটবে না। সেজন্যই ভয় থাকার পরও কাজের খোঁজে বেরিয়েছেন। অন্যদিকে শহরের মোক্তারপাড়া, তেরী বাজার মোড়, আখড়ার মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক করছেন। ১৯ পদাতিক ডিভিশনের ৮ ইস্ট বেঙ্গলের ক্যাপ্টেন এ এইচ এম আতিকুল হক এক প্লাটুন সদস্য নিয়ে নেত্রকোনা সদর টহল দেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসন ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারে নামে সেনাবাহিনী। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয় এ প্রচার কার্যক্রম।

আড়াইহাজার প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতামূলক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী টহল শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে। গতকাল দিনব্যাপী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ হোসেন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হোসেনের নেতৃত্বে এ টহল শুরু হয়। সেনাবাহিনী দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে উপজেলা সদর, কালীবাড়ী, দুপ্তারা, পাঁচগাও, মানেহর, বালিয়াপাড়া, পুরিন্দা, পাঁচরুখী এসব স্থানে টহল দেয়। তারা হ্যান্ডমাইকে জনগণকে ঘর থেকে না বেরোনোসহ সরকারি সব নির্দেশ মান্য করে চলার তাগিদ দেন।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গোপালগঞ্জে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা অভিযান চালিয়ে একটি হাট ছত্রভঙ্গ করে দেন। গতকাল দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের বড় বাজার এলাকার হাট ছত্রভঙ্গ করেন তারা। সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সাপ্তাহিক হাট বসতে শুরু করে বড় বাজার এলাকায়। খবর পেয়ে সেনা সদস্যরা উপস্থিত হয়ে অভিযান চালান। মুহূর্তের মধ্যে দোকানিদের হাট থেকে দোকান তুলে নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন। ফলে ব্যবসায়ীরা অস্থায়ী দোকান তুলে নেন। ক্রেতারা দ্রুত হাট ত্যাগ করেন।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে জীবাণুনাশক স্প্রে করেছে সশস্ত্র বাহিনী। তারা পানিতে ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে কীভাবে গাড়ি জীবাণুমুক্ত রাখা যায় সে পদ্ধতি শিখিয়ে দেয় সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালকদের। গাড়ির চাকা ও সিট পরিষ্কার করাসহ জীবাণুনাশক দিয়ে চালকদের হাত ধোয়ার পদ্ধতিও শেখানো হয়।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল দুপুরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ও জামালপুর শহরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রধান সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও কাঁচাবাজারে জীবাণুনাশক ছিটায় সেনাবাহিনী। তাদের একটি দল পানির ট্যাংক ও হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে শহরের প্রধান সড়ক ছাড়াও জেনারেল হাসপাতাল, বকুলতলা চত্বর, সকাল বাজারে জীবাণুনাশক ছিটায়। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে টহল দেওয়ার সময় সেনা সদস্যরা সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করেন।

বগুড়া থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বগুড়া সদর উপজেলার সব স্থানে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন সদর থানা পুলিশের সদস্যরা। গতকাল বিকালে বগুড়া সদর থানা থেকে নিজ নিজ এলাকায় পুলিশ সদস্যরা টহল দেওয়া শুরু করেন। বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে ও মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।

পর্যটকশূন্য কক্সবাজার, সাগরে ডলফিনের খেলা : কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে কোনো ধরনের পর্যটক নিষিদ্ধ। সৈকত ও সাগরে নামতে দেওয়া হচ্ছে না স্থানীয়দেরও। গত সাত দিনে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরে এসেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। গত সোমবার সকালে পর্যটকশূন্য কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বিরল ডলফিনকে খেলা করতে দেখা গেছে।

সৈকতের কলাতলি পয়েন্টে সোমবার সকাল থেকে একদল ডলফিনকে খেলা করতে দেখা যায়। ১০-১২টি ডলফিনের এ দলটি সকাল ৯টা থেকে সাগরে নীল জলে লাফিয়ে লাফিয়ে খেলা করছিল। সমুদ্রসৈকতের কলাতলি পয়েন্টের একদম কাছেই ডলফিনগুলোকে খেলা করতে দেখা গেছে। সমুদ্রপাড় থেকে ডলফিনের খেলা করার দৃশ্য পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল।

স্থানীয়রা জানান, সকালে স্থানীয় কয়েকজন সার্ফার সমুদ্রসৈকতে সার্ফিং করতে গিয়ে ডলফিনের এ দলটি দেখতে পান। এ সময় সার্ফার মাহবুবুর রহমান ডলফিনদের খেলার দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করেন। সার্ফার দলটি উঠে যাওয়ার পর ডলফিনের দলটি সৈকতের আরও কাছে এসে খেলতে থাকে। দুপুরের পর ডলফিনের দলটি আর দেখা যায়নি।

মহাসড়কে হোটেল বন্ধ : দেশের সব কটি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মালিকরা। এতে সমস্যায় পড়েছেন পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরির চালক ও হেলপাররা। মহাসড়কের কোথাও রেস্টুরেন্ট খোলা না থাকায় তাদের খাওয়ার সমস্যা হচ্ছে। তারা বিশ্রাম নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় পণ্য পরিবহন বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভিন্ন এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখতে বাধ্য করছে। তবে হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, এরই মধ্যে তারা সমস্যাটি সমাধান করে দিয়েছেন। কোনোভাবেই যেন পণ্য পরিবহন বিঘিœত না হয় সেদিকে তারা নজর দিচ্ছেন।

হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান : চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৫ থানা এলাকায় করোনাভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ ও বাজার মনিটরিংয়ে জেলা প্রশাসনের তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের নির্দেশে গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নগরের ডবলমুরিং, বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, খুলশী, বাকলিয়া, চকবাজার, বায়েজিদ, সদরঘাট ও কোতোয়ালি, পাহাড়তলী, আকবরশাহ ও হালিশহর থানা এলাকায় করোনাভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। পৃথক চারটি অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম, আশরাফুল হাসান ও ওমর ফারুক।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে আইন না মানায় জরিমানাও করা হয়েছে। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর