শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মার্চ, ২০২০ ২৩:১৬

মৃত্যুর বিভীষিকায় যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বে আক্রান্ত সাড়ে পাঁচ লাখ, মৃত্যুর মিছিল ২৬ হাজার ছাড়িয়ে

প্রতিদিন ডেস্ক

মৃত্যুর বিভীষিকায় যুক্তরাষ্ট্র
ব্যস্ত নিউইয়র্ক শহর এখন যেন অচেনা -এএফপি

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে চীন, ইতালি, স্পেনকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন মৃত্যুর বিভীষিকা বিরাজ করছে। এখানে করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়ে গেছে ৮৬ হাজারে। ফলে চীনের অবস্থান চলে গেছে দ্বিতীয়তে। এ দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৮১ হাজার মানুষ। এ ছাড়া তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৬০০। চতুর্থ অবস্থানে থাকা স্পেনে এ সংখ্যা ৬৫ হাজার, পঞ্চম অবস্থানে থাকা জার্মানিতে সাড়ে ৪৭ হাজার, ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা ইরানে সাড়ে ৩২ হাজার এবং সপ্তম অবস্থানে থাকা ফ্রান্সে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। সূত্র : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

গত রাত ১২টায় পাওয়া ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ৪১৩, মোট আক্রান্ত ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১১ জন, সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৯২৯। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১ হাজার ৩৪২ জনের এবং আক্রান্ত ৩৩ হাজার ২৪৫ জন।

আক্রান্তের শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র : চীনসহ বিশ্বের সব দেশকে ছাড়িয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে শীর্ষে অবস্থান করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এক দিনে নতুন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে ১৭ হাজারের বেশি মানুষকে। সব মিলিয়ে গতকাল সকাল পর্যন্ত আমেরিকায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৫ হাজার ৯৯১। জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৩২ হাজার ৭৮৮ জন। এর মধ্যে চীনে ৮১ হাজার ৭৮২ জন। এর পরই আছে ইতালি, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৫৮৯। তারপর স্পেনের অবস্থান।

গত বৃহস্পতিবার নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চললেও করোনাজনিত কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে আগামী চার মাসে আমেরিকায় মৃতের সংখ্যা ৮১ হাজারে পৌঁছাতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের স্কুল অব মেডিসিনের হেলথ মেট্রিকস্ অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী আগামী এপ্রিল নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন ২ হাজার ৩০০ মানুষ কভিড-১৯ রোগে মারা যেতে পারে। এ বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এখন মৃত্যুর বিভীষিকা বিরাজ করছে। মানুষ আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাজ্যে প্রতি ১৩ মিনিটে মৃত্যু একজনের : বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ইউরোপ। ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স রীতিমতো মৃত্যুপুরী। জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্যের অবস্থাও ভয়াবহ। যুক্তরাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৫৮, মারা গেছেন ৫৭৮ জন। ডেইলি মেইল জানায়, গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হন ২ হাজার ১২৯ জন, প্রাণ হারান ১১৫ জন। অর্থাৎ যুক্তরাজ্যে প্রতি ১৩ মিনিটে একজন মারা যাচ্ছেন করোনায়।

স্পেনে মৃত্যুর মিছিল : মৃত্যুর দিক থেকে ইতালির পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে মারা গেছেন ৪ হাজার ৩৬৫ জন। প্রাণঘাতী করোনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে দেশটিতে। এখানে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৬৯ জন। গতকাল স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে করোনায় রেকর্ড আরও ৭৬৯ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫৮-এ।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বলছে, করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে গত ২৪ ঘণ্টায়। আগের ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৩৮ জনের প্রাণহানির রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে শুক্রবারের এ প্রাণহানি। এ ছাড়া দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭ হাজার ৮৭১ জন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন; যা নিয়ে দেশটিতে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৪ হাজার ৫৯-এ। বৃহস্পতিবারও এ সংখ্যা ছিল ৫৬ হাজার ১৮৮।

ইতালির অবস্থা ভয়াবহ : ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে করোনার ভয়াবহ প্রকোপ চলছে ইতালিতে। দেশটির স্বাস্থ্য খাতের কর্মীরা করোনা সংক্রমিতদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। করোনায় প্রাণহানিতে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে ইতালি, স্পেন। ইতালিতে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ৮ হাজার ২১৫ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮৯ জন। এর মধ্যে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন ৭২৩ জন।

সৌদি আরবে থুথু ফেললেও শিরন্ডেদ : সৌদি আরবে একটি বিপণিবিতানের ট্রলিতে থুথু ফেলায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার শিরন্ডেদ করা হতে পারে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় হাইলে শপিং ট্রলিতে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি থুথু ফেলেন। তিনি এমন সময় কাজটি করলেন, যখন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক জোর চেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি সরকার। সৌদি অনলাইন ওয়েবসাইট আজেলের খবরে বলা হয়েছে, বিপণিবিতানে থুথু ফেলা সৌদিতে বড় ধরনের অপরাধ। এ ধরনের কাজ ধর্মীয় ও আইনগতভাবে নিন্দনীয়। আর এ আইন লঙ্ঘনকে সমাজে ইচ্ছাকৃতভাবে করোনাভাইরাস ও জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কাজেই এ অপরাধের সাজা হিসেবে ওই ব্যক্তির শিরন্ডেদ করা হতে পারে। উল্লেখ্য, ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে ২৬ মার্চ পর্যন্ত সৌদিতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আর দেশটিতে মোট ১ হাজার ১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

ইসরায়েলে প্রাণ গেছে আটজনের : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে ইসরায়েলে ২ হাজার ৬৯৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন আটজন। আক্রান্তের মধ্যে ৪৬ জনের অবস্থা সংকটপূর্ণ। জেরুজালেম পোস্ট জানায়, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের করোনাভাইরাস-বিষয়ক কমিটি সংসদের প্রথম বৈঠকে গত বৃহস্পতিবার এ পরিসংখ্যান তুলে ধরে। এ-বিষয়ক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে নেসেটের রিসার্চ অ্যান্ট ইনফরমেশন সেন্টার। কমিটির সদস্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল মোশে বার সিমান বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৬৯৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৬ জনের অবস্থা সংকটপূর্ণ। এ পর্যন্ত মারা গেছেন আটজন। বৃহস্পতিবার মারা গেছেন পাঁচজন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে রয়েছি যেখানে প্রতি তিন দিনে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হচ্ছে।’

জার্মানিতে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত : জার্মানিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। দেশটিতে গতকাল সকাল পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ২৮৮। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৫৩ জন। দেশটির সংক্রমণ রোগবিষয়ক সংস্থা রবার্ট কোচ ইনস্টিটিউট এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জি-২০ নেতাদের : মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে হতে যাওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলা এবং যে কোনো মূল্যে কভিড-১৯ এর বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ২০ অর্থনীতির দেশের নেতারা। খবর বিডিনিউজের

গতকাল দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জি-২০র পদক্ষেপ কি হতে পারে তা ঠিক করতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ জরুরি সম্মেলনে যোগ দেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সৌদি বাদশা সালমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে তারা ভাইরাসটির বিস্তৃতি রুখতে কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের বিনিয়োগ করারও আশ্বাস দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হওয়া প্রায় সব জি-২০ সম্মেলনেই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বিষয়ে যে মতবিরোধ দেখা যাচ্ছিল বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে তা ছিল একেবারেই অনুপস্থিত। এ দিনের বৈঠকে শীর্ষ অর্থনীতির  দেশগুলো সীমান্ত দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা উপকরণ ও অন্যান্য পণ্যের প্রবাহ যেন সচল থাকে তা নিশ্চিত করা এবং সাপ্লাই চেইনের সংকট মোকাবিলায় এক হওয়ার কথাও বলেছেন। সবার জন্য দেখা দেওয়া এই হুমকির বিরুদ্ধে লড়তে ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট উপস্থাপনে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ- যৌথ বিবৃতিতে এমনটাই বলেছেন দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জি-২০র ধীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে জোটের বর্তমান চেয়ার সৌদি আরব ভিডিও কনফারেন্সে এ সম্মেলন করার উদ্যোগ নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে জানান, করোনাভাইরাসজনিত সংকট মোকাবিলায় ‘অভূতপূর্ব উদ্দীপনা’ দেখিয়েছে জি-২০র ভিডিও কনফারেন্স।  ট্রাম্প গতকাল ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে টেলিফোনে আলাদা করে কথাও বলেছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর