শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:১৬

ঢাকার পর চট্টগ্রাম খুলনায়ও ঢোকা বাহির নিষেধ

কঠোরভাবে অবাধ চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ

মসজিদে ওয়াক্তে ৫ ও জুমায় ১০ জনের বেশি অংশ নিতে পারবেন না, দোকানপাট শপিং মল ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ, কাঁচাবাজার ও সুপার শপ সন্ধ্যার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ, সেনা পুলিশ র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা

বিশেষ প্রতিনিধি

কঠোরভাবে অবাধ চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ

রাজধানীসহ সারা দেশের রাস্তায় রাস্তায় সেনা, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের ঘন ঘন টহলের পরও মানুষের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাধার মুখে নানা অজুহাতে তারা কখনো একলা, কখনো সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে ঘুরতে বের হচ্ছেন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে ঘরে থাকা, প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে না যাওয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও অধিকাংশ মানুষ সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। এমন অবস্থায় সরকার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মসজিদে না গিয়ে বাড়িতে বাড়িতে নামাজ আদায় করার আহ্বান জানিয়েছেন। দোকানপাট, শপিং মল আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ওষুধের দোকান ছাড়া ঢাকাসহ সারা দেশের সব দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি সোহেল রানা এ কথা জানিয়েছেন। সুপারশপ ও স্বীকৃত কাঁচাবাজারগুলো ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে। পাড়া-মহল্লার মুদিদোকানগুলো খোলা থাকবে ভোর ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত। চালু থাকবে শুধু ওষুধের দোকান। পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা ইতিমধ্যে এই নির্দেশনা সম্পর্কে সুপারশপগুলোকে জানিয়ে দিয়েছেন। সরকার-ঘোষিত সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে বন্ধ করার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দোকান (ফার্মেসি) ছাড়া রাজধানীতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে মসজিদে প্রতি ওয়াক্তের নামাজে পাঁচজন এবং জুমার নামাজের জামাতে সর্বোচ্চ ১০ জন অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সারা দেশে ওয়াজ মাহফিলসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্য ধর্মের অনুসারীদেরও উপাসনালয়ে সমবেত না হয়ে নিজ নিজ বাসস্থানে উপাসনা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা ছাড়া অন্য যে কোনো মুসল্লিকে নিজ নিজ বাসস্থানে নামাজ আদায় এবং জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। তবে মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজে সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং জুমার জামাতে সর্বোচ্চ ১০ জন শরিক হতে পারবেন। জনস্বার্থে অন্য মুসল্লিরা মসজিদের ভিতরে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, দেশের কোথাও ওয়াজ মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলিগি তালিম বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা যাবে না। সবাই ব্যক্তিগতভাবে তেলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করবেন।

ঢাকার পর চট্টগ্রাম খুলনায়ও ঢোকা বাহির নিষেধ : করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ঢাকার পর চট্টগ্রাম ও খুলনায়ও প্রবেশ ও বাহির নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পুলিশ। এই দুই নগরের প্রতিটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সেখানে যানবাহন ও মানুষকে তল্লাশি করা হচ্ছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ছাড়া কাউকে ঢাকায় বা চট্টগ্রামে প্রবেশ ও বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। যারা বের হচ্ছেন বা প্রবেশ করছেন তাদের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হতে হচ্ছে। করতে হচ্ছে জবাবদিহি। কাক্সিক্ষত জবাব দিতে না পারলে ঘরে ফেরার অনুরোধ করছে পুলিশ। এরপর ও বিনা কারণে বের হলেই গুনতে হয়েছে জরিমানা। রবিবার করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঢাকায় ঢুকতে এবং বের হতে দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশনা জারি করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি বলেন, এখন যে যেখানে আছে, সেখানে অবস্থান করাই ভালো। এরপরই ঢাকার প্রবেশপথের চেকপোস্ট জোরদার করে পুলিশ। কারণ ছাড়া কাউকে প্রবেশ বা বের হতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং ঘরে অবস্থানের বিষয়টিও দেখভালে নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকায় প্রবেশের সব প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গাবতলী, সাইনবোর্ড, ডেমরা, ৩০০ ফুট, আবদুল্লাহপুর, পোস্তগোলা ও বাবুবাজার ব্রিজে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়েছে। এছাড়া রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্পটে পুলিশ ও র‌্যাব চেকপোস্ট বসিয়েছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা কঠোর অবস্থানে ছিলেন। বসানো হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিনা কারণে বাইরে বের হওয়া ৩২ জনকে গুনতে হয়েছে জরিমানা। গার্মেন্টকর্মী সোনিয়া আক্তার জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্ট কাজ করেন। তিনি গতকাল নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রাবাড়ীতে স্বজনের বাসায় আসার পথে সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে বাসায় ফিরে যান। ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান জানান, জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে জরুরি সেবা ছাড়া একক বা দলবদ্ধভাবে বাইরে ঘোরাফেরা নিষেধ করেছে আইজিপি। পরবর্তী সরকারি নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ মানুষকে ঢাকায় প্রবেশ ও বের হতে দেওয়া হবে না। আমরা আইজিপির নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছি। মানুষকে ঢাকায় প্রবেশ ও বের হতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ঘরে অবস্থানের ব্যাপারেও চেকপোস্টে সচেতন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম লকডাউন : গতরাত ১০টা থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রামণ রোধে চট্টগ্রাম নগরী লকডাউন ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীতে জরুরি সেবা, চিকিৎসা, ভোগ্যপণ্য, আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া কেউ প্রবেশ এবং বের হতে পারবে না। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রোধে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন. প্রতিদিন নগরীতে অনেক লোক আসা-যাওয়া করেন। বর্তমান সময় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নির্দেশনা কার্যকর করতে ইতিমধ্যে নগরীর বিভিন্ন প্রবেশপথ ও অভ্যন্তরীণ রুটে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু, কালুরঘাট সেতু, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, সিটি গেট ও অক্সিজেন মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়। এর আগে, রবিবার রাতে নগরীতে সন্ধ্যার পর ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকান বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি ও দুই উপজেলা এক্সট্রিম ঘোষণা : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকা, সদর ও বন্দর উপজেলাকে এক্সট্রিম পর্যায়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ৬ এপ্রিল থেকে কেউ অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসাবাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। কেউ অহেতুক বাসা থেকে বের হলে তার ওপর প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। গত রাতে জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিনের সভাপতিত্বে জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, সিভিল সার্জন মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, ‘এখন থেকে আমরা জিরো টলারেন্স। কোনো এলাকা থেকে কেউ বের হবে না। নারায়ণগঞ্জে ঢোকা ও বের হওয়া বন্ধ থাকবে। এখন নারায়ণগঞ্জ বেশ গুরুত্বপূর্ণ সে কারণে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। সোমবার থেকে পিপিই প্রস্তুত করা ও বিদেশি অর্ডার ছাড়া বাকি সব গার্মেন্ট বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি ভালো না হওয়া পর্যন্ত আমরা কঠোর থাকব। তিনি আরও জানান, ‘ইতিমধ্যে আমাদের মাইকিং চলছে। অলিগলি বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরে রাত থেকেই মাইকিং শুরু করেছে প্রশাসন। এতে বলা হচ্ছে, ‘আপনারা কেউ রাস্তায় বের হবেন না। বের হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- রাজশাহী : মানুষকে ঘরে রাখতে আরও কঠোর হয়েছে রাজশাহীর প্রশাসন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গতকাল সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। সভায় রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা এবং সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় এ বিভাগে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হলে কী করণীয় সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মানুষকে ঘরে রাখতে প্রশাসনের কঠোর হওয়া এবং সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় আইনের প্রয়োগ করে মানুষকে আপাতত বাড়িতে রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সড়কে জরুরি কাজে নিয়োজিত এবং পণ্য পরিবহনকারী গাড়ি ছাড়া অন্য যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সভা শেষে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলায় শুধু ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য কোনো দোকান খোলা যাবে না বলেও মাইকিং করা হচ্ছে। রাজশাহী শহরে প্রবেশের আগে কয়েকটি মোড়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। রাস্তায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। এ ছাড়া জনসমাগম ঠেকাতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। বরিশাল : ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর দায়ে নগরীর বাংলাবাজার এলাকায় এক ব্যক্তিকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শারীরিক দূরত্ব না মেনে দোকানে আড্ডাসহ গণজমায়েতের সুযোগ করে দেওয়ায় নগরীর আমতলা মোড় ও সাগরদী ব্রাঞ্চ রোডে দুই দোকানদারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মাইকিং করে সবাইকে নিজ নিজ ঘরে থাকার জন্য প্রচারণা চালিয়েছেন। গণজমায়েত রোধ এবং শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বরিশালে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের জোরদার টহল চলছে। ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে নির্দেশ অমান্যকারী যান আটকে দিচ্ছে। এ সময় নির্দেশ অমান্যকারী যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয় তারা। গাজীপুর : রাজধানীতে প্রবেশ কিংবা বের হওয়াতে কড়াকড়ি আরোপ করার প্রভাব পড়েছে রাজধানী-সংলগ্ন জেলা গাজীপুরে। গতকাল সকাল থেকেই গাজীপুরের টঙ্গীসহ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। যানবাহন থামিয়ে সড়ক-মহাসড়কে চলাচলের কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যুক্তিসঙ্গত কারণ না পেলে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও অপরাধ কর্মকান্ড বন্ধে কাজ করছেন তারা। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সকালে ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, অটোসহ অন্যান্য ছোট ছোট গাড়ি চলতে দেখা গেছে। বাস-পিকআপ-ট্রাক এসবের পাশাপাশি ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলেও অনেকে যাচ্ছেন দূর-দূরান্তে। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে এসব গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়। করোনাভাইরাস সচেতনতায় র‌্যাবের পক্ষ থেকেও সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে মাইকিং করতে দেখা গেছে। কুমিল্লা : ১৮টি থানা এলাকায় পুলিশের নিত্যপণ্যের ভ্রাম্যমাণ দোকান চালু হয়েছে। গতকাল এই দোকান উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার মো. সৈয়দ নুরুল ইসলাম। তিনি সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর, বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি, দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ বাজারে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। করোনা সংক্রমণের পুরোটা সময় পুলিশের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পুলিশ সুপার বলেন, ‘আপনারা সবাই ঘরে থাকুন। পুলিশ নিত্যপণ্য নিয়ে আপনাদের দরজায় উপস্থিত থাকবে।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া : নাসিরনগরে সরকারি আদেশ অমান্য করে দলবদ্ধ হয়ে অবস্থান ও ঘোরাফেরা করায় ১৩ ব্যক্তিকে অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী এ অভিযান চালান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী জানান, করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার যেসব আদেশ দিয়েছেন তা লঙ্ঘন করে অনেকে দোকান খোলা রাখার চেষ্টা করেছেন। আবার অনেকে দলবদ্ধভাবে অবস্থান ও ঘোরাফেরা করছেন। নাসিরনগর আশুতোষ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, কলেজ মোড়, নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আড্ডা দেওয়ার সময় ১৩ জনকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশ আগের চেয়ে কিছুটা কঠোর হয়ে মাঠে নেমেছে। সিদ্ধিরগঞ্জের প্রবেশপথে বসানো হয়েছে পুলিশের ১০টি চেকপোস্ট। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লার রাস্তায় অকারণে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রবিবার রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন সম্মতিক্রমে নারায়ণগঞ্জ শহরের সদর উপজেলাধীন সিদ্ধিরগঞ্জ, সদর ও ফতুল্লা থানা এলাকাকে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল আলম জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরের সদর উপজেলাধীন সিদ্ধিরগঞ্জ, সদর ও ফতুল্লা থানা এলাকার কাউকে বাইরে যেতে দেওয়া হবে না এবং বাইরে থেকে কাউকে ভিতরে প্রবেশ করতেও দেওয়া হবে না। সরেজমিন সিদ্ধিরগঞ্জের প্রবেশপথ শিমরাইল মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে কথা হলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজিজুল হক জানান, গতকাল ভোর থেকে প্রবেশপথগুলোয় থানা পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। কালিয়াকৈর : উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় গতকাল দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও কালিয়াকৈর-নবীনগর মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সালনা হাইওয়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করেছে। এ সময় তারা কোনো যাত্রীবাহী পরিবহন রাজধানী ঢাকার দিকে প্রবেশ করতে দেয়নি। সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েকটি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নিত্যপণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া সব পরিবহনে তল্লাশি করা হয়, যাতে কোনো যাত্রী চলাচল করতে না পারে। বড়াইগ্রাম (নাটোর) : নাটোরের বড়াইগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫২ জনকে ৬৭ হাজার ৮৫০ টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পারভেজ উপজেলার আহম্মেদপুর, বনপাড়া, ধানাইদহ, রাজাপুর ও জোনাইল বাজারে অভিযান চালিয়ে গত পাঁচ দিনে ওই অর্থদন্ড প্রদান করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পারভেজ বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে জনসমাগম সীমিত, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে অভিযুক্তদের অর্থদন্ড দেওয়া হয়। দন্ডপ্রাপ্তদের অধিকাংশ বিনা প্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করছিলেন। নকলা (শেরপুর) : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার-ঘোষিত ঘরে থাকার নির্দেশনা বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাব কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে মানুষকে সচেতন করতে টহল ও মাইকিং করছেন তারা। গতকাল উপজেলার সাপ্তাহিক হাটের দিন সকাল থেকে র‌্যাবের টহল টিমকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে সচেতন হতে এবং টহল দিতে দেখা গেছে। বোয়ালমারী (ফরিদপুর) : ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গতকাল অভিযান চালিয়ে চারটি দোকানসহ ২১ ব্যক্তিকে ১৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির আহমেদ। পাথরঘাটা (বরগুনা) : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও উপজেলার আবদুস সালাম আইডিয়াল মাদ্রাসা খোলা রাখায় প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুস সালামকে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল সকালে মাদ্রাসায় পাঠদানরত অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে আইন অমান্য করে দোকান খোলা রাখার দায়ে পৌর শহরের পাঁচ ব্যবসায়ীকে ৪ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

লালমনিরহাট : মাস্ক ছাড়া এবং অপ্রয়োজনে বাইরে বের হওয়ার কারণে বিভিন্ন হাট-বাজারে অভিযান পরিচালনা করে ৯৩ ব্যক্তিকে ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টসহ অলিগলিতে ১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই ১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে নানা অপরাধে ৯৩ ব্যক্তিকে ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন। এর বাইরে তারা দিনব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালান। কুষ্টিয়া : কুমারখালীতে নির্দেশনা অমান্য করে মদের দোকান খোলা রেখে বিক্রি এবং মদপানের অভিযোগে চারজনকে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে দোকানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরে কুমারখালী শহরের গোহাটপট্টিতে অবস্থিত মদের দোকানে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান। নাটোর : গতকাল সকাল থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। শহরের মাদ্রাসা মোড়, স্টেশন বাজার, কানাইখালী পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, নিচাবাজার ছায়াবাণী মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল আরোহীদের থামিয়ে তাদের কাগজপত্র তল্লাশি করে এবং বের হওয়ার কারণ জানতে চায় পুলিশ। এ ছাড়া কাগজপত্র না থাকলে সেসব যাত্রীর মোটরসাইকেল আটক এবং ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার জন্য মামলা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি শহরে সেনাবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর