শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ মে, ২০২০ ২৩:৫৪

রাশিয়া ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে শিথিল হচ্ছে লকডাউন

প্রতিদিন ডেস্ক

রাশিয়া ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে শিথিল হচ্ছে লকডাউন

মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস সত্ত্বেও রাশিয়া, ইতালিসহ বেশ কিছু দেশ কড়াকড়ি বা লকডাউন শিথিল করতে যাচ্ছে। এদিকে বিশ্বের সব প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা এখন ৩ লাখ ১০ হাজারে পৌঁছেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ লাখ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, ইউরোপ মহাদেশে এখন মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে এক লাখ ৬১ হাজার ও ১৭ লাখ ৫২ হাজার, উত্তর আমেরিকায় এক লাখ ও ১৬ লাখ ৩৬ হাজার, দক্ষিণ আমেরিকায় ২১ হাজার ও চার লাখ তিন হাজার, ২৪ হাজার ও সাত লাখ ৬২ হাজার, আফ্রিকায় প্রায় আড়াই হাজার ও ৮০ হাজার, ওশেনিয়ায় একশ ১৯ ও সাড়ে আট হাজার।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারীতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৮টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন অন্তত ১৫ লাখ। মৃত্যু হয়েছে ৮৯ হাজার জনের। মৃতের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৭৭। আর আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ৩৮ হাজার একজন। মৃতের হিসাবে তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৩১ হাজার ৬১০। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ২৩ হাজার ৮৮৫। চতুর্থ স্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২৭ হাজার ৪৫৯। আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৩০ হাজার ১৮৩। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২৭ হাজার ৪৫৮। আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৪। উৎপত্তিস্থল চীনে মৃতের সংখ্যা চার হাজার ৬৩৭।

করোনা মহামারীর ফলে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে আফ্রিকাসহ বেশ কিছু স্বল্পোন্নত দেশ। বিভিন্ন দেশে লকডাউন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ফলে ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এ শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০৭-০৮ সালের দিকে খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে যে ধরনের সহিংস পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল তার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। বিশ্ব চাইলে আসন্ন এ সংকট ঠেকাতে পারে, তবে তা করার সময় ফুরিয়ে আসছে। খুব দ্রুতই সম্মিলিতভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

হার্ভার্ড অধ্যাপকের তথ্য : করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আমেরিকা। যেন এই ভাইরাসের তা-বে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই রাষ্ট্র। দেশটিতে প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ওয়ার্ল্ডোমিটার দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ৮৯ হাজার বললেও আমেরিকায় করোনায় মৃতের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি বলে দাবি করেছেন হার্ভার্ডের এক অধ্যাপক। তার দাবি, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এমন প্রায় ২০ হাজার মৃত্যু হিসাবের বাইরেই রয়ে গেছে। ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ওই অধ্যাপক বলেছেন, গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি আমেরিকানের মৃত্যু হয়েছে। ওই একই সময়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছিল ৫২ হাজার ৪২২। অর্থাৎ কমপক্ষে ২০ হাজার মৃত্যু হিসাবের বাইরে রয়েছে। যদি ওই ২০ হাজার যোগ করা হয় তবে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেছেন, হিসাবের বাইরে মৃত্যু হওয়া ৭০ ভাগই ইলিনয়েস, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, নিউইয়র্ক এবং নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের। তবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান এবং নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন বলছে, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজারের মতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাফায়েল ইরিজারি বলেছেন, কানেকটিকাট, নর্থ ক্যারোলিনা এবং পেনসিলভানিয়ায় অনেক মৃত্যুর ঘটনাই অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে হিসাবের বাইরেও অনেক মৃত্যু হয়েছে। এর আগে দেশটির শীর্ষ সংক্রামক বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফসিও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

আক্রান্তে চীনকে ছাড়াল ভারত : বিশ্বব্যাপী তিন লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় চীন ও পেরুকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। গতকাল সকাল পর্যন্ত দেশটিতে ৮৫ হাজার ৯৪০ জনের দেহে কভিড-১৯-এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ১১তম স্থানে উঠে এলেও ভারতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংক্রমণের হার খানিকটা কমতে দেখা যাচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল পর্যন্ত প্রাণঘাতী নতুন করোনাভাইরাসে দুই হাজার ৭৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই হয় উপসর্গবিহীন, নয়তো হালকা উপসর্গ থাকায় মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই দেশজুড়ে লকডাউন দিয়ে দেওয়াও এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

আক্রান্তের সংখ্যায় এক দিনেই যে দুটি দেশকে টপকেছে ভারত, তাদের মধ্যে চীনে গতকাল পর্যন্ত শনাক্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪ হাজার ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়। মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৭ জনের। পেরুতে আক্রান্ত-মৃত্যুর অনুপাত অনেকটা ভারতের মতোই। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত জ্ঞাত আক্রান্ত ৮৪ হাজার ৪৯৫, মৃত্যু দুই হাজার ৩৯২।

রাশিয়ায় শিথিল হচ্ছে লকডাউন : রাশিয়ায় গত কয়েকদিন ধরেই দিনে ১০ হাজারের বেশি কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ করোনায় আক্রান্ত দেশ হয়ে উঠেছে তারা। এরপরও লকডাউন শিথিল করে ব্যবসা-বাণিজ্য ফের চালুর কার্যক্রম শুরু করেছে রুশ সরকার। আগামী মাস থেকে সেখানে শুরু হচ্ছে ফুটবল লিগও। সূত্র : এএফপি।

পুতিন প্রশাসন বলছে, ব্যাপক হারে পরীক্ষার কারণেই রাশিয়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। অথচ ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রায় একই সংখ্যক আক্রান্তের তুলনায় রাশিয়ায় মৃত্যুহার অন্তত ১০ গুণ কম।

এ পর্যন্ত আড়াই লক্ষাধিক রোগী শনাক্তের বিপরীতে সেখানে মারা গেছেন মাত্র ২ হাজার ৪০০ জনের মতো। ফলে করোনা মহামারী বেশ ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি রুশ সরকারের। এই ভরসা থেকেই লকডাউন শিথিল করে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ফের চালুর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন।

রাশিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ২১ জুন থেকে তারা করোনা মহামারীতে স্থগিত হওয়া খেলাগুলো ফের শুরু করছে। তবে সেগুলো হবে আবদ্ধ জায়গায়, অর্থাৎ মাঠে কোনো দর্শক উপস্থিত থাকতে পারবে না।

রাশিয়ায় করোনা সংক্রমণের প্রায় অর্ধেকই হয়েছে মস্কোতে। মে মাসের শেষ নাগাদ শহরটিতে কড়া লকডাউন থাকছে। বাসিন্দারা জরুরি কাজ ও বিশেষ অনুমতি নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া ছাড়া বাইরে যেতে পারছেন না। শপিং মল, দোকানপাট, গণপরিবহনে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ভ্রমণেও কড়াকড়ি তুলে নিচ্ছে ইতালি : এবার ভ্রমণের ওপরও কড়াকড়ি তুলে নিচ্ছে ইতালি। দেশটির সরকার সম্প্রতি এক ডিক্রি জারি করেছে। এর আওতায় আগামী ৩ জুন থেকে ভ্রমণে কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে লকডাউন এরই মধ্যে শিথিল করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। নতুন এই পদক্ষেপের ফলে ইতালিতে প্রবেশের অনুমতি পাবেন ভ্রমণকারীরা। একই সঙ্গে ইতালি থেকেও বিভিন্ন দেশে যাওয়া যাবে।

ভ্রমণে কড়াকড়ি তুলে নেওয়ার বিষয়ে এক ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী গিসেপে কন্তে। গতকাল এটি প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে আগামী ১৮ মে থেকে সেখানকার দোকানপাট এবং রেস্টুরেন্ট খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইতালির মধ্যেও এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচলে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু স্থানে কঠোর বিধি-নিষেধ জারি রয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় দুই মাস ধরে লকডাউন জারি থাকার কারণে দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অর্থনীতিকে আবারও গতিশীল করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ইতালি। যে কয়টি দেশে প্রাণঘাতী করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ইতালি অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের পর ইতালিতেই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত কয়েকদিনে ইতালিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার ৬১০ জন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

স্লোভেনিয়ায় মহামারীর সমাপ্তি ঘোষণা : স্লোভেনিয়া করোনাভাইরাস মহামারীর সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। শিথিল করছে সীমান্ত কড়াকড়ি। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে স্লোভেনিয়াই প্রথম সরকারিভাবে মহামারীর সমাপ্তি ঘোষণা করল।

গত দুই সপ্তহে দেশটিতে দৈনিক করোনাভাইরাসে নতুন আক্রান্ত হয়েছেন সাতজনেরও কম মানুষ। এ পর্যন্ত স্লোভেনিয়ায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৬৪ জন এবং মারা গেছেন ১০৩ জন। গত ১২ মার্চে দেশটি করোনাভাইরাস মহামারী ঘোষণা করেছিল।

বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে বলেছেন, ‘গত দুই মাস ধরে স্লোভেনিয়ায় মহামারী থিতিয়ে এসেছে, আজ ইউরোপে মহামারীর প্রেক্ষাপটে স্লোভেনিয়ার চিত্র সবচেয়ে ভালো।’

মহামারীর এ সমাপ্তি ঘোষণার ফলে করোনাভাইরাসের কারণে সংকটে পড়া নাগরিকরাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যে আর্থিক সাহায্য পেয়ে আসছিল তা মে মাসের শেষ থেকে তারা আর পাবে না। উঠে যাবে অনেক বিধিনিষেধও। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থে নাগরিকদেরকে মাস্ক পরা, দূরত্ব রক্ষা করা, হাত ধোয়াসহ সব সতর্কতামূলক পদক্ষেপই মেনে চলতে হবে। সীমান্তে কড়াকড়ি শিথিলের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্য দেশগুলো থেকে যারা স্লোভেনিয়ায় যাবেন তাদেরকে এখন আর আগের মতো অন্তত সাত দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সরকার। তবে ইইউ এর বাইরের দেশগুলো থেকে যারা স্লোভেনিয়ায় যাবেন তাদের জন্য অন্তত ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার নিয়ম বহাল থাকছে। কেবল কূটনীতিক এবং পণ্য বহনকারীরা এক্ষেত্রে ছাড় পাবেন।

স্লোভেনিয়ায় গত ২০ এপ্রিল থেকেই লকডাউন শিথিল হতে শুরু করেছে। এ সপ্তাহ থেকে চালু হবে গণপরিবহন। আগামী সপ্তাহে চালু হবে স্কুল। সব বার, রেস্টুরেন্ট এবং ছোটখাটো সব হোটেলও আগামী সপ্তাহ থেকে চালু হয়ে যাবে।

 


আপনার মন্তব্য