শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মার্চ, ২০২০ ২৩:৩৭

সেনাবাহিনী র‌্যাব পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত

বিশেষ প্রতিনিধি

সেনাবাহিনী র‌্যাব পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত
সিলেটের বিশ্বনাথে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে মাঠে সেনাবাহিনীর প্রচার -বাংলাদেশ প্রতিদিন

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহতা ঠেকাতে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তারা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা, নিয়মিত হাত ধোয়া, অযথা ঘোরাফেরা না করে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করা, যানবাহনে জীবাণুনাশক ওষুধ স্প্রে করাসহ নানা ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছিল চোখে পড়ার মতো। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজশাহী : করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে প্রশাসন। মাঠ প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জনসচেতনতা বাড়াতে চালাচ্ছেন প্রচারণা। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দরিদ্র মানুষদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে যান চলাচল ও দোকানপাট বন্ধসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে জেলা-উপজেলায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং মাইকিং করে নির্দেশনা দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। আর এই নির্দেশনা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে সেনাবাহিনী। গতকাল সকালে বাঘা, চারঘাট ও পুঠিয়া উপজেলায় জনসচেতনতা বাড়াতে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মাইকে প্রচারণা চালিয়েছে সেনাবাহিনী। বিকালে জেলার তানোর উপজেলা ও লক্ষ্মীপুরে প্রচারণা চালানো হয়। সেনাবাহিনীর রাজশাহীর দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইদুল ইসলাম জানান, মাঠ প্রশাসনের পাশাপাশি তারা জনগণকে সচেতন করতে কাজ করছেন। এদিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অনেক দরিদ্র মানুষ কাজের সন্ধানে বাইরে আসতে পারছেন না। এজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে গেছেন জেলা প্রশাসক। সকালে পবা উপজেলায় দরিদ্র মানুষদের মধ্যে চাল বিতরণ করেন। জেলা প্রশাসক হামিদুল হক জানান, এ সময় সবাইকে সচেতন হয়ে কাজ করতে হবে।

সিলেট : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সিলেট বিভাগ চষে বেড়াচ্ছে সেনাবাহিনীর ২০টি টিম। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত তারা ছুটছেন মানুষকে সচেতন করতে। লোকজনকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে গতকাল সিলেট নগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা মাইকিং করেছেন। এ ছাড়া রাস্তা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জীবাণুনাশক ছিটাতে দেখা গেছে সেনাসদস্যদের। এ ছাড়া নগর ও নগরের বাইরে সেনাসদস্যরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জরুরি সেবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে তাদের সামাজিক দূরত্ব চিহ্নিত করে দাগ দিতে দেখা যায়। গতকাল সিলেটের কয়েকটি চা-বাগান এলাকা পরিদর্শনে যান সেনাসদস্যরা। এ সময় তারা চা-শ্রমিকদের করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে কী কী করতে হবে তা বুঝিয়ে বলেন। এ ছাড়া হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসফেরতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা খোঁজ নেন।

বগুড়া : জেলা পুলিশের উদ্যোগে দূরপাল্লাসহ সব ধরনরে যানবাহনে জীবাণুনাশক ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে বগুড়া শহরের মাটিডালী বিমান মোড়ে বিভিন্ন যানবাহনে জীবাণুনাশক তরল ওষুধ ছিটানো হয়। বগুড়া জেলা শহরের প্রবেশদ্বারে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা। পুলিশ সদস্যরা এ সময় মহাসড়কে চলাচলকারী সব যানবাহনে জীবাণুনাশক স্প্রে করেন। এ সময় করোনা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকাসহ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। এ ছাড়া বগুড়ার নন্দীগ্রামে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাপ্তাহিক হাট বসানোয় তা ভেঙে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আইন অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় দুই প্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার ও চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়ায় দুজনকে ৬০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে উপজেলার ২৩টি ও পৌরসভার তিনটি সাপ্তাহিক হাট গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বন্ধ ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। এদিকে গতকাল সকালে পৌর শহরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাপ্তাহিক হাট বসানো হয়। কাঁচাবাজারসহ নিত্যপণ্য কিনতে শত শত মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েন। বেড়ে যায় জনসমাগম। পরে সকাল ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. শারমিন আখতার থানা পুলিশের সহযোগিতায় নিয়ে হাট ভেঙে দেন। এ ছাড়া জনসমাবেশ ঠেকাতে প্রশাসনের ঘোষিত আইন অমান্য করে পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দোকান খোলা রাখায় দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার টাকা ও কুন্দারহাটে চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়ায় দুজনকে ৬০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতার জানান, নিষেধাজ্ঞার পরও সাপ্তাহিক হাট বসার কারণে হাট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আইন অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় ও চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে। ঘরে বসে থাকা কর্মহীন, অসহায়, বৃদ্ধ ও গরিবদের মধ্যে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। গতকাল জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মহীনদের মধ্যে এই খাদ্য বিতরণ করে। জেলা চালকল মালিক সমিতি ও জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তার উদ্যোগে ৫ হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলাম জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং চালকল মালিকদের উদ্যোগে এই ত্রাণ জেলা প্রশাসকের কাছে বিতরণের জন্য দেওয়া হয়।  বগুড়ার সমাজসেবক মেসার্স শুকরা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবদুল মান্নান আকন্দ জানান, ২০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিদিনই এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না। সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার সকালে বেশ কিছু শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন তিনি। পত্রিকা বিক্রেতা, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সহযোগী শ্রমিক, কাঠশ্রমিক, রিকশাশ্রমিক, সেলাইশ্রমিক, বয়স্ক নাট্যকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রমিকের মধ্যে তিনি এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া কিছু সাংস্কৃতিক কর্মীর মধ্যে চাল বিতরণ করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। গতকাল সকালে জেলা শহরের সাতমাথায় বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় কর্মহীন ও অসহায় হয়ে পড়া কিছু যন্ত্রশিল্পী, বাউলশিল্পীসহ ৩০ জন সাংস্কৃতিক কর্মীর মধ্যে এই চাল বিতরণ করা হয়। চাল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সিদ্দিকী, বগুড়া ইয়ুথ কয়ারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল আলম টিপু, জোটের সহ-সভাপতি মতিয়ার রহমান, আসাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ রবিউল আলম অশ্রু, দফতর সম্পাদক এইচ আলিম। ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল সনি, বগুড়া রাজাবার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল কুমার রাজ, বগুড়া কাহালু-নন্দীগ্রাম আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান বিতরণ করেন।

নোয়াখালী : নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা, নিয়মিত হাত ধোয়া, অযথা ঘোরাফেরা না করে বাড়িতে অবস্থান করাসহ নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। গতকাল দুপুরে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীসহ বিভিন্ন স্থানে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সেনানিবাসের ৩৩ আর্টিলারি ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সামছুল আরেফীন, ১৬ ফিন্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি অধিনায়ক লে. কর্নেল উজ্জ্বল আহমেদ ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল। বেলা দেড়টার দিকে জেলা শহর মাইজদীর পৌরবাজার এলাকায় প্রধান সড়কের পাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে নির্দিষ্ট দূরত্বের চিহ্ন এঁকে দেওয়া হয়। এ সময় শহরে চলাচলকারী গাড়িতে জীবাণুনাশক ছিটানো, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অযথা বাইরে না থেকে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কুষ্টিয়া : সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাজারে এসে আড্ডা দেওয়া ও মাঠে-ঘাটে ঘুরে বেড়ানো মানুষকে ঘরে ফেরাতে কুমারখালীতে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বেলা ১২টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সচেতনতা কর্মসূচির পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার বাটিকারা, তারাপুর মোড়, মহেন্দ্রপুর বাজার ও হাশিমপুর বাজার এলাকার রাস্তায় রাস্তায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাজারের দোকান খোলা রাখায়, মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানোয় এবং গণজমায়েত করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ছয়টি মামলায় প্রায় তিন হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ মুহাইমিন আল জিহানের নেতৃত্বে নন্দলালপুর, কয়া ও শিলাইদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা কর্মসূচির আওতায় রাস্তায় রাস্তায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সম্পর্কিত প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় গণজমায়েত, পাড়া-মহল্লার দোকানে আড্ডা, মাঠে শিশু-কিশোরদের ক্রিকেট খেলা, মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত যাত্রী আরোহণ ও পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে যাত্রীদের চলাচল করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। গ্রামের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়া ও চায়ের দোকান খোলা রাখায় ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মেহেরপুর : হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় গাংনীতে দুই প্রবাসীর অর্থদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ানুর রহমান এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ অর্থদ- আদায় করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ানুর রহমান জানান, গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়নের হিজলবাড়িয়া গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মাসুদ রানা তার বাড়ি থেকে লাল পতাকা খুলে রাখা ও একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী জিল্লুর রহমান নিরুদ্দেশ হওয়ায় তাদের পরিবারের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে দুই হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। বিশ্বনাথ (সিলেট) : করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করছে সেনাবাহিনী। সংকট মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন তারা। সামাজিক দূরত্ব ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। হ্যান্ডমাইকে জানাচ্ছেন অহেতুক ঘোরাফেরা না করে ঘরে থাকতে। চায়ের দোকানে আড্ডা না দিতে ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে। প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় সেনাসদস্যদের। সেনাসদস্যদের বিভিন্ন ইউনিট পালা করে সচেতনতামূলক এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে। ফরিদপুর : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দূরত্ব বজায় না রেখে জনসমাগম করায় সাতজনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার রাতে উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের জরিমানা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মো. হাফিজুর রহমান টুটুল। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সোমবার রাতে জনসমাগম রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এ সময় সরকারি আদেশ অমান্য করে দোকান খোলা রেখে জনসমাগম করার অপরাধে ভাওয়াল এলাকার কামরুল ইসলাম, নারানদিয়া বাজারে মংরেজ, মাঝারদিয়া বাজারে আনিস, বাংরাইল মোড়ে হাফিজুর রহমান ও চান্দাখোলা বাজারের মনির হোসেনসহ প্রত্যেককে ৫০০ টাকা এবং চান্দাখোলা স্ট্যান্ডের দোকানদার হাই মোল্যা ও মিরাজ মোল্যাকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মেহেরপুর : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে কাজ করছে। ইতিমধ্যে জনসাধারণকে সহযোগিতা করার জন্য সেনাবাহিনীসহ  মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের উদ্যোগে গণসচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছেন। জেলা ও থানা সদরের প্রধান প্রধান সড়কে জনসচেতনতামূলক প্লাকার্ড নিয়ে র‌্যালি করছে। জেলার তিনটি থানার বিভিন্ন প্রান্তে সেনাবাহিনীর টহল জোরদার রেখেছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীদের বাড়ি নিয়মিতভাবে পরিদর্শন করে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করছেন তারা।

কিশোরগঞ্জ : কটিয়াদীতে ফার্মেসি অপরিষ্কার রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নামে প্রতারণার সময় এক ভুয়া নারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে ওই তিন প্রতারককে কিশোরগঞ্জ জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ঢাকার উত্তর বাড্ডা হোসেন মার্কেট এলাকার অজয় চন্দ্র ব্যানার্জির মেয়ে সাবরিন সুলতানা এ্যানি। তিনি নিজেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দেন। অপর দুজন কটিয়াদী উপজেলার চাতল গ্রামের মনসুর উদ্দিনের ছেলে এস এম আব্বাস ও একই উপজেলার রাসেল।

পাবনা : গণপরিবহন চলাচল ও দোকানপাট বন্ধের কারণে দুর্ভোগের শিকার দিনমজুর ও শ্রমিকদের মধ্যে পাবনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিতরণ করা হচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। গতকাল দুপুরে সদর উপজেলার দ্বীপচর-বাঁধের রাস্তার পাশে বসবাসরত পরিবারগুলোর মধ্যে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ।

বাগেরহাট : করোনা প্রতিরোধে বাগেরহাট পৌরসভায় গৃহবন্দী কর্মহীন চার হাজার দরিদ্র পরিবারকে সরকার ও পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া খাদ্য সহায়তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এসব খাদ্য সহায়তার প্রতিটি প্যাকেটে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল, ২ কেজি আলু ও একটি করে সাবান রয়েছে। গতকাল দুপুরে এসব খাদ্য সহায়তার ৪ হাজার প্যাকেট বাগেরহাট পৌরসভার বস্তিবাসীদের মধ্যে বিতরণ করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মানুনুর রশীদ। বাগেরহাট পৌরসভার বস্তিতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান, প্যানেল মেয়র আবদুল বাকী তালুকদার, আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফিরোজুল ইসলামসহ কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর : করোনাভাইরাস প্রতিরোধের এই সময়ে হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীদের মধ্যে ৩০০ জনকে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করল চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন। সোমবার দুপুর থেকে এই খাবার দেওয়া হচ্ছে। গতকাল দুপুরে শহরের আল-আরাফ হোটেল, চাঁদপুর হোটেল ও নতুনবাজার ক্যাফে ঝিলে এই খাবারের আয়োজন করা হয়। হতদরিদ্ররা হোটেলের টেবিলে বসে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন। হোটেলে খাবার পরিবেশন পরিদর্শন করেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহমুদ জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের ভিক্ষুকমুক্ত তহবিলের অর্থায়নে করোনা প্রতিরোধকালীন ক্ষতিগ্রস্ত ও খেটে খাওয়া মানুষদের প্রতিদিন একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। খাবারের মধ্যে থাকছে রুটি/ভাত, তরকারি, ডাল ও সবজি। ভাইরাস প্রতিরোধকালীন খাবার বিতরণ অব্যাহত থাকবে।

গোপালগঞ্জ : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় গভীর রাতে বেদেপল্লীতে গিয়ে তাদের ঘুম থেকে তুলে খাদ্যসামগ্রী হাতে তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম মাহফুজুর রহমান। সোমবার দিবাগত রাতে তিনি তারাশী ও ঘাঘরকান্দা বেদেপল্লীতে গিয়ে ১৬ জন বেদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান, কুশলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাদল উপস্থিত ছিলেন। খাদ্য সহায়তা পেয়ে বেদেপল্লীতে বসবাসকারীরা খুব খুশি হন। তারা বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা ঘরে অবস্থান করছেন। তাদের কোনো আয়-রোজগার না হওয়ায় আর্থিক অনটনের মধ্যে ছিলেন। সরকারি খাদ্য সহায়তা পেয়ে আমাদের সে সমস্যা দূর হয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় সরকার সবাইকে ঘরে থাকতে বলেছে। ফলে ভাসমান দোকানদার, ভ্যানচালক, দিনমজুর, ভিক্ষুক, বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের কোনো আয়ের পথ নেই। তাই আমরা সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম ধাপে সাড়ে ৩০০ অতিদরিদ্র পরিবারের মধ্যে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করব। এরই অংশ হিসেবে আমরা এই ১৬ জন বেদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি।’

ঝালকাঠি : ঝালকাঠিতে সেনাবাহিনীর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। করোনাভাইরাস যাতে না ছড়াতে পারে এজন্য মানুষকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। জরুরি কোনো প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাসা থেকে বের হচ্ছে না। পুলিশ, র‌্যাবসহ অনান্য নিরাপত্তা বাহিনীর মতো র‌্যাবও শহরের সড়কে মহড়া দিচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় টহল দিয়ে মানুষকে সচেতন করছেন তারা। ঝালকাঠিতে কোনো ক্যাম্প না থাকলেও প্রতিদিনই লেবুখালী সেনাক্যাম্প থেকে সেনাসদস্যরা এসে শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে গিয়ে মানুষকে ঘরে থাকতে বাধ্য করছেন। তারা জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করছেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া) সেবামূলক কার্যক্রমের আওতায় মানবিক সহায়তা হিসেবে রবি ও সোমবার শাহীনবাগ, বালুরঘাট, মানিকদী, বারনটেক, আজিজ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে ৫ কেজি চাল, দেড় কেজি ডাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি পিয়াজ, ১ কেজি লবণ, ১ লিটার তেল ও ২টি সাবান-সংবলিত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণ করে। সমুদ্র ও উপকূলীয় নদ-নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের সতর্ক ও তাদের পরিবারকে সচেতন করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে নৌবাহিনীর ৯টি জাহাজ। নৌবাহিনীর সদস্যরা এসব ছোট-বড় ট্রলার ও মাছ ধরার নৌকায় নিয়োজিত জেলেদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সংক্রমণ রোধে নিয়মিত মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের পরিবারের মধ্যে সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। জেলেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মাস্ক ও জীবাণুনাশক সাবান প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গরিব ও দুস্থদের চাল, ডালসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। জেলেদের সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে গভীর সমুদ্রের সেন্টমার্টিন এলাকায় নৌবাহিনীর জাহাজ বঙ্গবন্ধু ও নির্মূল, কক্সবাজারে বানৌজা নির্ভয়, কুতুবদিয়ায় বানৌজা সৈকত, পাথরঘাটায় বানৌজা পদ¥া, বরগুনায় এলসিটি ১০৪, ভাসানচরে এলসিইউ ০৩, পায়রা বন্দরের ধলেশ্বরী এবং চঁাঁদপুরে তিস্তায় নিয়োজিত রয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টসমূহ নিয়োজিত আছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত নৌবাহিনীর জাহাজ ও কন্টিনজেন্টসমূহের এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান থাকবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর