শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জুলাই, ২০২০ ০০:১৭

পিয়নের অ্যাকাউন্টে ৩০ কোটি টাকা

এমপি পাপুলের বিষয়ে তদন্তে সিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানব পাচারের দায়ে কুয়েতে গ্রেফতার সংসদ সদস্য মো. শহীদ ইসলাম পাপুলের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একটি এজেন্সির একজন পিয়নের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। গতকাল রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান। তিনি আশা করেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবে পুলিশ। কুয়েতে মানব পাচারের দায়ে গ্রেফতার এমপি পাপুলের বিষয়ে কুয়েত সরকার তদন্ত করছে। এমপি পাপুলের বিষয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণসহ আমরা বলব, ধৈর্য ধরুন। সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম, ডিআইজি মো. মাইনুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিআইডি প্রধান বলেন, লিবিয়ায় বাংলাদেশের ২৬ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় ২৬টি মামলা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। এসব মামলায় এ পর্যন্ত ৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে সিআইডি ৩৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একটি এজেন্সির একজন পিয়নও রয়েছেন। সেই পিয়নের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০-৩০ কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনজন মূল হোতাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের ধনসম্পদেরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করেনি সিআইডি। মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ২০ জন আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত তালিকা আপডেড করা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

অতিরিক্ত আইজিপি মাহবুবুর রহমান বলেন, ঢেলে সাজানো হচ্ছে সিআইডি। তদন্তকে আরও গতিশীল করার কাজ চলছে। দেশের প্রতিটি জেলায় তৈরি হবে কার্যালয়, যা তদন্তে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করবে। আগে ৬০ বা ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে মৌখিক স্বীকারোক্তির ওপর সিআইডি নির্ভর করত, এখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ফরেনসিক সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা চলছে। সিআইডি ২২ ধরনের মামলা করে থাকে। ৮২ ভাগ ক্ষেত্রে তারা অভিযোগপত্র দিয়েছে, তবে সাজা হয়েছে ২৪ ভাগ ক্ষেত্রে। ঢাকায় সাইবার থানা স্থাপন করবে সিআইডি। ঢাকায় থানাটি স্থাপন করা হলেও সারা দেশ থেকে অভিযোগ করার সুযোগ পাবেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে ১২টি মানি লন্ডারিং মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। খুব দ্রুতই মামলাগুলো চার্জশিট দেওয়া হবে। এ ছাড়া নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়ার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের যে অভিযোগ উঠছে তা তদন্ত করছে সিআইডি। তার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর